বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০ ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangladesh Total News

আগামী ১৪ দিন, কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে

প্রকাশের সময় : ৩০ মার্চ, ২০২০ ৭:৩৪ : অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদন : পৃথিবী নামক এই গ্রহের কোন বাসিন্দাই আজ টেনশনমুক্ত নেই। কী গরিব, কী ধনী, কী ক্ষমতাবান, কী ক্ষমতাহীন, সবাই নিজের প্রাণ বাঁচানোর জন্য ইয়া নাফসী, ইয়া নাফসী করছে। নিজেকে বাঁচানোর এক কঠিন প্রতিযোগিতার মাঠে দৌড়াচ্ছে সবাই। বাঁচার এই লড়েইয়ে সবাই আপ্রাণ চেষ্টা করছে।সবাই অনাগত ভবিষ্যতের শারিরীক সংকট ও আর্থিক সংকটকে নিয়ে উদ্বিঘ্ন।

এই ধরাধামের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ও প্রযুক্তিতে উন্নত রাষ্ট্রগুলোও এক ছোট্ট ভাইরাসের শক্তির কাছে কুপোকাৎ।কত অসহায়ভাবে এই আত্মসমর্পণ তা শুধু ইটালীর প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে বের হওয়া আওয়াজই বলে দেয়। যখন তিনি বলেন, আমাদের করার কিছুই নেই।আকাশের উপর যিনি আসীন আমরা তার মুখাপেক্ষী, আমাদের ক্ষমতা শেষ।বিশ্বের সর্বাধিক ক্ষমতাধর দেশ আমেরিকা আজ বিশ্ববাসীর কাছে সাহায্যপ্রার্থী। আসলে আল্লাহর ক্ষমতার কাছে আমরা মানবজাতি কত অসহায় তা এই করোনা ভাইরাস আক্রমনে সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তবুও মানুষের ঔদ্ধত্যের সীমা নেই, এখনো পৃথিবীর বুকে নিরপরাধ মানুষ হত্যা কমেনি, অন্যায়-অবিচার ও পাপাচার থামেনি। অথচ সুরক্ষিত বার্মিংহাম প্যালেসে বিট্রিশ রাজত্বের অহংকারের জায়গাতেও এই ভাইরাস ছোবল হেনেছে। এই অবস্থায় আমাদের মতো সহায়হীন জাতি যে এখনো এই অবস্থায় আছি তা একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অসীম দয়া ব্যতীত আর কিছুই নয়।

দুনিয়াতে বাঁচতে গেলে সৃষ্টিকর্তার দয়া যেমন পেতে হয় তেমনি নিজের বিবেকবুদ্ধি সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে চলতে হয়, নয়তেো পৃথিবীতে নিজের অস্তিত্ব রাখা সম্ভব নয়। তেমনি করোনা ভাইরাস এর এই কঠিন সংক্রমনকালীন সময়ে আমাদেরকে বাঁচাতে হলে বেশ খানিকটা কষ্ট সহ্য করতে হবে।এই কষ্ট সহ্য করবো আমাদের মা-বাবা-সন্তান-ভাই-বোন সবার অস্তিত্বের স্বার্থে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন, নিজের স্বার্থে ও দেশের স্বার্থে তা আমাদের মেনে চলতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতার কোন ঘাটতি নেই, কিন্তু সমস্যা হয় যারা ২৭০০০ টাকা দামে বালিশ কিনে, সেসব দুর্নীতিপরায়ন কিছু লোকের জন্য, প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়। তবে জাতি হিসেবে আমাদের দোষও কম নয়।স্বনামধন্য সাংবাদিক মুন্নী সাহার উপস্থাপনায় রোববার রাত এটিএন নিউজে যখন ‘অমানবিক করোনা’শীর্ষক অনুষ্ঠানটি দেখছিলাম তখন নিজের অজান্তেই চোখের কোণ বেয়ে পানি পড়ে যায়। আমরা কতটা স্বার্থপর হলে ঢাকা মেডিকেলের একজন ডাক্তারকে ঘর ভাড়া দেই না, করোনা আক্রান্ত রোগীকে ফ্ল্যাটে ঢুকতে দিই না, করোনা আক্রান্ত রোগী মারা গেলে তার লাশ দাফন করতে দিই না, করোনা রোগের আরোগ্য লাভের জন্য হাসপাতাল নির্মাণে বাধা দিই।

