বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২০ ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangladesh Total News

বিশেষ সম্পাদকীয় : ৫ তারিখের পর লকডাউন খুলে দেওয়া হোক

প্রকাশের সময় : ৩০ এপ্রিল, ২০২০ ১০:২৬ : অপরাহ্ণ

বিশেষ সম্পাদকীয় : দীর্ঘ দেড়  মাসের বেশী সময় ধরে সরকারী ছুটির মাধ্যমে দেশের স্কুল-কলেজ , দোকানপাট সব বন্ধ হওয়ায় মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন  আয়ের মানুষেরা নিদারুন আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সম্মানী লোকেরা বিশেষত বেসরকারী স্কুল শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবি ও শপিংমলের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। সমগ্র বিশ্বই এক মহাবিপর্যয়ের মধ্যে দিন অতিবাহিত করছে। পথে ঘাটে গরীব মানুষরা বলছেন, করোনার কষ্টের চেয়েও ক্ষুধার কষ্ট অনেক বেশী। আজ এপ্রিল মাসের শেষ দিন। এ মাসের প্রথম সপ্তাহে দেশের বিজ্ঞজনেরা বলেছিল, এপ্রিল মাস আমাদের জন্য অত্যন্ত ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানীতে এই এপ্রিল মাসে বাংলাদেশে করোনা ভয়ংকরভাবে আক্রমন করেনি। আশা করি রমজানের উসিলায় লক্ষ লক্ষ নিরীহ মানুষের দোয়ার বরকতে আল্লাহ হয়তো এদেশকে আগামী মে মাসেও করোনার ভয়াল আক্রমন হতে রক্ষা করবেন। আশা করা যায়, জুন মাস হতে বাংলাদেশ করোনামুক্ত হবে।
আমাদের অর্থনৈতিক ভিত্তি অত্যন্ত দুর্বল। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে গার্মেন্টস রপ্তানী ও রেমিট্যান্স। দুটোই আজ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ। দীর্ঘদিন গার্মেন্টস বন্ধ রাখলে আমাদের বাজার চীন ও ভিয়েতনাম দখল করে ফেলবে। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়মমাফিক গার্মেন্টস শুরুর করার অনুমতি দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ। করোনার চেয়ে ক্ষুধার জ্বালা অনেক বেশী, আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা যেহেতু মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে উনারা জানেন যে, বস্তিবাসীরা কি অসহনীয় কষ্টে দিনাতিপাত করছে। আর গ্রামের সহজ সাধারণ লোকজনের ন্যায্য অংশ কিছু দুর্নীতিবাজ তথাকথিত চেয়ারম্যান-মেম্বাররা হরণ করে নিচ্ছে। অবশ্য কিছু জনপ্রতিনিধি জনসেবার যে কাজ করছে তা অতুলনীয়। বিশেষ করে তারুন্যের আইকন ক্রিকেটার মাশরাফি একজন জনপ্রতিনিধি হিসাবে অনবদ্য ভূমিকা পালন করছে, যা অন্য জনপ্রতিনিধিদের জন্য অনুকরণীয়। যাহোক মূল কথা হলো, ৫ই মে এর পর হতে লকডাউন শিথিল করে সকল দোকানপাট খোলার সুযোগ না দিলে দেশের লক্ষ লক্ষ ব্যবসায়ী পথে বসবে। অনেক ব্যবসা এমন আছে যা বছরে একবার শুধু রমজান মাসে হয়। তারা প্রচন্ড বিপর্যস্ত হবে। এছাড়াও রোজার ঈদকে সামনে রেখে সবধরনের ব্যবসা চাঙ্গা হয়। তাই জনগণকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে দ্রুততম সময়ে লকডাউন তুলে দেয়া উচিত।
আরেকটি বিষয়, যেটি বেশী প্রয়োজন তা হলো, করোনার আতংক দূর করা। করোনা যেহেতু মারাত্মক প্রাণঘাতী রোগ নয় সে বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরী করা। আমরা খুব সহজে আমাদের কিছু খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে করোনা থেকে মুক্ত থাকতে পারি। কিছুক্ষণ পরপর গরম পানি, কালোজিরা, মধু, কাচা হলুদ, ভিটামিন সি তথা টমেটো ও লেবু, সজনে ডাটা ইত্যাদি পর্যাপ্ত পরিমাণ খেলে সহজেই শরীরে ভাইরাস প্রতিরোধী ক্ষমতা জন্মে।
ইতিমধ্যে ইউরোপের চরম আক্রান্ত দেশগুলোও ধাপে ধাপে লকডাউন তুলে দিচ্ছে। কিন্তু ঐ সব দেশের আর্থিক ভিত্তি অত্যন্ত মজবুত হওয়ায় তাদের সমস্যা ও আমাদের সমস্যা এক হবে না। আমাদের দেশে প্রচুর দিনে আনে দিনে খাওয়ার লোক থাকায় বাংলাদেশে দীর্ঘদিন লকডাউন থাকলে দেশের আর্থিক ব্যবস্থা একেবারেই ভেঙ্গে যাবে। যা ভবিষ্যতে ভর্তুকি দিয়েও কাটিয়ে তোলা সম্ভব হবে না। তাই বৃহত্তর স্বার্থে এইবারের পর ছুটি বা লক ডাউন বর্ধিত করলে তা দেশের অর্থনীতিতে বিশাল বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অসীম দয়ার উপর নির্ভর করে বলতে চাই, এদেশে মে মাসেও করোনার তেমন ভয়াবহ আক্রমন হবেনা ইনশাআল্লাহ। সঠিকভাবে নির্দেশনা দিতে পারলে দেশে খাদ্যসংকটও হবে না। এ বিপর্যয়ের পরে আশা করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিতরে ঘাপটি মেরে থাকা দেশদ্রোহী ও দেশের জন্য ক্ষতিকারক লোককগুলোর শিকড় সমূলে বিনাশ করবেন। যেসব জনপ্রতিনিধি আজ নির্লিপ্তভাবে দিন কাটাচ্ছে কিন্তু হালুয়া-রুটির ভাগের সময় সবার আগে আসেন তাদেরকেও উপযুক্ত শিক্ষা দিবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি প্রতিদিন দেশের প্রতিটি বিষয়ে খবর রাখতে পারেন এই দুর্যোগের মধ্যেও তাহলে দায়িত্বশীল ব্যক্তিগণ কেন ঘরে বসে দিন কাটাবেন। করোনা সেবা দেয়ার জন্য যে হাসপাতালগুলো তৈরী করা হয়েছে তাদের সেবার মান কি রকম তা কি স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় জানে? চ্যানেল আই এর গত ২৮/০৪/২০২০ ইং তারিখের তৃতীয় মাত্রা অনুষ্ঠানটি দেখে বুঝা গেছে কি অবস্থা চলছে এইসব হাসপাতালে।
তাই করোনা যুদ্ধের প্রথম সারির সৈনিক ডাক্তার ও নার্সদেরকে মানসম্পন্ন জীবনরক্ষাকারী পোষাক দিয়ে যুদ্ধে পাঠাতে হবে। না হলে তাদের প্রাণতো যাবে সাথে সাথে দেশেরও বিশাল ক্ষতি হবে। দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে করোনার বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালিয়ে এই দেশকে বাঁচানোর জন্য আমরা সবাই স্ব স্ব অবস্থানে থেকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে, নয়তো আমরা কেউই রক্ষা পাবে না।
পবিত্র মাহে রমজানের উসিলায় আল্লাহ আমাদের এই দেশ ও জাতিকে রক্ষা করুন এটাই প্রার্থনা করছি।


ট্যাগ :

আরো সংবাদ