শনিবার, ৬ জুন ২০২০ ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangladesh Total News

ঈদগাহে নয়, মসজিদে মসজিদে ঈদের জামাত

প্রকাশের সময় : ২৩ মে, ২০২০ ১:৩৩ : অপরাহ্ণ

ডেস্ক রিপোর্ট: মহামারি করোনা মোকাবেলায় ও সংক্রমণ বিস্তার রোধে সরকারের নির্দেশনায় এবার ঈদুল ফিতরের জামাত আয়োজনের ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। বিশাল ঈদগাহ ময়দান ও এলাকার বড় মাঠগুলোতে নামাজের জন্য সমবেত না হতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এমনকি জাতীয় ঈদগাহ ময়দানেও ঈদের নামাজ হবে না বলে জানানো হয়েছে।বলা হয়েছে- মাস্ক পরে, বাসা বা বাড়ি থেকে ওজু করে, সামাজিক দূরত্ব মেনে, মসজিদের মেঝে জীবানুমুক্ত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে এবং প্রয়োজনে ব্যক্তিগত জায়নামাজ ব্যবহার করে এবার নিজ এলাকার মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করতে হবে। মুসল্লির অনুপাতে মসজিদগুলোতে কয়েক ধাপে জামাতের আয়োজন করার নির্দেশনাও দিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।এদিকে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবারের ঈদ জামাত আয়োজনে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিকতা নেই। অনুষ্ঠিত হবে না হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহের ঈদ জামাতও।সাধারণত প্রতি বছর, রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের প্রতিটিতে গড়ে পাঁচটি করে ঈদ জামাত আয়োজিত হয়। সংস্কার করা হয় বিভিন্ন এলাকার ঈদগাহ ময়দয়ানগুলো। জাতীয় ঈদগাহে ঈদ জামাত আয়োজন কেন্দ্র করে চলে মহাযজ্ঞ। তবে এবারই সিটি করপোরেশনের কোনো উদ্যোগ থাকছে না ঈদ জামাত কেন্দ্র করে।ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, সরকার ও মেয়র মহোদয়ের নেতৃত্বে এবারের ঈদে আমাদের পক্ষ থেকে ঈদ জামাত আয়োজনের কোনো উদ্যোগ থাকছে না। কোথাও কোনো ঈদ জামাত হবে না। যদি কোনো এলাকায় ঈদ জামাতের উদ্যোগ নিতে দেখা যায় তাহলে প্রশাসন এবং পুলিশ তাদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ব্যবস্থা নেবেন।উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা তাজিনা সারোয়ার বলেন, এ নিয়ে বৃহস্পতিবার মেয়র মহোদয়ের নেতৃত্বে আমাদের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই সভায় ডিএনসিসি আওতাধীন এলাকায় কোনো ধরনের ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত না হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক মেয়র মহোদয় এমন সিদ্ধান্ত দেন।এছাড়াও আসন্ন ঈদ উদযাপন সীমিত করতে বিভিন্ন নির্দেশনার কথা জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

শুক্রবার (২২ মে) আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ১৪ টি নির্দেশনা দেয়া হয়। নির্দেশনাগুলো হলো:

১. ঈদের নামাজের জামায়াতের পূর্বে সম্পূর্ন মসজিদ জীবানুনাশক দ্বারা পরিস্কার করতে হবে।

২. ঈদের নামাজের জামায়াতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণ প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না।

৩. করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধ নিশ্চিতকল্পে মসজিদে প্রবেশদ্বারে সাবান/হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে।

৪. মসজিদের ওযু খানা ব্যবহার না করে প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসস্থান থেকে ওযু করে মসজিদে আসতে হবে এবং ওযু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।

৫. ঈদের নামাজের জামায়াতে আগত ধর্মপ্রাণ মুসল্লীগণকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে।

৬. ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দুরুত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে।

৭. এক কাতার অন্তর অন্তর কাতারবদ্ধ হতে হবে।

৮. করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে মসজিদে জামায়াত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো থেকে বিরত থাকুন।

৯. মসজিদে শৃঙ্খলার সাথে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার ক্ষেত্রে পৃথক পৃথক ব্যবস্থা রাখার জন্য মসজিদ কমিটিকে অনুরোধ করা হলো।

১০. করোনা পরিস্থিতিতে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের বাসায় যাতায়াত করা থেকে বিরত থাকুন।

১১. ঈদের দিন ও পরবর্তী সময়ে বিনোদন কেন্দ্রে যাতায়াত না করে নিজ ঘরে অবস্থান করে পরিবারের সদস্যদের সাথে ঈদ উদযাপন করুন।

১২. ঈদ উদযাপনের লক্ষ্যে যারা ঢাকার বাহিরে যাবেন তারা তাদের বাসা অথবা ফ্ল্যাটের মেইন গেটে অটোলক ব্যবহার করুন এবং বাসাবাড়ী ত্যাগের পূর্বে রুমের দরজা-জানালা সঠিকভাবে তালাবদ্ধ করুন।

১৩. মালিক পক্ষ স্ব স্ব মার্কেট/শপিং মলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করুন এবং আপনার এলাকার থানা/ফাঁড়ির সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখুন।

১৪. খালি বাসায় মূল্যবান সামগ্রী না রেখে ঢাকায় অবস্থান করছেন এমন আত্মীয়-স্বজনদের বাসায় তা রেখে যান।


ট্যাগ :

আরো সংবাদ