বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০ ২৫শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Bangladesh Total News

যে খাবার খেলে শরীরে করোনা ভাইরাস ধ্বংস হয়

প্রকাশের সময় : ২৪ মার্চ, ২০২০ ৮:৪২ : অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদন : করোনা ভাইরাস এ আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্ট কোন ওষুধ নেই। আমাদের শরীরে প্রতিদিন করোনার মতো শত শত ভাইরাস প্রবেশ করছে এবং শরীর তার নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই ভাইরাসগুলোকে মেরে ফেলে। তাই ভাইরাস রোধের সবচেয়ে ভালো উপায় হলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা। আর এজন্য প্রয়োজন এমন সব খাবার গ্রহণ করা যা দেহের স্বয়ংক্রিয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এই সময়ে বাজারে সুলভভাবে টমেটো পাওয়া যায়। কাঁচা টমেটোতে প্রচুর এন্টিঅক্সিডেন্ট আছে। যা করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। তাই সালাদ করে বা কাঁচা টমেটো ব্যপকভাবে খেতে পারে। এছাড়া কাঁচা হলুদের রসেও প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট  রয়েছে। খেজুর ও কাজু বাদামে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট  আছে। চীনের বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন সকালে খালি পেটে একটুকরো লেবু গরম পানিতে দিয়ে ঐ পানীয় খেলে তাতে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। পৃথিবীর সবচেয়ে ব্শিুদ্ধতম পানি জমজমের পানি খেলেও শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

  • ১. মধু- প্রতিদিন অন্তত এক চা চামচ খাঁটি মধু খান। মধুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ক্ষমতা বলে শেষ করা যাবে না। করোনার উপসর্গ লক্ষণগুলো প্রতিরোধে মধুর ক্ষমতা অতুলনীয়।
  • ২. কালোজিরা: কালোজিরাও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ একটি খাবার। হাদীসে আছে, “একমাত্র মৃত্যু ছাড়া সকল রোগের মহৌষধ কালোজিরা” তাই প্রতিদিন যতবার খুশি অল্প অল্প কালোজিরা খান।
  • ৩. রসুন- শরীরের টক্সিন (ক্ষতিকর পদার্থ) বের করতে রসুনের বিকল্প নেই। এজন্য সুস্থ থাকতে হলে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক কোয়া কাঁচা রসুন খান এতে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।
  • ৪. লেবু পানি- সকাল বেলা খালি পেটে কুসুম কুসুম গরম পানিতে লেবুর রস দিয়ে তা পান করলে শরীরের ঠান্ডাজনিত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
  • ৫. গ্রিন টি: প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে গ্রিন টি তে। গ্রীন টি পানে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, বিশেষত সর্দি, কাশি এই জাতীয়।
  • ৬. আদা: আদা একটি মশলা জাতীয় খাবার হলেও কাঁচা আদার রসে কাশি ও সর্দি অর্থাৎ করোনা ভাইরাস সংশ্লিষ্ট লক্ষণগুলোর প্রতিরোধে অদ্ভুদ জাদুকরী ক্ষমতা আছে। অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান সমৃদ্ধ এই মশলাটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। কাঁচা আদা খেতে হবে, রান্না করা আদায় কোনো ফায়দা নেই।
  • ৭.টমোটো : এই ঋতুতে বাজারে সস্তায় টমেটো পাওয়া যায়। টমেটোতে আছে ভিটামিন সি ও অ্যান্টি অক্সিডেন্টের বিশাল খনি। তাই কম মূল্যে টমেটো কিনে সালাদ বা কাঁচা খান।
  • ৮. হলুদ: প্রাচীনকাল হতে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় হলুদ ব্যবহার করা হয়। মশলা হিসেবে নয় বরং শরীরের রোগ প্রতিরোধ করায় ক্ষমতাও বৃদ্ধি করে হলুদ। কাঁচা হলুদের রসও অ্যান্টি অক্সিডেন্টের এক বিশাল খনি। প্রয়োজনে ভাত রান্নার সময় কাঁচা হলুদ বেটে ছেড়ে দিন।
  • ৯. বিভিন্ন ফলমূল: যে ঋতুতে যে স্থানে যেসব ফলমূল পাওয়া যায় তাতে ঐ এলাকায় লোকের জন্য মঙ্গলকর উপাদান বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন গুণাগুন থাকে। এজন্য বিদেশী বা আমদানিকৃত ফল না খেয়ে বেশী বেশী দেশীয় ফল খান। হাতের কাছে সহজলভ্য ফল আমলকী ও লেবু বেশী খেলে শরীরে ভিটামিন সি স্বল্পতা দূর হয় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। এছাড়াও ডাব, পেয়ারা ও বেদানাতেও প্রচুর অ্যান্টি এক্সিডেন্ট উপাদান আছে।
  • ১০. টকদই: পাকস্থলীর জন্য উপকারী অসংখ্য ব্যাকটেরিয়ার ভা-ার হচ্ছে টকদই। টকদইয়ে রয়েছে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, রিবোফ্লোডিন, ভিটামিন বি-৬ এবং ভিটামিন বি-১২। প্রতিদিন টক দই খেলে ত্বকের উজ্জ্বলতাও বাড়বে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।
  • ১১. খাবারে প্রোটিন রাখা: খাবারে প্রাণীজ প্রোটিনের চেয়ে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন রাখতে হবে বেশী। বিভিন্ন প্রকার ডাল, ব্রোকলি, পালং শাক, বাদাম, পেঁয়াজ কলি, টমেটো ও বাধাকপিতেও প্রচুর প্রোটিন আছে। দুধ, ডিম ও মাছেও প্রচুর প্রোটিন রয়েছে।
  • ১২. সজনে ডাটা: সজনে ডাটার মধ্যে অসম্ভব রকমের ভাইরাস প্রতিরোধী ক্ষমতা রয়েছে। সজনে ডাটা রান্না করে খেলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অসাধারণভাবে বৃদ্ধি পায়। প্রচুর শাকসবজি খেতে হবে, যাতে কোষ্ঠকাঠিন্য না হয়। বিশেষ করে সবধরনের সবুজ শাক, লাউ, পেপে, লাউশাক, করলা ও থানকুনি পাতা খেলে এক্ষেত্রে ভালো সুফল পাওয়া যাবে। আর যাদের সাইনাস বা টনসিলের সমস্যা আছে, তারা কোন ঠান্ডা পানীয় বা আইসক্রীম খাবেন না। ঠান্ডাপানীয় বা আইসক্রীম খেলে করোনা সংশ্লিষ্ট কাশি ও সর্দির ঝুঁকি বাড়ে। সঠিক খাদ্যভ্যাসের মাধ্যমে সহজেই করোনা প্রতিরোধ করা যায়।

 


ট্যাগ :

আরো সংবাদ