বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২০ ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangladesh Total News

দরুদ শরীফ পাঠের সুফল

প্রকাশের সময় : ১৬ মে, ২০২০ ১১:৪৮ : পূর্বাহ্ণ

ডেস্ক রিপোর্ট:দরূদ পাঠের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও ফজিলত অত্যধিক। কেননা আল্লাহ তাআলা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সালাত ও সালাম (দরূদ) প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। সুরা আল আহজাব, আয়াত ৫৬  তে আল্লাহ বলেন-

নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দরুদ পাঠান । হে ইমানদারগণ! তোমরা নবীর প্রতি  দরুদ ও সালাম  প্রেরণ কর। [ সুরা আহযাব ৩৩:৫৬ ]

 

অত্র আয়াতে আল্লাহ দরুদ পাঠানোর মর্মার্থ হলো- রহমত। অর্থা‍ৎ আল্লাহ তাআলা বিশ্বনবীর প্রতি অবিরত রহমত বর্ষণ করেন। ফেরেশতাদের দরুদ পাঠানোর মর্মার্থ হলো- রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর রহমত বর্ষণের জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করেন। এই দোয়াই হচ্ছে দরূদ। সুতরাং বিশ্বের ঈমানদাররা, তোমরাও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরূদ পড়।

দরূদ পাঠের গুরুত্ব
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কিয়ামাতের দিন সেই ব্যক্তিই আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে যে আমার প্রতি বেশি বেশি দরূদ পাঠ করে। (তিরমিজি)

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মাতকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যে ব্যক্তির উপস্থিতিতে আমার নাম উচ্চারিত হবে, কিন্তু আমার প্রতি দরূদ পাঠ করবে না, সে বড় কৃপণ। (তিরমিজি)

দরূদ পাঠের ফজিলত
দরূদ পাঠকারীদের সুসংবাদ প্রদানে হাদিসে এসেছে, হজরত আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন- একদিন হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন। তখন তার চেহারায় আনন্দের আভা দেখা যাচ্ছিল। এসেই বললেন, হজরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম আমার কাছে এসেছিলেন এবং বলে গেলেন- হে মুহাম্মদ! আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আপনি কি এতে সন্তুষ্ট হবেন না যে, আপনার উম্মতের কেউ আপনার ওপর একবার দরুদ পাঠ করলে আমি তার ওপর ১০ বার রহমত বর্ষণ করবো। কেউ একবার সালাম পেশ করলে তার প্রতি সালাম পেশ করবো ১০ বার। আল্লাহ আমাদেরকে বেশি বেশি দরুদ পাঠের তওফিক দিন। (নাসাঈ)

অপর বর্ণনায় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরূদ পাঠ করে। আল্লাহ তার প্রতি দশবার রহমত নাযিল করেন, এবং তার দশটি গোনাহ (ছগিরা) মাফ করা হয়, ও তার দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়। (নাসাঈ)

সুতরাং আল্লাহ তাআলার নির্দেশ পালন এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনাদর্শ বাস্তবায়ন করি। পাশাপাশি তাঁর প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ দরূদ পাঠ করে তার শাফায়াত লাভে স্বচেষ্ট হই। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বেশি বেশি দরূদ পাঠ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

নিচে কিছু মূল্যবান দরুদ শরীফ এর বাংলা উচছারন সহ ফযিলত বর্ণনা করা হল।করোনাকালের এই দুঃ সময়ে প্রিয় নবীজির শানে বেশী বেশী দরুদ শরীফ পাঠের মাধ্যমে বিপদ থেকে নাজাত লাভের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে আমরা দয়া ভিক্ষা চাই

