বুধবার, ৩ জুন ২০২০ ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangladesh Total News

বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি সুস্থধারায় পরিচালিত না হলে, ছাত্ররাজনীতির গৌরবময় ইতিহাস কালের কৃষ্ণ গহ্বরে হারিয়ে যাবে : চাকসু ভিপি

প্রকাশের সময় : ২৬ অক্টোবর, ২০১৯ ৩:৩৯ : অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : উপমহাদেশের বিশাল রাজনৈতিক বিজয় অর্জনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তৎকালীন সময় থেকে আজ পর্যন্ত যুবছাত্র সমাজের ভূমিকা একটি অহংকারের জায়গা দখল করে আছে। ৪৭ এর দেশ বিভাগের পর হতে ছাত্র জনতার যৌক্তিক প্রতিবাদ বা আন্দোলনের কাছে স্বৈরশাষকরা বার বার মাথানত করতে বাধ্য হয়েছেন। পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আইয়ুবের শাসন থেকে আজ পর্যন্ত পর্যবেক্ষনে ছাত্রসমাজের আন্দোলনের গৌরবগাথা দেদীপ্যমান। পাশাপাশি এটাও সত্য যে, ছাত্রদের যৌক্তিক প্রতিবাদ বা আন্দোলনে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা জেল, জুলুম, বহিস্কার এমনকি মৃত্যুকে বরণ পর্যন্ত করে নিয়েছেন।
কালের ধারাবাহিকতায় যেসকল ছাত্র আন্দোলন বা সংগ্রামের ফসল আজকের “স্বাধীন বাংলাদেশ”। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে প্রবাহমান সময় পর্যন্ত অনেক বাধা-বিপত্তি ছাত্র আন্দোলনের মুখে তিরোহিত হয়ে সগৌরবে ছাত্র রাজনীতির একটি মর্যাদার আসনে অধিষ্টিত। তাই জাতি বিগত সময়ে ছাত্র আন্দোলনগুলোকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে।
ছাত্র রাজনীতি, বিগত সময়ে ছাত্র নেতাদের শিক্ষা সম্পর্কিত আন্দোলনে ভূমিকা, ক্যাম্পাসভিত্তিক ছাত্ররাজনীতিতে ছাত্রদের সহবস্থান ও শিক্ষাবান্ধরব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আমরা কথা বলেছি বর্তমান চাকসু ভিপি জনাব নাজিমুদ্দীন এর সাথে।
১. বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি : বর্তমান ছাত্র রাজনীতিকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করছেন?
চাকসু ভিপি : বর্তমান ছাত্র রাজনীতি চলমান অবস্থা দেখলেই মনে হয়, ছাত্র রাজনীতি গভীর খাদে পড়েছে। ছাত্র রাজনীতিবিদরা এই খাদ হতে উঠার আসার চেষ্টা করছেনা। একটু ব্যাখ্যার মাধ্যমে বলি, আমাদের সময় ছাত্ররা শিক্ষার গুণগতমান বাড়ানোর জন্য আন্দোলন করতেন, শিক্ষা প্রতিষ্টানের শিক্ষা বান্ধব পরিবেশ যেন বজায় রাখার প্রচেষ্টায় থাকতেন। শিক্ষকদের সাথে সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত সৌহাদ্যপূর্ণ ও সম্মানযুক্ত। ছাত্রনেতাদের চিন্তা চেতনায় ভিন্নমতাদর্শের প্রতি সহমর্মীতা ছিল। শিক্ষা উপকরণের ন্যায্য মুল্যে পাওয়ার জন্য সরকারের প্রতি ছিল শান্তিপূর্ণ দাবিদাওয়া। আর এই সময়ের ছাত্র রাজনীতি কোন অবস্থাতেই শিক্ষা বান্ধব বলা চলেনা। ছাত্রনেতারা পড়াশোনা থেকে দূরে গিয়ে টেন্ডারবাজিতে যুক্ত। হোস্টেলগুলোর গেস্টরুম পরিণত করেছে টর্চার সেলে। শিক্ষকের প্রতিও সহিংস আচরণ পরিলক্ষিত হয়। নৈতিক শিক্ষার চর্চা না করার দরুন ছাত্রদের দানবীয় আচরণ প্রকাশ পাচ্ছে। শাটল ট্রেনের সিট নিয়ে উপদলীয় কোন্দলে জড়িয়ে পড়ছে একই সংগঠনের ছাত্ররা। আর ভিন্নমতের ছাত্রছাত্রীদের প্রতি সহিংস আচরণের খবর প্রতিনিয়ত গণমাধ্যমে আসছে। একজন গণমাধ্যম কর্মী হিসাবে আপনি বলুন, ছাত্র রাজনীতিকে এই কুরুচিপূর্ণ বলয় থেকে বেরিয়ে আসা কি প্রয়োজন নয় ? লেজুড় ভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি কখনো দল বা দেশের জন্য কল্যাণকর হতে পারেনা। তাই আমাদের সকলের এই ছাত্র রাজনীতি বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। আমি সকল ছাত্রনেতাদের উদ্দেশ্য করে বিনয়ের সাথে বলতে চাই – শিক্ষা, ছাত্র ও দেশের কল্যাণে নৈতিক শিক্ষার চর্চার পাশাপাশি সুস্থ ধারায় ছাত্র-শিক্ষক সমন্বিত আন্দোলনের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতির ইতিবাচক পরিবর্তন হতে পারে।
২. বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি : আপনার সময়কালে ক্যাম্পাসভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি ও বতর্মান ছাত্ররাজনীতি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?
