শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯ ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Bangladesh Total News

সবসময় দু:স্থ-গরীবদের সাধ্যমতো সাহায্য করার চেষ্টা করি- আমজাদ হোসেন হাজারী

প্রকাশের সময় : ২৭ অক্টোবর, ২০১৯ ২:০৭ : অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদন: জনাব আমজাদ হোসেন হাজারী অসাধারণ উদার মনের ও বিশাল অন্তরের একজন মানুষ। যে কোন মানুষের বিপদে যিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন ও সাধ্যমত সাহায্য করেন। এক সময়ের তুখোড় এই ছাত্রলীগ নেতা বর্তমানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীনে সুপারিনটেনডেন্ট পদে চট্টগ্রাম কাষ্টমস হাউসে কর্মরত। এছাড়াও তিনি চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও সিলেট বিভাগীয় কাষ্টম অফিসার সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি নিরহংকার এই মানবসেবকের সাক্ষাতকার নিয়েছেন বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি এর বিশেষ প্রতিবেদক ও সিনিয়র রিপোর্টার।

১. বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি: আপনি অত্র এলাকায় কত বছর ধরে বসবাস করছেন এবং এই এলাকার কি কি সমস্যা আপনার চোখে পড়ছে?
জনাব আমজাদ হোসেন হাজারী: ধন্যবাদ আপনাকে। আমি দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরেরও অধিক সময় এই লালখান বাজার চাঁনমারী রোড এলাকায় বসবাস করি। আমি এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা। লালখান বাজার চট্টগ্রামের ঘনবসতিপূূর্ণ একটি এলাকা। দেশের অন্যান্য স্থানের মতো এই এলাকার প্রধান সমস্যা সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসা, ঘিঞ্জি বস্তি, ভাঙাচোরা রাস্তা।
২. বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি: এই সমস্যাগুলো সমাধানে কি করণীয় বলে আপনি মনে করেন?
জনাব আমজাদ হোসেন হাজারী: সমস্যাগুলো আসলে কোন প্রতিষ্ঠানের একক সমস্যা নয়। সমস্যাগুলোর সমাধানের জন্য সামষ্টিকভাবে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। সন্ত্রাস নির্মূলের জন্য আইন শৃংখলা বাহিনীর যেমন কঠোর ভূমিকা দরকার, তেমনি স্থানীয় জনগনকেও এগিয়ে আসতে হবে। সাধারণ জনগণ যদি সন্ত্রাসীদেরকে আশকারা না দেয়, তাহলে সহজেই সন্ত্রাস মোকাবেলা করা সম্ভব। মাদক নির্মূলে সামাজিক সচেতনতা তৈরী করতে হবে। সব সেবাদান সংস্থা যদি একই সাথে রাস্তা কাটে তাহলে কর্পোরেশন একবারেই ভালোভাবে কার্পেটিং করতে পারে। কিন্তু এখন দেখা যায়, একেক সংস্থা কিছু দিন পরপর রাস্তাঘাট কাটাকাটি করে বিধায় সিটি কর্পোরেশন সঠিকভাবে রাস্তা মেরামত করতে পারে না। আর ঘিঞ্জি বস্তিতে কমিউনিটি পুলিশিং চালু করলে অপরাধের মাত্রা হ্রাস পাবে। বিশেষত অনেকে প্রায়ই মতিঝর্না বস্তির কথা বলে। কিন্তু বেশীর ভাগ লোক জানে না যে, এটি একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গা। জায়গাটি নিয়ে হাইকোর্টে মামলা চলছে।
৩. বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি: পাহাড় ধ্বস ঠেকানোর জন্য কী আপনারা এলাকাবাসী কোনো উদ্যোগ নিয়েছেন?
জনাব আমজাদ হোসেন হাজারী: মনে রাখবেন, জীবনের মূল্য সবচেয়ে বেশী। একজন সুনাগরিক ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসাবে প্রতিটি বর্ষা মৌসুমে জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ ও আমরা সচেতন স্থায়ী নাগরিকরা পাহাড়ের পাদদেশ ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের ডেকে নামিয়ে এনে স্থানীয় স্কুল কম্পাউন্ডে থাকার ব্যবস্থা করি।
৪. বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি: বিদ্যুৎ ও পানি প্রাপ্তিতে এই এলাকায় কোন সমস্যা আছে কিনা?