দরুদে তাজ

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা সাইয়্যিদিনা ওয়া মাওলানা মুহাম্মাদিন সাহিবিত তাজি ওয়াল মি’রাজি ওয়াল বুরাকি ওয়াল আলাম। দাফিয়িল বালায়ি ওয়াল ওয়াবা’য়ি ওয়াল কাহাতি ওয়াল মারাদ্বি ওয়াল আলাম। ইসমুহু মাকতুবুম মারফুউম মাশফুউম মানকুশুন ফিল লাওহি ওয়াল ক্বালাম। সায়্যিদিল আরাবি ওয়াল আযাম। জিসমুহু মুকাদ্দাসুম মুওয়াত্তারুম মুতাহ-হারুম মুনাউ-ওয়ারুন ফিলবাইতি ওয়াল হারাম। শামসিদ্দোহা বাদরিদ্দুজা সাদরিল উলা নুরিল হুদা কাহফিল ওয়ারা মিসবাহিয যুলাম, জামীলিশ শিয়াম, শাফিয়িল উমাম। সাহিবিল যূদি ওয়ালকারাম। ওয়াল্লাহু আসিমুহু ওয়া জিব্রিলু খাদিমুহু ওয়াল বুরাকু মারকাবুহু ওয়াল মি’রাজু সাফারুহু ওয়া সিদরাতুল মুনতাহা মাকামুহু, ওয়া কাবা কাওসাইনি মাতলুবুহু ওয়াল মাতলুবু মাকসুদুহু ওয়াল মাকসুদু মাওজুদুহ। সাইয়্যিদিল মুরসালীন, খাতিমিন নাবিয়্যিন, শাফী’ইল মুজনিবীন, আনিসীলগারিবীন, রাহমাতুল্লিল আলামিন, রাহাতিল আশিকীন, মুরাদিল মুশতাকীন, শামসিলআ’রিফিন, সিরাজিস সালিকীন, মিসবাহিল মুকার-রাবীন, মুহিব্বিল ফুকারা’য়ি ওয়াল গুরাবা’য়ি ওয়াল মাসাকীন, সায়্যিদিল সাকালাইন, নাবিয়্যিল হারামাইন, ইমামিল ক্বিবলাতাইন, ওয়াসীলাতিনা ফিদ দারাইন, সাহিবিল কাবা কাওসাইনি মাহবুবি রাব্বিল মাশরিকাইনি ওয়াল মাগরিবাইন, জাদ্দিল হাসানি ওয়াল হুসাইন, রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুমা মাওলানা ওয়া মাওলাস ছাকালাইনআবিল কাসিমি সায়্যিদিনা ওয়া হাবীবিনা মুহাম্মাদিবনি (সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়াসাল্লাম) আবদিল্লাহি নূরিম মিন নূরিল্লাহি ইয়া আয়্যূহাল মুশতাকুনা বিনূরী জামালিহী সাল্লু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়াআসহাবিহী ওয়া সাল্লিমু তাসলিমা।

ফযিলতঃ মনের পবিত্রতা লাভের জন্য ফজরের নামাযের পর ৭বার, আছরের নামাযের পর ৩বার, ইশার নামাযের পর ৩ বার পড়তে হয়। এই দুরূদ শরীফ সর্বদা পড়লে মনের বাসনা পূর্ণ হয়। জুমআর রাতে এ’শার নামায শেষে এই দুরূদ শরীফ ১৮০ বার পাঠ কওে শুলে ইনশাআল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর জিয়ারত নসীব হবে। ১১ দিন এই আমল করলে মনের আশা পূর্ণ হবে।

দরূদে মাহী
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা সাল্লি আ’লা মুহাম্মাদিন খাইরিল খালায়িক্বি আফদ্বালিল বাশারি শাফীয়িল উম্মাতি ইয়াওমাল হশারি ওয়ান্নাশরি সইয়্যিদিনা মুহাম্মাদিম্ বিআদাদি কুল্লি মা’লুমিল্লাকা ওয়া সাল্লি আ’লা জমীয়িল আম্বিয়ায়ি ওয়াল মুরসালীনা ওয়াল মালায়িকাতিল মুর্ক্বারাবীনা ওয়া আ’লা ইবাদিল্লাহিস্ সালিহীনা ওয়ারহাম্না মাআ’হুম বিরহমাতিকা ইয়া আরহামার রহিমীনা।

ফযিলতঃ খুব কঠিন বিপদে কিংবা দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হলে ক্রমবৃদ্ধি করে ২১ দিন বা ৪১ দিনে সোয়া লক্ষ বার এই দুরূদ শরীফ পড়িলে সাথে সাথে ফল পাওয়া যায়।প্রত্যেক ফজরের নামাযের পর ৭বার পড়লে স্বাস্থ্য অটুট থাকে, দেহশ্রী লাবণ্যময় থাকে এবং বিপদাপদ থেকে মুক্ত থাকবে।

গুনাহ মাফের দরূদ

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ছাল্লি আ’লা মুহাম্মাদিন কুল্লামা যাকারা হুজ্জাকিরুন । ওয়া কুল্লামা গাফালা আন যিকরিহিল গাফিলুন।

