শনিবার, ৪ জুলাই ২০২০ ২০শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangladesh Total News

আসুন ঐক্যবদ্ধভাবে কোভিড-নন কোভিড চিকিৎসা সমস্যার মোকবেলা করি

প্রকাশের সময় : ২৭ জুন, ২০২০ ৬:২৭ : অপরাহ্ণ

ডা. মাহফুজুর রহমান: বাংলাদেশে কোভিড ও ননকোভিড চিকিৎসা সংকট চলছে। একই সাথে চলছে চিকিৎসক সংকট। চট্টগ্রামে এই সংকট প্রবল। এই সংকট নিরসনে প্রস্তাব হলো:-
ক. কোভিড রোগীদের চিকিৎসা
১. চট্টগ্রাম শহরের প্রত্যেক হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণে আলাদা আলাদাভাবে ২৫০ শয্যা থেকে ১ হাজার শয্যার আইসোলেশন সেন্টার থাকতে হবে। যেমন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের নিয়ন্ত্রণে ১ হাজার শয্যা, জেনারেল হাসপতালের নিয়ন্ত্রণে ৫০০ শয্যা, সেনাবাহিনী হাসপতালের নিয়ন্ত্রণে ৫০০ শয্যা, ফৌজদারহাট সংক্রমক ব্যাধি হাসপতালের নিয়ন্ত্রণে ৪০০ শয্যা, পুলিশ হাসপাতাল, বন্দর হাসপাতাল, রেলওয়ে হাসপাতাল, মেমন হাসপাতাল, রেডক্রিসেন্ট হাসপাতাল প্রত্যেকটির নিয়ন্ত্রণে ২৫০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার স্থাপন করতে হবে। ইতোমধ্যে মহান ব্যক্তিদের উদ্যোগে স্থাপিত আইসোলেন সেন্টারগুলোকে যে কোন হাসপাতালের সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে যাতে তারা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দানে সক্ষম হয়,অর্থাৎ রোগী যাতে হাইফ্লো অক্সিজেন, আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সেবা পেতে পারেন।
২. চট্টগ্রাম জেলার প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিয়ন্ত্রণে ২৫০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার স্থাপন করতে হবে। জেলায় ব্যক্তি উদ্যোগে স্থাপিত সেন্টার গুলোকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাথে যুক্ত করতে হবে।
৩. রোগী সরাসরি কোন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার নিয়ম বাতিল করে তাকে যে কোন আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি হওয়ার নিয়ম চালু করতে হবে। রোগী উপসর্গ নিয়ে সরাসরি কোন হাসপাতালে নয় আইসোলেশন সেন্টারে যাবেন, ভর্তি হবেন।
