শনিবার, ৪ জুলাই ২০২০ ২০শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangladesh Total News

স্বাস্থ্যখাতে থোক বরাদ্দ ১০ হাজার কোটি টাকা থেকে ২ হাজার কোটি টাকা চট্টগ্রামের জন্য বরাদ্দ করুন

প্রকাশের সময় : ২৮ জুন, ২০২০ ৫:২৪ : অপরাহ্ণ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

আজ ২৮ জুন ২০২০ইং সকাল ১০.৩০টায় চট্টগ্রাম গণ-অধিকার ফোরাম উত্তর দক্ষিণ মহানগর শাখার যৌথ উদ্যোগে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে আড়াই ঘণ্টাব্যাপী প্রতীকী অনশন উত্তর জেলার আহ্বায়ক নুরুল হাকিম লোকমানের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়। প্রতীকী অনশনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে এম এ হাশেম রাজু বলেন, চট্টগ্রামের ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পুনরুদ্ধার ও কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যখাতে থোক বরাদ্দ ১০ হাজার কোটি টাকা থেকে চট্টগ্রামের জন্য ন্যূনতম ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ, সরকারি হাসপাতালসমূহে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা, কোভিড-১৯ টেস্টের জন্য আরো ব্যাপক ব্যবস্থা করাসহ পেশকৃত ৭ দফা প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রতীকী অনশনে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন ইকো ফ্রেন্ডস’র সভাপতি ও গণ-অধিকার ফোরামের উপদেষ্টা উত্তম কুমার আচার্য, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআই’র সদস্য মাহবুব রানা, বাংলাদেশ পরিবেশ উন্নয়ন সোসাইটি (বাপউস)’র চেয়ারম্যান এ কে এম আবু ইউসুফ, কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এস এম আবদুল মাবুদ, কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জহিরুল আলম, দক্ষিণ জেলার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আহমদুর রহমান খান, উত্তর জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রায়হান উদ্দিন, দক্ষিণ জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব নুর মোহাম্মদ দোহাজারী, যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ নওশা মিয়া, মহানগর সাধারণ সম্পাদক নুরুদ্দিন হোসেন নুরু, কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী মহাসচিব মোহাম্মদ জানে আলম, মোহাম্মদ নুরুন্নবী, তথ্য গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক নোমান উল্লাহ বাহার, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক আবদুস সাত্তার শামস, সহ-আইটি বিষয়ক সম্পাদক তানভীর আহমদ সিদ্দিকী, অধিকার বিষয়ক সম্পাদক ওচমান জাহাঙ্গীর, সহকারী সম্পাদক মোহাম্মদ এনাম, কেন্দ্রীয় সদস্য রূপম বড়–য়া প্রমুখ। গণ-অধিকার চর্চা কেন্দ্রের আহ্বায়ক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ডা. মাহফুজুর রহমান চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পুনর্গঠনে যে সাত দফা প্রস্তাবনা পেশ করেছেন তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন এবং একীভূতভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

এতে কোভিড নন-কোভিড ও সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার জন্য যে প্রস্তাবনা পেশ করা হয় তাতে বলা হয়: (১) চট্টগ্রাম শহরের প্রত্যেক হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণে আলাদা আলাদাভাবে ২৫০ শয্যা থেকে ১ হাজার শয্যার আইসোলেশন সেন্টার থাকতে হবে। চট্টগ্রাম জেলার প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিয়ন্ত্রণে ২৫০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার স্থাপন করতে হবে। রোগী সরাসরি কোনো হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার নিয়ম বাতিল করে তাকে যেকোনো আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি হওয়ার নিয়ম চালু করতে হবে। প্রতিটি আইসোলেশন সেন্টার জন্য শয্যাভেদে ২টি থেকে ৫টি করে পিসিআর মেশিন বরাদ্দ করতে হবে। আইসোলেশন সেন্টারগুলোতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, অন্যান্য যন্ত্রপাতি ও জনবল দিতে হবে। আপাতত প্রতিটি হাসপাতালের এক চতুর্থাংশ শয্যা কোভিড রোগীদের জন্য বরাদ্দ দিতে হবে। শয্যার সঙ্গে ভেন্টিলেটরসহ একটি আইসিইউ শয্যা স্থাপন করতে হবে। দ্রুত টেস্টের জন্য বিশ্বস্বীকৃত কম দানের রেপিড এন্টিজেন টেস্ট চালুর উদ্যোগ নিতে হবে। (২) চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের সাধারণ রোগীরা যারা এখনো কোভিডে আক্রান্ত নন, তাঁরা বিভিন্ন রোগী নিয়ে মহাসংকটে আছেন, তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। (৩) সকল হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল নিয়োগ প্রদান করতে হবে। (৪) সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যখাতে থোক বরাদ্দ ১০ হাজার কোটি টাকা থেকে ন্যূনতম ২ হাজার কোটি টাকা চট্টগ্রামকে বরাদ্দ করতে হবে। (৫) কোভিড রোগীদের সেবায় নিয়োজিত ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে হবে। (৬) প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ চালু করতে হবে। (৭) উল্লেখিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনে প্রতিনিধিত্বশীল, ক্ষমতাবান, জবাবদিহীমূলক কমিটি গঠন করতে হবে। প্রধান বক্তা উত্তম কুমার আচার্য বলেন, বীরপ্রসবিনী চট্টগ্রাম মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার সূতিকাগার হওয়া সত্ত্বেও চট্টগ্রাম অবহেলার শিকার। চট্টগ্রামে আক্রান্তের সংখ্যানুযায়ী চিকিৎসা ব্যবস্থা একেবারেই অপ্রতুল। ডাক্তারদের সুরক্ষার ব্যবস্থা নাই, ফলে ডাক্তাররা আক্রান্ত হচ্ছেন। করোনা উপসর্গের রোগীদের টেস্টের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নাই। এ ব্যাপারের যথাযথ উদ্যোগ কামনা করছি। বিশেষ অতিথি মাহবুব রানা বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হলে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণকে নিয়ে পদযাত্রাসহ বৃহৎ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। বিশেষ অতিথি এ কে এম আবু ইউসুফ, বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের শতকরা ৮০ ভাগ চট্টগ্রাম থেকে জোগান দেওয়া হলেও চট্টগ্রাম বড়ই অবহেলিত ও বঞ্চিত। অবিলম্বে এই বৈষম্যের অবসান করতে হবে। প্রতীকী অনশন ভঙ্গ করান বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ডা. মাহফুজুর রহমান।


ট্যাগ :

আরো সংবাদ