ফযিলতঃ ইমাম ইসমাইল বিন ইব্রাহীম (রাঃ) হযরত ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) কে স্বপ্নে জিজ্ঞেস করেছিলেন, আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন আপনার সাথে কিরূপ ব্যবহার করেছেন? তিনি বললেন, এই দরূদের বরকতে আল্লাহ্ পাক আমাকে মাফ করেছেন ।

দরূদে শিফা
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ছাল্লি আ’লা সয়্যিদিনা মুহাম্মাদিও ওয়া আ’লা আলি সয়্যিদিনা মুহাম্মাদিন, বিআ’দাদি কূল্লি দাইওঁ ওয়া দাওয়াই । ওয়াবি আ’দাদি কুল্লি ইল্লাতিওঁ ওয়া শিফাইন ।

ফযিলতঃ এ দুরূদ শরীফ যেকোন জটিল ও কঠিন রোগ মুক্তির জন্য পড়া প্রয়োজন।প্রত্যহ সকাল সন্ধ্যা ৩বার করে পড়লে মৃত্যু পর্যন্ত নিরোগ থাকা যায়।

দরূদে জিয়ারত
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ছাল্লি আ’লা সয়্যিদিনা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লিম ।

ফযিলতঃ বৃহস্পতিবার রাত্রে একবার আয়তুল কুরসী ও পনেরবার সূরা ইখলাস দ্বারা দু’ রাকাত নফল নামাজ পড়ে এক হাজার বার দরূদে জিয়ারত পাঠ করলে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) কে স্বপ্নে দেখবে এবং তার গুনাহ মাফ হয়ে যাবে ।

দরূদে খায়ের
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা সাল্লি আ’লা সইয়্যিদিনা ওয়া নাবিয়্যিনা ওয়া শাফীয়িনা ওয়া মাওলানা মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আ’লা আলিহী ওয়া আসহাবিহী ওয়া আযওয়াজিহী ওয়া বারিক ওয়া সাল্লিম।

ফযিলতঃ ইহকাল ও পরকালের মুক্তির জন্য এই দরূদ শরীফ কার্যকরী । এই দরূদ পাঠকারীর প্রতি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সহধর্মিনীগণ এবং সাহাবায়ে কেরামদের রূহ মোরারক অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন এবং তার জন্য দোয়া করতে থাকেন ।

দরূদে তুনাজ্জিনা
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ছাল্লি আলা সয়্যিদিনা মাওলানা মুহাম্মাদিন ওয়ালা আ-লি সয়্যিদিনা মাওলানা মুহাম্মাদিন সালাতান তুনাজ্জিনা বিহা মিন জামীয়িল আহ্ওয়ালি ওয়াল আফাত, ওয়া ত্বাক্দি লানা মিন জামীয়িল হাজাত। ওয়া তুতাহ্হিনরুনা বিহা মিন জামীয়িস্ সাইয়্যিআত। ওয়া তারফউনা বিহা ইন্দাকা আ’লাদ্দারাজাত। ওয়া তুবাল্লিগুনা বিহা আকসাল গায়াত মিন জামীয়িল খাইরাত ফিল হয়াতি ওয়া বা’দাল মামাত। ইন্নাকা আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর; বিরহমাতিকা ইয়া আরহার্মা রহিমীন।

ফযিলতঃ পাক সাফ স্থানে বসে ১১১১ বার পাঠ করলে গুরুতর মোকাদ্দামায় ও আশ্চর্য সুফল পাওয়া যায়।প্রত্যহ ফজর ও মাগরিবের পর ১১বার এই দুরূদ শরীফ পাঠ করলে কখনো চাকরি যাবেনা ও রিযিক বন্ধ হবেনা।এই দুরূদ শরীফ ৩বার টাঠ করে ১মুষ্টি মাটির উপর ৩বার ফুঁক দিয়ে কবরের উপর ছিটিয়ে দিলে শিয়াল কুকুর দ্বারা ঐ কবরের লাশ নষ্ট হবেনা।

দরূদে নারিয়া
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ছাল্লি ছালাতান কামিলাতান ওয়া সাল্লিম সালামান তাম্মান আ’লা সাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদিনিল্লাযী তানহাল্লু বিহীল উক্বাদু ওয়া তানফারিজু বিহীল কুরাবু ওয়া তুক্বদ-বিহীল হাওয়ায়িজু ওয়া তুনালু বিহীর রাগাইবু ওয়া হুসনুল খওয়াতিমু ওয়া ইউস্ তাস্কাল গামামু বিওয়াজ হিহিল কারীম, ওয়া আ’লা আলিহী ওয়া ছাহবিহী ফী কুল্লি লাম্হাতিন ওয়া নাফাসিম বিআদাদি কুল্লি মা’লুমল্লাক ।