৪. প্রতিটি আইসোলেশন সেন্টারের জন্য শয্যা ভেদে ২টি থেকে ৫ টি করে পিসিআর মেশিন বরাদ্দ করতে হবে। এই মেশিনগুলো আইসোলেশন সেন্টারের নিয়ন্ত্রণে যে হাসপাতাল থাকবে আপাতত সেখানেও ভিন্নভাবে স্থাপন করা যায়। আসোলেশন সেন্টার সেম্পল সংগ্রহ করে সংশিষ্ট হাসপাতালে পাঠাবে এবং দিনে দিনে রিপোর্ট সংগ্রহ করবে। ভেটেনারি বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যে টেস্ট চালু হয়েছে সেখানে আরো তিন চারটি করে মেশিন ও জনবল দিয়ে তাদের আইসোলেশন সেন্টারের সাথে যুক্ত করতে হবে। সেন্টার কোভিড পজিটিভ রোগীদের ভর্তি করবেন, নিগেটিভ রোগীদের তাদের তত্বাবধানে রোগীর বাড়িতে ১৪ দিন আইসোলেশনে থাকতে বলবেন এবং খবরাখবর রাখবেন। প্রয়োজনে দ্বিতীয় বার টেস্ট করাবেন।
৫. আইসোলেশন স্টোরগুলোতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, অন্যান্য যন্তপাতি ও জনবল দিতে হবে যাতে সাধারণ ওষুধ ও সাধারণ মাত্রার অক্সিজেন পর্যন্ত চিকিৎসা দিতে পারে। এরপর অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেলে বা শ্বাস কষ্ট শুরু হলে রোগীকে সংশিষ্ট হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে এবং এই জন্য শহরের প্রতিটি আইসোলেশন সেন্টারে ১ টি করে এমব্যুলেন্স ও গ্রামের প্রতিটি আইসোলেশন সেন্টারে দুরত্ব বিবেচনায় ২ টি করে এমব্যুলেন্স বরাদ্দ দিতে হবে। এমব্যুলেন্সগুলোতে অক্সিজেনসহ অন্যান্য জরুরী সেবা যাতে দেয়া যায় তার ব্যবস্থা করতে হবে।
৬. আপাতত প্রতিটি হাসপাতালের এক চতুর্থাংশ শয্যা কোভিড রোগীদের জন্য বরাদ্ধ দিতে হবে। উপজেলা হাসপাতালসহ প্রতিটি সরকারি আধা সরকারি ও এনজিও হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যাট স্থাপন করতে হবে। হাসপাতালের কোভিড ইউনিটের প্রতি ৫ শয্যার জন্য ভেন্টিলেটরসহ একটি আইসিইইউ শয্যা স্থাপন করতে হবে। অর্থাৎ ১০০ কোভিড বেডের হাসপাতালের জন্য ২০টি ভেন্টিলেটরসহ আইসিইউ শয্যা থাকতে হবে। প্রয়োজনে আরো বাড়াতে হবে।
৭. দ্রুত টেস্টের জন্য বিশ্ব স্বীকৃত কম দামের রেপিড এন্টিজেন টেস্ট চালুর উদ্যোগ নিতে হবে। এই টেস্টে পজিটিভ রিপোর্ট সঠিক আসলেও নিগেটিভ রিপোর্ট বিশ্বাসযোগ্য হয় না। তাই প্রথমে এই টেস্ট করে পজিটিভ রোগীদের ভর্তি করে নিগেটিভ রিপোর্ট পাওয়া রোগীদের পিসিআর টেস্ট এর জন্য পাঠানো যায়। এতে খরচ কমবে।
আমরা জানি ১০০ জন কোভিড রোগীর মাঝে বড়জোর ৩০ বা তার কম জনের জন্য উচ্চতর চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। এই হিসাবে আইসোলেশন সেন্টারগুলোর প্রতি ১০০ জনের মাঝে বড়জোর ৩০ জনকে হাসপাতালে পাঠাতে হবে। এতে হাসপাতালে রোগী কম যাবে এবং উচ্চতর চিকিৎসাদানে ডাক্তাররা গভীরভাবে মনোনিবেশ করতে পারবে। হাসপাতালে থাকা নন কোভিড রোগীরা অধিকতর নিরাপদে থাকবে।
আমাদের ধারণা এইসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে শুধু চট্টগ্রাম নয় সমগ্র দেশের কোভিড রোগীদের চিকিৎসা কিছুটা হলেও নিশ্চিত হবে।