চাকসু ভিপি : দেখুন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র হওয়ার আগে আমার কলেজ ও স্কুলের কিছু স্মৃতির কথা মনে পড়ে যায়। যা আমাকে ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার শক্তি যুগিয়েছে। আমি স্কুলের সমাপনীকালীন ও কলেজে অধ্যায়নরত অবস্থায় ছাত্রদের নৈতিক শিক্ষা কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়ে ভাবতাম। পাশাপাশি প্রগতিধারার ছাত্ররাজনীতি ছাত্রদের জন্য কতটুকু কল্যাণকর তাও আমার ভাবনায় ছিল। আমি ব্যক্তিগতভাবে সকল মতাদর্শের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে, নিজের আদর্শ ও চিন্তা চেতনা বিতর্কের মাধ্যমে উপস্থাপন করতাম। এর ফলে শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট জ্ঞানের পরিধি বা বলয় বেড়েছে। আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতিতে কাজ করা সময়কালে যেসব বিষয়গুলো আমরা জেনে-শুনে-বুঝে করেছি তা ছাত্রদের কল্যানের স্বার্থে। এই কল্যাণমূলক কর্মকান্ডগুলোকে আরো পরিশুদ্ধ করার জন্য ইস্যুভিত্তিক বিতর্ক আয়োজন করা হতো। সাধারণত ক্যাম্পাসভিত্তিক ছাত্ররাজনীতিগুলো অংশ হিসেবে যেসব বিষয়গুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সাথে সমন্বিতভাবে করার চেষ্টা হতো সেগুলো হল – হলে স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য পরিবেশন করা হচ্ছে কিনা, হল সুপারগণ হলের পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম তদারকিতে ভূমিকা রাখছেন কিনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে নিয়মিত খেলাধূলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা হচ্ছে কিনা, সর্বোপরি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে আলাপ আলোচনায় আগামীতে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য নেতা তৈরির স্বার্থে চাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণ, নিরপেক্ষ পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ এবং নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিরা ছাত্রদের কল্যাণে কাজ করার পরিবেশ সৃষ্টি করাই ছিল ক্যাম্পাসভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি।
আর বর্তমান ছাত্ররাজনীতিকে আমি ছাত্ররাজনীতি বলতে চাইনা। কারণ বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শ্রেনীর পড়–য়া ছাত্ররা অনৈতিকতার চোরাবালিতে হারিয়ে যাচ্ছে। তারা এখন টেন্ডারবাজি, শিক্ষকের প্রতি রূঢ় আচরণ, ভিন্ন মতের ছাত্রছাত্রীর সাথে সহিংস আচরণ, অনৈতিক উপায়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে বলপ্রয়োগ করে মেধাহীন ছাত্র ভর্তি, ছাত্রীদের সম্মানহানীসহ নানাবিধ অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। কোন কোন মূল সংগঠনের লেজুড়ভিত্তিক সংগঠন হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে বর্তমান ছাত্রনেতাদের মাঝে আমরা দানবীয় আচরণ দেখতে পাচ্ছি। যা আগামীতে দেশের জন্য অমঙ্গল বয়ে আনতে পারে।
৩. বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি : চলমান ছাত্ররাজনীতি দুর্বৃত্তায়নে নিমজ্জিত, এই অবস্থা থেকে ছাত্ররাজনীতির বেরিয়ে আসার কোন পরামর্শ আছে ?
