শনিবার, ৬ জুন ২০২০ ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangladesh Total News

১৫ রমজান নবী দৌহিত্র ইমাম হাসান (রা.)’র শুভ জন্ম মোবারক

প্রকাশের সময় : ৯ মে, ২০২০ ১:৩৮ : পূর্বাহ্ণ

ডেস্ক রিপোর্ট: ইমাম হাসান (রাঃ) ৩য় হিজরী’র ১৫ই রমজানের রাতে মদিনায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আমিরুল মু’মিনীন হযরত আলী (রাঃ) ও নারীকূলের শিরোমনি হযরত ফাতেমা যাহরা (রাঃ) এর প্রথম সন্তান। হযরত মহানবী (স.) তাঁর জন্মের পর তাঁকে কোলে তুলে নিয়ে তাঁর বাম কানে ইকামত দেন।

জন্ম ও শৈশব:
ইমাম হাসান (রাঃ) ৩য় হিজরী’র ১৫ই রমজানের রাতে মদিনায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আমিরুল মু’মিনীন হযরত আলী (রাঃ) ও নারীকূলের শিরোমনি হযরত ফাতেমা যাহরা (রাঃ) এর প্রথম সন্তান।
হযরত মহানবী (স.) তাঁর জন্মের পর তাঁকে কোলে তুলে নিয়ে তাঁর বাম কানে ইকামত দেন। অতঃপর একটি দুম্বা কুরবানী করেন এবং তার মাথার চুল কামিয়ে সে চুলের ওজনে রূপা দরিদ্র ও অভাবীদের মাঝে বিতরণ করে তাঁর মাথায় আতর লাগাতে বলেন। আর তখন হতেই মাথার চুলের ওজনে সাদকা দেওয়া ও আকিকা করা একটি সুন্নতে পরিণত হয়।
মহানবী (স.) এ নবজাতকের নাম রাখলে হাসান। জাহিলিয়্যাতের যুগে যে নাম পূর্বে কখনও ব্যবহৃত হয়নি। কুনিয়া হিসেবে ‘আবু মুহাম্মাদ’ নামটিকে তাঁর জন্য বেছে নিলেন। আর এটাই হল তাঁর একমাত্র কুনিয়া। তাঁর উপাধী সমূহের মধ্যে সিবত, সাইয়্যেদ, যাকি, মুজতবা উল্লেখযোগ্য, এর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ উপাধিটি হচ্ছে মুজতবা।
মহানবী (স.) ইমাম হাসান (রাঃ) ও তাঁর ভাই ইমাম হুসাইন (রাঃ) কে অত্যন্ত ভালবাসতেন। তিনি বারংবার বলতেন: হাসান ও হুসাইন আমার সন্তান।
 মহানবী (স.) এর সান্নিধ্যে ইমাম হাসান (আ.)
তিনি শৈশবের ৭টি বছর নিজের নানা রাহমাতুল লিল আলামিন হযরত মুহাম্মাদ (স.) এর সান্নিধ্যে কাটিয়েছেন। মহানবী (স.) তাকে অত্যন্ত ভালবাসতেন। এমনভাবে যে, তাকে কাঁধে নিয়ে বলতেন: হে প্রভু! আমি একে ভালবাসি তুমিও একে ভালবেসো…। যে ব্যক্তি হাসান ও হুসাইন (আ.) কে ভালবাসে, তারা প্রকৃতপক্ষে আমাকে ভালবেসেছে। আর যে ব্যক্তি এঁদের সাথে হিংসা করবে এবং এঁদের সাথে শত্রুতা করবে তারা প্রকৃতপক্ষে আমার সাথে শত্রুতা করেছে।
মহানবী (স.) আরো বলেন: ‘হাসান এবং হুসাইন বেহেশতের যুবকদের সর্দার’।
মহানবী (স.) বলেছেন: এঁরা দু’জন ইমাম; চাই তারা শত্রুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় বা সন্ধি করে নেয়।
তাঁর বয়স কম হওয়া সত্ত্বেও মহানবী (স.) তাকে কিছু কিছু চুক্তির ক্ষেত্রে সাক্ষী হিসেবে রাখতেন। ওয়াকেদী বর্ণনা করেছে যে, সাকিফ গোত্র মহানবী (স) এর সাথে একটি (যিম্মাহ) চুক্তি বদ্ধ হয়। উক্ত চুক্তিনামাটি খালেদ বিন সায়াদ লিখেন এবং তিনি (স.) হযরত হাসান হুসাইন (রাঃ) কে সাক্ষী হিসেবে রাখেন।
এছাড়া যখন আল্লাহর রাসূল (স.) নাজরানবাসীদের সাথে মোবাহেলার জন্য যান তখন ইমাম হাসান, ইমাম হুসাইন, ইমাম আলী (রাঃ) ও হযরত ফাতেমা (রাঃ) কে আল্লাহর নির্দেশে নিজের সঙ্গে নিয়ে যান। আর তাতহীরের (পবিত্রতার) আয়াত তাদের পবিত্রতার সাক্ষ্য হিসেবে অবতীর্ণ হয়।


ট্যাগ :

আরো সংবাদ