খ. নন কোভিড রোগীদের চিকিৎসা
চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের সাধারণ রোগীরা যারা এখনো কোভিডে আক্রান্ত নয় তারা বিভিন্ন রোগ নিয়ে মহাসংকটে আছেন। কোভিড ছাড়া আরো অনেক রোগ আছে যারা জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগতে পারেন। জ্বর ও শাস্ব কষ্টের রোগীদের ডাক্তাররা দেখতে চান না। আরো কারণ আছে। কোভিড ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার পর লক্ষণ দেখা দিতে গড়ে ৪ থেকে ৬ দিন সময় লাগে। আবার গবেষকদের মতে কোভিডে আক্রান্ত ৩০-৫০ ভাগ রোগীর কোন লক্ষণ উপসর্গই থাকে না। ফলে ডাক্তাররা সাধারণ রোগীর চিকিৎসা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন। হাসপাতালগুলোও সাধারণ রোগী ভর্তি করতে ভয় পান। কারণ ১ জন অজানা কোভিড রোগী যদি কোন ওয়ার্ডে ভর্তি হন তবে সেই ওয়ার্ডের সব ডাক্তার ও রোগীদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা। হাসপাতালে সাধারণ রোগীদের ভর্তির সুবিধার্থে আমাদের প্রস্তাব হলো:
১.প্রতিটি হাসপাতালে শয্যা ভেদে ২ টি থেকে ৫ টি করে পিসিআর মেশিন দিতে হবে। এটি হবে কোভিডের জন্য নির্ধারিত মেশিনের বাইরে। ভর্তিযোগ্য রোগীদের প্রথমে টেস্ট করতে হবে। এরপর কোভিড পাওয়া গেলে আইসোলেশন সেন্টারে পাঠাতে হবে। নিগেটিভ রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।
২.হাসপাতালের বর্তমান আইসি ইউ শয্যা ও ভেন্টিলেটরগুলো নন কোভিড রোগীদের জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে।
এরপরও রোগী এবং হাসপাতালের অজান্তেই কোভিড রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে যেতে পারে। তাই সব হাসপাতালকে এবং সব ডাক্তারকে চিকিৎসার জন্য আসা সব রোগীকেই কোভিড রোগী মনে করে নিজেকে সুরক্ষিত রেখে চিকিৎসার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।
গ. জনবল সমস্যার সমাধান
এই ব্যাপক কাজে জনবলের প্রশ্ন আছে। এই সমস্যার সমাধানকল্পে আমাদের প্রস্তাব হলো:
১.ব্যাপক সংখ্যক পাশ করা টেকনেশিয়ান এখনো বেকার রয়েছে। তাদেও নিয়োগ দিয়ে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।
২ স্বল্প ট্রেনিং দিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নির্দেশনা দিয়ে আইসোলেশন সেন্টারগুলোতে অস্থায়ী ভিত্তিতে গ্রাম ডাক্তারদের নিয়োগ দেয়া যায়। একজন ডিগ্রিধারী ডাক্তারের তত্বাবধানে তারা কাজ করবেন। স্বেচ্ছাসেবীদের অস্থায়ী ভাবে নিয়োগ দেয়া চলে।
ঘ. অর্থ সমস্যার সমাধান
সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যখাতে থোক বরাদ্দ ১০ হাজার কোটি টাকা ও অন্যান্য খাত থেকে নিয়ে মোট ২ হাজার কোটি টাকা চট্টগ্রামকে দিলেই উপরে উল্লেখিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। তবে এই টাকা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে চট্টগ্রামে আসতে হবে।
ঙ.চিকিৎসকদের সুরক্ষা
কোভিড রোগীদের চাইতেও এই মুহুর্তের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো ডাক্তারদের সুরক্ষা দেয়া। তা না হলে চিকিৎসা দিতে ডাক্তাররা ক্রমে বেশি করে অনীহা প্রকাশ করতে থাকবেন, কোভিড- নন কোভিড কোন রোগী চিকিৎসা পাবে না। ইতোমধ্যে ১ হাজার বেশী ডাক্তার ও ৫ হাজারের বেশী স্বাস্থ্যকর্মী কোভিডে আক্রান্ত। আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ সেইসব ডাক্তারদের প্রতি যারা মৃত্যু ভয় উপেক্ষা করে কোভিড নন কোভিড রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। স্বাস্থ্য সেবায় সব ডাক্তারকে ফিরিয়ে আনতে হলে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। যুদ্ধের মাঠের নিয়ম হলো দেশের জন্য প্রয়োজনে জীবন দেয়া। কিন্তু ডাক্তারদের যে নীতিমালা আছে তাতে রোগীর জন্য নিজের জীবন দেয়ার কোন বিধান নেই। তারা নীতি অনুযায়ী যে কোন রোগীর চিকিৎসা দিতে বাধ্য। কিন্তু তিনি যদি মনে করেন কোন রোগী তার মৃত্যুর কারণ হতে পারে তবে তিনি সে রোগী দেখতে অস্বীকারও করতে পারেন। আর এখন অজানা কোভিড রোগীদের কারণে অনেক ডাক্তার সব রোগীকেই বিপজ্জনক মনে করে রোগী দেখা থেকে বিরত থাকছেন। জোর করে তাদের কাজে ফিরানো যাবে না। ডাক্তারদের সুরক্ষাদানের জন্য আমাদেও প্রস্তাবহলো:-
১.চট্টগ্রামের ডাক্তারদের সুরক্ষা সামগ্রী কেনার দায়িত্ব ডাক্তাদের বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধি নিয়ে কমিটি গঠন করে তাদের হাতে দিতে হবে কোন ব্যবসায়ী বা সরকারের হাতে নয়। আমরা দেখেছি সর্ব অঙ্গ ঢাকা সরকারি পিপিই পড়া সত্বেও হাজারের উপর ডাক্তার আক্রান্ত হয়েছেন। তাই আমাদের এই দাবি।
২. আমরা জানি কোভিড ভাইরাস ঢুকে নাক মুখ চোখ দিয়ে। শরীরের অন্য কোন জায়গা দিয়ে কোভিড ঢুকে না। তাই নীচের অঙ্গ ঢেকে রাখার প্রয়োজন খুব একটা থাকার কথা নয়। নাক মুখ চোখকে সুরক্ষা দেয়ার জন্য উন্নত মানের ফেস সিল্ড বের করা যায় কি না সেটা চিন্তা করার সময় এসেছে। ইতোমধ্যেই আমরা প্লাস্টিকজাত দ্রব্য তৈরী করেন এমন দুটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করেছি। তারা সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন। তবে এই ব্যাপারে মান নির্ধারণ করার দায়িত্ব চিকিৎসায় জড়িত ডাক্তারদের নিতে হবে।