জনাব আমজাদ হোসেন হাজারী: বর্তমান সরকার দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে যুগান্তকারী কার্যক্রম চালিয়েছে তার কারনে এখন একেবারেই বিদ্যুৎ সংকট বা লোড শেডিং নেই। একইভাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ চট্টগ্রাম ওয়াসা এই এলাকার পানি সমস্যার সমাধান করেছে।
৫. বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি: আপনি কি ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন?
জনাব আমজাদ হোসেন হাজারী: মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বয়স যদিও কম ছিল বা যুদ্ধ করার মতো ছিল না, তবুও আমার যুদ্ধের স্মৃতি আমার পরিস্কার খেয়াল আছে। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অগ্নিঝরা ভাষন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের মাধ্যমে শুনে সেই কিশোর বয়সে শরীরে শিহরন জাগতো। তখন থেকেই আমি বঙ্গবন্ধুর জন্য পাগল। আমি চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজে পড়াকালীন ১৯৮২ সাল হতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলাম। চট্টগ্রামের অবিসংবাদিত রাজনীতিবিদ জনাব এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রচন্ড ঝুঁকি নিয়ে আমরা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করেছি।
৬. বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি: আমরা জানি একজন পরোপকারী ব্যক্তি হিসাবে এলাকায় আপনার অনেক যশ-খ্যাতি আছে। মানবসেবার এই শিক্ষা আপনি কোথায় লাভ করেছেন?
জনাব আমজাদ হোসেন হাজারী: মানবসেবার এই শিক্ষা আমি আমার পরিবার ও আমার রাজনৈতিক দীক্ষা গুরু এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কাছ হতে শিক্ষা লাভ করেছি। যেহেতু এই এলাকায় আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা তাই জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এখানকার লোকজনকে আমি আমার সাধ্যমত সহায়তা করে আসছি। বিশেষ করে দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ায়, দরিদ্র মেয়েদের বিয়েতে, দরিদ্র লোকদের অসুখে-বিসুখে এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে আমি সাধ্যমতো সহায়তা করার চেষ্টা করি। আমি মনে করি মানবকল্যাণই সব মহৎ কাজ।
৭. বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি: বর্তমানে যুবকরা খেলাধুলা বিমুখ হওয়ার কারণ কি? এর সমাধানের উপায় কী?
জনাব আমজাদ হোসেন হাজারী: মূলত: এখনকার প্রজন্ম হলো কম্পিউটার জেনারেশন অর্থাৎ কিশোর যুবকরা সারাদিন কম্পিউটার গেমিং অথবা ফেসবুকে ব্যস্ত থাকে। আর এখন খেলাধূলার জায়গার বড় অভাব। আগে এই এলাকায় প্রচুর খেলাধূলার মাঠ ছিল যেমন- এখনকার রেডিসন ব্লু যেখানে হয়েছে সেটি বিশাল মাঠ ছিল, জমিয়তুল ফালাহর সামনেও মাঠ ছিল, যুবকেরা সেখানে গিয়ে খেলাধূলা করতো । কিন্তু এখন মাঠের প্রচন্ড প্রভাব: নতুন খেলোয়াড়ও সৃষ্টি হচ্ছে না। লালখান বাজার সরকারি রেজিষ্ট্রেশনকৃত জলসা ক্লাব এর খেলাধূলার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য আমার নেতৃত্বে সব ধরনের সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছি।
৮. বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি: ভালো কাজ সমূহ করতে কি আপনি প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছেন কিনা?
জনাব আমজাদ হোসেন হাজারী: অবশ্যই, আপনি সমাজে ভালো কাজ করতে গেলে অবশ্যই প্রতিকূলতার সম্মুখীন হবেন। কিন্তু মেধা ও বুদ্ধি যোগে প্রশাসনের সহযোগীতায় এইসব সমস্যা কাটিয়ে উঠেছি।