ফযিলতঃ দুরারোগ্য, বালা-মুছিবত, চাকুরী লাভে, ব্যবসার উন্নতি ও যে কোন আশা পূরণে এবং বিবাহ হওয়ার জন্য ৪৪৪৪ বার পাঠ করলে নিশ্চয়ই সফল হবে।

দরূদে ফতুহাত

উচ্চারণঃ বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা সাল্লি আ’লা সাইয়্যিদিনা ওয়া আ’লা আলিহি বি আদাদি আনওয়াইর রিজক্বি ওয়াল ফুতুহাতি ইয়া বা-সিতাল্লাযী ইয়াব্সুতুর রিয্কা লিমাঁই ইয়াশাউ বিগাইরি হিসাব। উসবুত আলাইনা রিয্কাঁও ওয়াসিআম্ মিন কুল্লি জিহাতিম মিন খাযায়িনি গাইবিকা বিগাইরি মান্নাতিম্ মাখলুক্বিম বিমাহ্দি ফাদ্লি কা ওয়া কারামিকা বিগাইরি হিসাব ।

ফযিলতঃ এই দুরূদ শরীফ ৩বার পাঠ করলে জীবনে কখনো অবনতি ঘটবে না ও ধনে-জনে সমৃদ্ধ শালী থাকবে।

প্রিয় নবী(সাঃ) র নৈকট্য লাভের দরূদ
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ছাল্লি আ’লা মুহাম্মাদিন কামা তুহিব্বু ওয়া ত্বারদ্বা লাহু ।

ফযিলতঃ একদিন এক ব্যক্তি হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলে তিনি তাকে সিদ্দিকে আকবর রাদ্বিআল্লাহু আনহু এবং নিজের মাঝখানে বসালেন তখন উপস্থিত সাহাবায়ে ক্বেরামগণ প্রশ্ন করলেন কেন উনাকে এত নিকটে বসালেন তিনি বললেন যে সে এই দুরূদ শরীফ নিয়মিত পড়ে।

হাউজে কাওছার নসীবের দরূদ
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ছাল্লি আলা সয়্যিদিনা মাওলানা মুহাম্মাদিন ওয়া আ’লা আ-লিহি ওয়া আসহাবিহি ওয়া আওলাদিহি ওয়া আযওয়াজিহি ওয়া যুররিয়াতিহি ওয়া আহলি বায়তিহি ওয়া আসহারিহি ওয়া আরসারিহি ওয়া আশইয়ায়িহি ওয়া মুহিব্বিহি ওয়া উম্মাতিহি ওয়া আলায়না মা’আহুম আজমাঈন ইয়া আরহামার রাহিমীন।

ফযিলতঃ হযরত হাসান বসরী (রাঃ) বলেন, আল্লাহর যে বান্দা এবং রাসূলের যে উম্মত হাউযে কাউসারের পানি পরিতৃপ্ত সহকারে পান করতে চায়, সে যেন এই দুরূদ শরীফটি পাঠ করে।

দরূদে সাআদাত
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ছাল্লি আলা সয়্যিদিনা মুহাম্মাদিন আদাদা মা-ফি ইলমিল্লাহি ছালাতান দায়িমাতান বিদাওয়ামী মুলকিল্লাহি ।

ফযিলতঃ হযরত আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহঃ) বলেছেন, এ দরূদ শরীফ একবার পাঠ করলে ছয় লক্ষ দরূদ শরীফ পড়ার সওয়াব পাওয়া যায় ।

জীবনে সুখ-শান্তিতে থাকার দরূদ
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ছাল্লি আলা সয়্যিদিনা ওয়া নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদিন ছালাতান তুদীমু বিহা বারদাল আইশি ওয়াসসুরূরি ।

সারাদিন দুরূদ শরীফ পড়ার ছাওয়াব
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ছাল্লি আ’লা সইয়্যিদিনা মুহাম্মাদিন ফি আউয়ালি কালামিনা। আল্লাহুম্মা ছাল্লি আ’লা সইয়্যিদিনা মুহাম্মাদিন ফি আওসাতি কালামিনা। আল্লাহুম্মা ছাল্লি আ’লা সইয়্যিদিনা মুহাম্মাদিন ফি আখিরি কালামিনা।