চ . আঞ্চলিক ভিত্তিতে প্রতিনিধিত্বশীল, ক্ষমতাবান জবাবদিহীমুলক কমিটি চাই
প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন হবে প্রতিনিধিত্বশীল, ক্ষমতাবান জবাবদিহীমুলক কমিটি। এই লক্ষ্যে আমাদের প্রস্তাব:-
১.চট্টগ্রাম শহর ও জেলার সকল নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সিটি কর্পোরেশনের মেয়রসহ দুইজন প্রতিনিধি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সহ দুইজন প্রতিনিধি, বিভাগীয় কমিশনারসহ দুই জন বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তা, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকসহ দুই জন কর্মকর্তা, চমেক প্রিন্সিপালসহ ২ জন কর্মকর্তা, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকসহ দুই জন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসকসহ জেলা পর্যায়ের দুইজন কর্মকর্তা, পুলিশ কমিশনারসহ ২ প্রতিনিধি, দুই জন সেনা প্রতিনিধি, ২ জন বিডিআর প্রতিনিধি, সিভিল সার্জনসহ দুই জন কর্মকর্তা, প্রতিটি হাসপাতালের তত্ববধায়কসহ দুই জন করে কর্মকর্তা, প্রতিটি হাসপাতালের কোভিট ইউনিট থেকে দুই জন চিকিৎসা কর্মকর্তা, আইসিইউ বিশেষজ্ঞ দুই জন প্রতিনিধি, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ দুই জন প্রতিনিধি, কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের প্রধানসহ দুই জন প্রতিনিধি, বিএম এ, বিপিএমপি এর থেকে দুই জন করে প্রতিনিধি, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ ২ জন করে প্রতিনিধি, দুই জন সাংবাদিক প্রতিনিধি, আইনজীবীদের দুই জন প্রতিনিধি, বন্দর থেকে ২ জন প্রতিনিধি, রেল থেকে ২ জন প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও শিল্প মালিকদের প্রতিনিধি, প্রতিটি কোভিড হাসপাতালের নার্সদের থেকে দুই জন প্রতিনিধি, প্রতিটি কোভিড হাসপাতালে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের থেকে ২ জন করে প্রতিনিধি, প্রতিটি আইসোলেশন সেন্টার থেকে দুই জন করে প্রতিনিধি নিয়ে বড় আকারের একটি ক্ষমতাবান শক্তিশালী কমিটি করতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে কোন মাননীয় সংসদ সদস্য বা সিটি মেয়র বা জেলা পরিষদের চেয়াম্যানকে উল্লেখিত ব্যক্তিদের নিয়ে সভা আহবান করার দায়িত্ব দেয়া যায়। সেই সভায় কোন হাসপাতালের জন্য কি জনবল লাগকে, কি যন্ত্রপাতি লাগবে ইত্যাদি বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এর পর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করতে হবে। স্টিয়ারিং কমিটি দৈনন্দিন কাজ করবে এবং মুল কমিটির কাছে প্রতিনিয়ত জবাব দিবে।