বিনা কারণে কিছু লোক করোনা ভাইরাস নিয়ে কাল্পনিক আতংকিত হচ্ছেন ও গুজব ছড়াচ্চেন। করোনা ভাইরাসে শুধুমাত্র যাদের শ্বসনতন্ত্রে জটিলতা অর্থাৎ অ্যাজমা, যক্ষা ও ব্রংকাইটিস আছে, যাদের ক্যান্সার আছে, কিডনী ও লিভার জটিলতা আছে, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ আছে এবং উচ্চ ডায়বেটিস আছে তাদের জন্য অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। নচেৎ এটি সাধারণ সর্দি-কাশি ও জ্বরের মতো একটি উপসর্গ। কিন্তু আমাদের দেশে করোনা নিয়ে এক নির্মমতা শুরু হয়েছে, কারো সর্দি-কাশি-জ্বর হলে তাকে এলাকায় ঢুকতে দেয়া হচ্ছেনা। কারো এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তার পরিবারকে অচ্যুত ভাবা হচ্ছে। কিন্তু আমরা চিন্তা করছি না যদি, আমি, আমার পিতা-মাতা এই অসুখে আক্রান্ত হয় আর আমি যে আচরণ করছি তা আমাকে ভোগ করতে হয় তাহলের কী কষ্টটাই সেদিন লাগবে। আমাদের মানবিকতা জাগাতে হবে। আমি ইচ্ছেমতো বাজার করে ঘরে আরামে ঘুমাবো আর প্রতিবেশীদের দুঃখ দূর করতে সাহায্য করবো না, তাহলে একদিন আমাকেও দুঃখে পড়তে হবে।

আজকে ইউরোপের এই মৃত্যুরাজ্যের একটি কারণ হচ্ছে পরিবারহীনতা বা বৃদ্ধ মা-বাবাকে ওল্ডহোম বা বৃদ্ধাশ্রমে দিয়ে আসা। ইটালী ও স্পেনে ওল্ড হোমের কেয়ারটেকাররা স্বার্থপরভাবে পালিয়ে গেছে। একারণে শ’য়ে শ’য়ে বৃদ্ধরা মারা যাচ্ছে।