চাকসু ভিপি : জ্বী, অবশ্যই আছে। আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই যে, সকল রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠন পরিচালিত হোক স্বতন্ত্র একটি নীতিমালার ভিত্তিতে। যেখানে ছাত্ররা ছাত্র-ছাত্রীর কল্যাণে কাজ করবে। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ হতে হবে, অবশ্যই শিক্ষাবান্ধব। ছাত্রছাত্রীরা নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনা যথানিয়মে চালিয়ে যেতে হবে। বাঙ্গালীর গৌরবময় সংস্কৃতি চর্চার একটি চারণভূমি হতে হবে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গন। নতুন সংযোজন বা আবিস্কার যদি ছাত্র-ছাত্রীদের মঙ্গলের জন্য হয় তা গ্রহণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। একইভাবে এটিও বলতে চাই, ছাত্ররা যেন কোন রাজনৈতিক দলের পেটোয়া বাহিনিতে পরিণত না হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল হলের গেস্টরুমগুলো যেন টর্চার সেল না হয়। আর যেসব রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বদানকারী নেতাদের প্রতি বিনয়ের সাথে অনুরোধ করবো, আপনার দল বা ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি হাসিলের জন্য কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের অনৈতিকতার পথ ধরে হাটাবেন না। আর সকল অভিবাবকদের প্রতি আহবান জানায়, আপনার সন্তান কলেজ-বিশ্ববিদ্যায়ে পড়াশোনার পাশাপাশি কি করছেন তার খবর রাখবেন।
৩. বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি : বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের কথা উঠেছে, এই সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কি ?
চাকসু ভিপি : দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি পুরোপুরি ছাত্র রাজনীতির পক্ষে। যেকোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ছাত্ররাজনীতি সম্পর্কিত মতামত দিতে পারে, ওটা দোষের নয়। তবে উপমহাদেশে দেশ বিভাজনের পর থেকে বিশেষ করে পাকিস্তান শাসনামল থেকে বাংলাদেশের নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যূথানের নেতৃত্ব দেয় ছাত্রসমাজ। আমি আপনাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষকে জানাতে চাই যে, উপমহাদেশে যত নৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে, তার পুরোভাগেই ছিল ছাত্রসমাজ এবং ছাত্রসমাজের মাধ্যমে আন্দোলন বেগবান করে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছেছে। আমি উদাহারণস্বরূপ বলতে পারি, ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যূথান ও ৭১’র মহান মুক্তিসংগ্রাম। আর যারা ছাত্র রাজনীতি বন্ধের জন্য পায়তারা করছেন, তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, আপনাদের এই হীন চক্রান্ত অন্তত দেশের স্বার্থে পরিত্যাগ করুন। একজন সৎ, সৃজনশীল ও প্রগতিধারার ছাত্ররাজনীতিবিদকে হওয়া উচিত আগামীতে জাতীয় সংসদের বিশিষ্ট পার্লামেন্টেরিয়ান। তার সততা ও নিষ্ঠায় যখন সে আগামীতে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন সকল ক্ষেত্রে এগিয়ে যাবেন। আর ছাত্র রাজনীতি বন্ধ হলে ক্রমান্বয়ে দেশের জন্য সংগ্রামী চেতনার মানুষ কমবে। ফলে দেশ পিছিয়ে পড়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়।
৪. বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি : বর্তমান ছাত্ররাজনীতিতে যে অবক্ষয় পরিলক্ষিত হচ্ছে এর জন্য কারা দায়ী এবং কিভাবে দায়ী ?