৯. বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি: আমরা জানি বর্তমানে চাকরিতে আসার পূর্বে আপনি পরিবহন সেক্টরে যুক্ত ছিলেন ও নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরিবহন সেক্টরের যে সমস্যা আছে সেগুলোকে নিয়ে কী কিছু বলবেন?
জনাব আমজাদ হোসেন হাজারী: আপনি একটি যুগোপযোগী প্রশ্ন করেছেন। সরকারী চাকরিতে যোগদানের পূর্বে আমার পরিবহন ব্যবসা ছিল। সেই সূত্রে পরিবহন ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিলাম। ২০০১ পর্যন্ত আমি বাস-পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। পরিবহন সেবা আসলে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সেবার একটি বড় মাধ্যমে। এ শহরে স্বল্পমূল্যের হিউম্যান হলার সার্ভিস আমিই প্রথম চালু করেছিলাম। বিআরটিএ এর নিয়ম মোতাবেক লাইফ টাইম পার হওয়া গাড়িগুলোই বেশী দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে। বিআরটিএ ফিটনেসবিহীন কোন গাড়ীকে রাস্তায় চলতে অনুমতি দেয় না। আসলে আমাদের এই শহর এলাকার সার্ভিসে গাড়ীর কোন সংকট নেই। মূলত: সকাল ও বিকালবেলা গার্মেন্টস ছুটির সময় ইপিজেড এর গার্মেন্টস কর্মীদের পরিবহন করার জন্য বিপুল সংখ্যক বাস রিজার্ভড হয়ে যাওয়ায় তখন সড়কে যাত্রীর তুলনায় গাড়ীর সংখ্যা কমে যায়। ঐ সময়ে বাসে গাদাগাদি করে মানুষ ওঠে। গার্মেন্টস গুলো নিজস্ব পরিবহন বাস চালু করলে এই সমস্যার পুরোটা লাঘব হবে বলে আশা রাখি।
১০. বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি: নারীরা বাসে অনেক বিড়ম্বনার স্বীকার হয়, এটা কিভাবে রোধ করা যায়? নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালু করা যায় কিনা?
জনাব আমজাদ হোসেন হাজারী: এটা আসলে জনসচেতনতার বিশাল অভাব বোধের কারনে হয়। প্রত্যেকটা বাসে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন থাকলেও কিছু অবিবেচক পুরুষযাত্রী তা দখল করে বসে থাকে এবং নারী যাত্রী উঠলেও আসন ছেড়ে দেয় না। এনিয়ে বাস কন্ডাকটরদের সাথে প্রায়ই ঝগড়াঝটি হয়। আর নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ বাস সার্ভিস রাস্তায় নামাতে হলে তা সরকারকেই নামাতে হবে। কেননা, ভর্তুকি দিয়ে পাবলিক সার্ভিস চালানো সম্ভব নয়।
১১. বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি: জনপ্রিয় মেট্রো সার্ভিস এর কিছু অনিয়ম পরিলক্ষিত হয় তা কিভাবে রোধ করা যায়?
জনাব আমজাদ হোসেন হাজারী: আসলে মেট্রো সার্ভিস চালু করা হয়েছিল জনগণের অধিক আরামের জন্য, কিন্তু বাসের অপ্রতুলতার জন্য সিটিং এই সার্ভিস যাত্রী পাচ্ছে কম। যত্রতত্র থামালে যাত্রীর সাথে এক প্রকার প্রতারণা করা হয়। এই সার্ভিসের উন্নয়নের জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
১২. বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি: আপনার পরিবার এর সদস্য সংখ্যা ও পরিচিতি জানাবেন কি?
জনাব আমজাদ হোসেন হাজারী: আমার পরিবারে মোট সদস্য সংখ্যা পাঁচ জন। আমি, আমার স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে। আমার স্ত্রী হালিম বেগম হাজারী এজন লব্ধ প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিনি, চট্টগ্রাম চেম্বার, উইমেন চেম্বার এর সদস্য। মেট্রো পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি। বড় ছেলে এবার প্রেসিডেন্সী স্কুল হতে এ-লেভেল পরিক্ষার্থী’, ছোট ছেলে ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ক্লাস ফোরে আর একমাত্র মেয়ে প্রেসিডেন্সী স্কুলে ক্লাস এইটে পড়তেছে।
আপনার মূল্যবান সময় আমাদেরকে দেওয়ার জন্য বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি এর পক্ষ থেকে আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।


ট্যাগ :

আরো সংবাদ