স্বাভাবিক সময়ে সারা দেশে দৈনিক কমপক্ষে একশতের অধিক বৃদ্ধ ব্যাক্তি বার্ধক্যজনিত জ্বর বা শ্বাসকষ্ট নিয়ে মারা যায়। অথচ এখন মারা গেলে আমরা অহেতুক আতংকিত হচ্ছি। আপনি যতই আতংকিত হবেন ততই আপনারর দেহের স্বয়ংক্রিয়ভাবে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়বে। আতংকিত নয় সচেতন হোন। করোনায়  স্বাভাবিকভাবে মানুষ সেরে উঠে। আমাদের করোনার আক্রমন থেকে বাঁচতে হলে সবাইকে আগামী ১৪ দিন ঘরের মধ্যে থাকতে হবে। চলাচল যতো কম হবে ততই এই রোগ কম ছড়াবে। ঘনবসতিপূর্ণ এই দেশে এই রোগ ছড়ালে পরিস্থিতি যে কী ভয়ানক  হবে তা অকল্পনীয়। আমি আবার বলছি, তা অকল্পনীয়। আজকে সরকারকে পুলিশ, সেনাবাহিনী নামিয়ে মানুষকে ঘরের ভেতরে রাখতে হচ্ছে। কিন্তু খোদা না করুক ঢাকার রাস্তায় ৫০টা করোনা আক্রান্ত মৃতদেহ পড়ে থাকলে পুলিশ গিয়ে উল্টো জোর করে ঘর হতে মানুষকে বের করতে হবে, আমরা হচ্ছি সেই হুজুগে জাতি। অবাক হতে হয়, যখন দেখা যায় বিদেশ প্রত্যাগত কোন ব্যক্তির বাড়ি পুলিশ লকডাউন করলো, আর শ’য়ে শ’য়ে মানুষ তার বাড়ি দেখতে ভিড় জমাল, কী তাজ্জব বিষয়। এর কোনো ব্যাখ্যা কোন জ্ঞানবান লোক খুজে পাবে না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে বিনীত নিবেদন, জরুরী ভিত্তিতে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদেরকে নূন্যতম সুরক্ষা পোষাক দিন, নয়তো এরা আক্রান্ত হয়ে এই রোগ ছড়াতে পারে। আইনশৃংখলা বাহিনীর মাধ্যমে সারাদেশের গরীব দুঃখী মানুষদের সহায়তা করুন। এক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি সৎ ও স্বেচ্ছাসেবী তরুনদেরও সম্পৃক্ত করতে পারেন। মোটামুটি যারা সচ্ছল আছে তারা সবাই যাতে সাধ্যমতো পাড়া-প্রতিবেশীদের সহায়তা করে তার জন্য গণমাধ্যমে উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচী গ্র্রহণ করুন। মৃতদেহ সৎকারের জন্য পর্যাপ্ত জনবল তৈরি করুন এবং এ বিষয়ে অহেতুক আতংক দূর করুন।স্বাস্থ্যকর্মীদেদরর মাঝে পর্যাপ্ত পিপিই প্র্রদান করা হোক যাতে তারা নিশ্চিন্তে মানবসেবা করতে পারে। আর সব সেক্টরে ভর্তুকি দেয়ার পরিবর্তে লক-ডাউন এর মেয়াদ প্রয়োজনে কিছু দিন বৃদ্ধি করে হলেও একেবারে নিশ্চিন্তে চলাচল শুরু করার চেষ্টা করতে হবে। আরেকটি বিশেষ কথা হচ্ছে, এদেশে প্রচুর প্রতিভাবান বিজ্ঞানী দেশে ও বিদেশে রয়েছে, অহেতুক করোনা চিকিৎসায় ব্যবহার্য ‌যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য দ্রব্যাদি আমদানি না করে দেশে তৈরীর জন্য পুরষ্কার ঘোষণা ও অর্থ বরাদ্দ দিন, দেখা যাবে এক মাসের মধ্যে আমরাই সব জিনিস তৈরী করতে পারবো। ইতিমধ্যে ডাঃ বিজন এর মতো মহৎপ্রাণ ব্যক্তি তাঁর কিছু নমুনা দেখিয়েছেন।বিজ্ঞজনেরা বলেন, প্রতিটি সংকট একটা সম্ভাবনার পথ তৈরী করে যদি সেই সংকটকে সঠিকভাবে মোকাবেলা করা যায়। যদি আমরা করোনাকে সামলে নিতে পারি ও পিপিই সহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক জিনিস তৈরি করতে পারি তবে গার্মেন্টস সেক্টরে এই দুর্যোগকালীন সময়ে আরেকটি সম্ভাবনা তৈরী হতে পারে। করোনার জন্য পৃথিবী বন্ধ হবে না। প্রয়োজনে মানুষ পিপিই পরে সব কাজ করবে, কিন্তু তারপরও পৃথিবীর চলমান কাজ চলবে।অধিক সংখ্যক পরীক্ষা ও অধিক আইসোলেশশন এটাই করোনা জয়ের সবচেয়ে বড় উপায়। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া যা ইতিমধ্যে করে দেখিয়েছে, আমাদের এই মাটির শ্রেষ্ট সন্তান সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশবাহিনী সহ অন্যান্য আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা দিবানিশি যে পরিশ্রম করছে তা অতুলনীয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক আমরা আরো কিছুদিন গৃহে অবস্থান করবো ও কৃচ্ছতা পালন করবো তবেই করোনা থেকে আমরা নিজ পরিবার ও দেশকে মুক্ত রাখতে পারবো। একটু কষ্ট হলেও জীবন বাঁচানোর স্বার্থে আমাদেরকে তা সহ্য করতে হবে। আগামী ১৪ দিন যদি দেশে করোনা বিস্তার রোধ করা যায় তাহলে আমরা দীর্ঘমেয়াদী সুখ ভোগ করতে পারবো। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সবাইকে হেফাজত করুন, আমীন।


ট্যাগ :

আরো সংবাদ