২.এই সময়ে গণতন্ত্র চর্চার কোন সুযোগ নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নির্ধারণ করে দিতে হবে কে মুল কমিটিকে সমম্বয় করবেন, কে সভাপতি বা আহ্বায়ক থাকবেন। স্টিয়ারিং কমিটির কে আহ্বায়ক হবেন এবং সদস্য সচিব থাকবেন তাও এই সময়ে মুল কমিটির সাথে আলোচনা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নির্ধারণ করতে হবে। আমরা মনে করি স্টিয়ারিং কমিটিতে ১ জন সংসদ সদস্য, প্রশাসন থেকে ২ জন রেখে অন্যদের সিনিয়র ও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার থেকে নিয়োগ দেয়াই হবে উত্তম।
৩.এই কমিটির কাছে সরকার প্রধানকে সরাসরি ২ হাজার কোটি টাকা হস্তান্তর করতে হবে, তাদের টেন্ডার ছাড়াই দ্রুতকেনা কাটার অধিকার দিতে হবে। প্রয়োজনে অডিটর জেনারেল অফিসের একজন কর্মকর্তাকে কেনাকাটার স্বচ্চতা তদারকির দায়িত্ব দেয়া যায়। কেনাকেটার জন্য ব্যয়ের হিসাব প্রতিনিয়ত মুল কমিটির কাছে দিতে হবে। কোভিড হাসপাতালের প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের ক্ষমতা এই কমিটির হাতে দিতে হবে।
ছ. বেসরকারি হাসপাতাল
বেসরকারি হাসপাতালের ব্যাপারে আমাদের প্রস্তাব;
প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতাওে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ চালু করতে হবে। প্রতিটি হাসপাতালে ২০টি কোভিড শয্যা ও ৫টি কোভিড আইসিইউ থাকতে হবে। প্রতিবেসরকারি হাসপাতালের জন্য হাসপাতালের বাইরেআইসোরেশন সেন্টার থাকতে হবে যা হবে তাদেও প্রাথমিক রোগী ভর্তি কেন্দ্র। পূর্বে বর্ণিত একই নিয়মে তারা চিকিৎসা করবেন। সরকারকে এই প্রস্তুতির জন্য তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। চিকিৎসা ভেদে সরকারকে ফি নির্ধারণ করে দিতে হবে। নইলে বেসরকারি হাসপাতাল নিয়ে যে অভিযোগ তার নিরসন হবে না।
আমরা মাননীয় সংসদ সদস্য, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিবৃন্দ, বিভিন্ন শ্রম কর্ম পেশার প্রতিনিধিবৃন্দ, প্রশাসনের বিভিন্ন মুখী সামরিক বেসামরিক কর্মকর্তা, সকল সরকারি বেসরকারি ডাক্তারদের কাছে আবেদন জানাই, আপনারা এই দুঃসময়ে ঐক্যবদ্ধভাবে পরিকল্পিত উপায়ে চিকিৎসা সেবা যাতে অব্যাহত থাকে এবং আরো বর্ধিত হয় সে উদ্যোগ নিন। প্রয়োজনে আপনাদের এই উদ্যোগের সাথে বিভিন্ন প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল স্বেচ্চাসেবী সংগঠনকে যুক্ত করুন। আমাদের বিশ্বাস আমাদের প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নিয়ে যদি কোভিড মোকাবেলার উদ্যোগ নেন তবে কোভিড পরবর্তী সময়েও আমাদের সরকারি স্বাস্থ্যখাত এক শক্তিশালী ভিতের উপর দাড়িয়ে যাবে, জনগণ স্বল্ফমুল্যে উচ্চতর স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবে। চট্টগ্রামের সকল প্রগতিশীল রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনকে এই দাবিসমুহের স্বপক্ষে সোচ্চার হওয়ার আবেদন রইলো।

 

ডা. মাহফুজুর রহমান।
আহ্বায়ক, গণ অধিকার চর্চা কেন্দ্র।


ট্যাগ :

আরো সংবাদ