ফযিলতঃ যে ব্যক্তি এই দুরূদ শরীফ দিনে ৩বার এবং রাতে ৩বার পাঠ করবে সে যেন দিন-রাত দুরূদ শরীফ পড়ার ছাওয়াব পবে।

দোজখের আযাব মাফ হওয়ার দুরূদ শরীফ
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ইন্নি আস্বাহতু আশহাদুকা ওয়া আশহাদু হামালাতি আরশিকা, ওয়া মলাইকাতিকা, ওয়া জামী-’ই খলক্বিকা ইন্নাকা আন্তাল্লাহু লা- ইলাহা ইল্লা আন্তা, ওয়াহ্দাকা লা-শারীকালাকা, ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আবদুকা ওয়া রাসূলুকা ।

ফযিলতঃ হযরত আনাস (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসূলে আকরাম (দ:) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি এই দুরূদ শরীফ সকালে বা সন্ধ্যায় ১বার পাঠ করবে, আল্লাহ তার এক চতুর্থাংশ দোজখের আজাব মাফ করবেন এবং দুইবার পাঠ করলে অর্ধেক আজাব মাফ করবেন এবং তিনবার পাঠ করলে তিন চতুর্থাংশ এবং ৪বার পাঠ করলে আল্লাহ তা’আলা তাকে সম্পূর্ণ দোযখের আযাব থেকে রেহাই দেবেন।

দরূদে ইব্রাহীম
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা সাল্লিআলা মুহাম্মাদিঁ ওয়া আলা আলি মুম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহীমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামিদুম্মাজীদ । আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিঁ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা ইব্রাহীমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্মাজীদ ।

দরূদে রু’ইয়াতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা সাল্লি আ’লা সাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদিনি ন্নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ।

ফযিলতঃ হযরত শেখ আব্দুল কাদের জিলানী (রা:) বা বড় পীর (রা:) ‘গুনিয়াতুত্তালিবীন’ এ লিখেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার রাতে দুই রাকাত নফল নামাজ এই নিয়্যতে পড়ে যে, প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহার পর ১বার আয়াতুল কুরসী ও ১৫বার সূরা ইখলাস এবং নামাজ শেষে এই দুরূদ শরীফ ১০০০ বার পড়বে অবশ্যই সে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নে দেখতে পাবে। যদি ঐ রাতে না দেখে তবে ২য় শুক্রবার আসার পূর্বে দেখতে পাবে। এবং তার সমস্ত গুনাহ মাফ হয়ে যাবে।

আশি বছরের গুনাহ মাফ
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ছাল্লি আ’লা সাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যিল উম্মিই ওয়া আ’লা আলিহি ওয়া সাল্লিম ।

ফযিলতঃ রাসূলে পাক ইরশাদ ফরমান যে ব্যক্তি জুমার দিন আছরের পর ৮০বার এই দুরূদ শরীফ পড়বে আল্লাহ তার ৮০ বছরের গুনাহ মাফ করে দিবেন।

মাগফিরাতের দুরূদ শরীফ
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ছাল্লি আ’লা সাইয়্যিদিনা ওয়া মাওলানা মুহাম্মাদিও ওয়া আ’লা আলিহি ওয়া সাল্লিম ।

ফযিলতঃ তাজেদারে মদীনা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ ফরমান যে ব্যক্তি এই দুরূদ শরীফ পড়বে যদি দাঁড়ানো থাকে তবে বসার পূর্বে এবং বসা থাকলে দাঁড়ানোর পূর্বেই তার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।

দুনিয়া ও আখেরাতে নিরাপদ থাকার উপায়
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ছাল্লি আ’লা সায়্যিদিনা মুহাম্মাদিও ওয়া আলিহি ওয়া ছাহবিহি ওয়া ছাল্লিম বি আদাদি মাফি জামিয়িল কুরআনই হারফান্ হারফাও ওয়া বি আদাদি কুল্লি হারফিন আল্ফান আল্ফান ।

ফযিলতঃ যিনি কোরআন তেলাওয়াতের পর এই দুরূদ শরীফ পাঠ করবেন তিনি দুনিয়া ও আখিরাতে নিরাপদ থাকবেন।


ট্যাগ :

আরো সংবাদ