শনিবার, ৪ জুলাই ২০২০ ২০শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangladesh Total News

বুড়িগঙ্গার পাড়ে স্বজনদের আহাজারি,সর্বশেষ ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার,অভিযান অব্যাহত

প্রকাশের সময় : ২৯ জুন, ২০২০ ৮:৫০ : অপরাহ্ণ

ডেস্ক রিপোর্ট :রাজধানীর শ্যামবাজার এলাকা সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে লঞ্চডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এতেকরে শ্যামবাজার এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-চাঁদপুর রুটের ময়ূর-২ নামের একটি লঞ্চের সঙ্গে ধাক্কায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চডুবির ঘটনায় সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও কোস্ট গার্ড। নিখোঁজদের উদ্ধারে এখনো অভিযান চলছে।ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দফতরের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার জানান, বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮ নারী ও ৩ শিশুসহ ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।নিখোঁজ অন্যদের উদ্ধারে এখনও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।এদিকে লঞ্চডুবির খবর পেয়ে শ্যামবাজার এলাকায় ছুটে আসছেন স্বজনরা। তাদের কান্নায় আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।এ দুর্ঘটনায় বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ৩০ মরদেহের পরিচয় মিলেছে। তারা হলেন- ১. মিজানুর রহমান, ২. সত্যরঞ্জন বনিক, ৩. শহিদুল, ৪. সুফিয়া বেগম, ৫. মনিরুজ্জামান, ৬. সুবর্ণা আক্তার, ৭. মুক্তা, ৮. গোলাম হোসেন ভুইয়া, ৯. আফজাল শেখ, ১০. বিউটি, ১১. ছানা, ১২. আমির হোসেন, ১৩. মো. মহিম, ১৪. শাহাদাৎ, ১৫. শামীম ব্যাপারী, ১৬. মিল্লাত, ১৭. আবু তাহের, ১৮. দিদার হোসেন, ১৯. হাফেজ খাতুন, ২০. সুমন তালুকদার, ২১. আয়শা বেগম, ২২. হাসিনা রহমান, ২৩. আলম বেপারী, ২৪. মোসা. মারুফা, ২৫. শহিদুল হোসেন, ২৬. তালহা, ২৭. ইসমাইল শরীফ, ২৮. সাইফুল ইলাম, ২৯. সুমনা আক্তার ও ৩০. তামিম।

দুর্ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া যাত্রীদের বেশিরভাগ মুন্সীগঞ্জের। অনেক যাত্রী আছেন যাদের ঠিকানা কাঠপট্টি ঘাটের আশেপাশেই। এদের বেশিরভাগ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। খবর পেয়ে সকাল থেকে মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম পৌরসভার কাঠপট্টি ঘাটে স্বজনদের অপেক্ষা। ঘটনাস্থলে যাওয়ার জন্য দীর্ঘ চেষ্টা। কেউ খবর পেয়েছেন বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের মাধ্যমে আবার কেউ টেলিভিশনে। এখন শুধু মরদেহ কখন আসবে তার জন্য অপেক্ষা।
ডুবে যাওয়া লঞ্চের যাত্রীদের এক স্বজন বলেন, লঞ্চডুবির ঘটনায় আমার চাচি, চাচাতো ভাই ও বড় ভাই নিখোঁজ রয়েছেন। খবর পেয়ে আমি মুন্সীগঞ্জ থেকে ছুটে এসেছি। তবে এখনও তাদের সন্ধান পাইনি।ঢাকায় ডাক্তার দেখাতে আজ সকালে মুন্সীগঞ্জ থেকে তার আত্মীয়রা মর্নিং বার্ড লঞ্চে উঠেছিলেন বলে জানান তিনি।আরেক স্বজন বলেন, আমার মামাতো বোন ও তার দুই সন্তান নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের সন্ধানে আমি এসেছি।তিনি বলেন, আমার মামাতো বোন পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকেন। গ্রামের বাড়ি থেকে সন্তানদের নিয়ে তারা আজ ঢাকায় ফিরছিলেন।সূত্রে জানা গেছে, সকাল পৌনে ৮টার দিকে মর্নিং বার্ড লঞ্চটি অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে মুন্সীগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। পথে শ্যামবাজার পয়েন্টে ময়ূর-২ নামের লঞ্চের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে ডুবে যায় সেটি।কেরানীগঞ্জের একটি ডকইয়ার্ড থেকে মেরামত শেষে ময়ূর-২ নদীতে নামানোর সময় ওই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।তবে ডুবে যাওয়া লঞ্চটি থেকে কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে পাড়ে উঠলেও অন্যরা তলিয়ে যান বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 


ট্যাগ :

আরো সংবাদ