চাকসু ভিপি : আমি আগেই বলেছি, ছাত্ররাজনীতিতে ছাত্র ছাড়া অছাত্র কিংবা পেশি শক্তি ব্যবহারকারী দ্বারা পরিচালিত হলে, তাতে ছাত্র রাজনীতির মৌলিকতা থাকে না। আমি বিশ্বাস করি, অবশ্যই ছাত্ররাজনীতি হতে হবে ছাত্র-ছাত্রীদের কল্যাণের স্বার্থে। আমরা যখন ছাত্র রাজনীতির একজন সাধারণ কর্মী ছিলাম ছাত্র-ছাত্রীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে যৌক্তিক আলাপ-আলোচনা হত। সম্মানিত শিক্ষক মহোদয়দের সাথে সুসম্পর্ক থাকার কারণে সমস্যার সমাধান খুব দ্রুত গতিতে সমাধান করা যেত। শিক্ষা উপকরণ ছাত্র-ছাত্রীদের ক্রয়সীমার মধ্যে রাখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে আলোচনা হতো। ছাত্ররাজনীতিতে অবক্ষয় রাতারাতি হয়নি। ৯১’র পর থেকে যেসব দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল তারা ছাত্রদেরকে তাদের দল বা স্বার্থের জন্য ব্যবহার করেছে। পাশাপাশি ছাত্র নেতারাও ভোগবিলাসীতা গ্রহণ করে অনৈতিকতার ¯্রােতে গা ভাসিয়েছে। তখন থেকেই অবক্ষয়ের সূচনা। ছাত্ররাজনীতির কলংখিত হওয়ার জন্য দায়ী হচ্ছে রাজনীতিবিদরা। যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্টিত থেকে প্রশাসনের সাথে সমন্বিত করে ছাত্রদের ব্যবহার করছে, যা দেশের জন্য অকল্যাণকর।
৫. বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি : আপনি কেমন ছাত্র রাজনীতি চান ? বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সহবস্থান নেই কেন ?
চাকসু ভিপি : আমি প্রথমেই আপনার পরের প্রশ্নটির উত্তর দিতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতি লেজুড়ভিত্তিক হওয়াতে এখন সহবস্থান পরিলক্ষিত হয়না। ভিন্নমতের ছাত্রসংগঠনগুলো এখন আর তাদের নিয়মতান্ত্রিক কর্মকান্ড করতে পারছে না। ফলে ক্রমহ্রাসমানহারে মেধাবী ছাত্রগুলো রাজনৈতিক প্রজ্ঞা হারিয়ে ফেলছে। আমি এই সকল কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা জানাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে সহবস্থান থাকলে অধিকতর মেধার চর্চা হত। ছাত্র সংগঠনগুলো পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধার জায়গা হতো। ইস্যুভিত্তিক বিতর্কে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন অংশগ্রহণ করে উল্লেখিত ইস্যু যদি সমস্যা হয় তা সমাধানের পথ খুজে পাওয়া যেত। আমাদের গৌরবময় সুস্থধারার সংস্কৃতির চর্চায় আরো কিছু আলোকিত সূর্যসন্তান পেতাম। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্স্থুধারার সংস্কৃতি চর্চা না থাকার ধরুন বিদেশী সংস্কৃতি ক্রমান্বয়ে আমাদের গৌরবময় অতীত কালের কৃষ্ণ গহ্বরে হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে ক্রমান্বয়ে নতুন প্রজন্ম হয়ে উঠেছে মানবিক মূল্যহীন চিন্তা-চেতনায়।
৬. বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি : আপনার পরিবারে কে কে আছেন, তারা কি কি করেন ? এখনও চাকসু ভিপি আছেন, ভাবতে কেমন লাগে ?
চাকসু ভিপি : আমি, আমার স্ত্রী এবং তিন সন্তান নিয়ে আমার সংসার। বড় সন্তান যুক্তরাষ্ট্রের একটি কলেজে শিক্ষকতা করছে। মেঝ সন্তান কানাডায় অধ্যয়নরত। আর ছোট সন্তান চট্টগ্রামের একটি কলেজে পড়ছেন। ৮ ফেব্রুয়ারী ১৯৯০ সালে চাকসু নির্বাচনে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য পরিষদ হতে ভিপি নির্বাচিত হয়েছি। অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাতে চাই যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আন্তরিকতার অভাবে এখনো পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নির্বাচন হয়নি। একজন সাবেক চাকসু ভিপি হিসেবে আমাকে এখনো অনেকেই ভিপি নাজিম উদ্দীন নামে ডাকে। মাঝেমাঝে বেশ বিব্রতবোধ করি। যেখানে আমার সন্তান যুক্তরাষ্ট্রের একটি কলেজে শিক্ষকতা করে সেখানে আমি এখনো নির্বাচন না হওয়াতে ভিপি হিসাবে রয়ে গেলাম। যা কোন অবস্থাতেই কাম্য নয়।


ট্যাগ :

আরো সংবাদ