বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২০ ২৬শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Bangladesh Total News

পুন:নির্বাচিত হলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে প্রাধান্য দিয়ে একটি মডেল ওয়ার্ড গড়বো: জিয়াউল হক সুমন

প্রকাশের সময় : ২০ মার্চ, ২০২০ ৯:২৩ : অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদন: চট্টগ্রামের বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইপিজেড এলাকা তথা ৩৯নং এর বর্তমান কাউন্সিলর জনাব জিয়াউল হক সুমন এর সাথে আলোচনার প্রথম পর্যায়ে তিনি ৩৯নং ওয়ার্ডের জনগণ ও ভোটারদের উদ্দেশ্যে সালাম ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে বলেন, আমি জনগণের দোয়া ও আল্লাহর রহমতের কারনে ভালো আছি। উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত প্রায় পাঁচ বছরে ৫৬-৫৮টি ছোট বড় রাস্তার মেরামত করেছি। ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকিকরণ করেছি। পানি সহজে নিষ্কাশনের জন্য ছোট ছোট পুল করেছি। তাছাড়া আমার এলাকায় বিভিন্ন খাল ও ড্রেনের পানি সহজে চলাচলের জন্য পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করছি। আমার এলাকায় ১২২-১২৩জন পরিচ্ছন্ন কর্মী ও সেবক আছে। যারা আমার তত্ত্বাবধানে কাজ করে যাচ্ছে, যাতে এলাকার মানুষ সুখে শান্তিতে থাকে। তাছাড়া এটা আমার একটি নির্বাচনী অঙ্গীকারও ছিল। সিটি কর্পোরেশন প্রদত্ত যে সব উন্নয়ন কর্মকান্ড আমার এলাকায় বরাদ্দ হয়েছে তার মধ্যে ৮৫ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে শেষ করতে পেরেছি আর বাকি ১৫ শতাংশ কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। আগামীতে যদি আমি আবার লাটিম মার্কায় নির্বাচিত হই তাহলে বাকি ১৫ শতাংশ কাজ যথাযথভাবে শেষ করবো। যুব সমাজ ও এলাকার গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে অপর প্রশ্নের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি যুবসমাজকে মনে করি জাতির মেরুদন্ড একই সাথে প্রশিক্ষিত, দক্ষ ও শিক্ষিত যুবকরাই জাতিকে একটি কাংখিত স্থানে পৌঁছে দিতে পারে বলে আমি মনে করি। সাধ্য ও সামর্থ্যকে সমন্বয় করে আমি যুবকদেরকে নানাবিধ সাহায্য সহযোগিতা করে থাকি। যেমন শিক্ষার জন্য আসা যুবককে যথাসম্ভব আর্থিক সহযোগিতা করি, কর্মখোঁজা যুবকদের জন্য আমার এলাকায় মিলফ্যাক্টরিতে যারা উচ্চ পদে আছেন তাদেরকে অনুরোধের মাধ্যমে চাকরী পাইয়ে দেয়ার অনুরোধ করি। আর শিক্ষিত যুবক যারা শিক্ষানবিস হিসেবে বিভিন্ন কর্মকান্ড করতে চায় তাদেরকে বিভিন্ন কল-কারখানা ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষানবিস হিসেবে কাজের ব্যবস্থা করে থাকি। আপনি বলেছেন, এলাকায় আমার গ্রহণযোগ্যতার কথা আমি সকল মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলতে চাই যে, একটি মানুষের গ্রহণ যোগ্যতা হয় তার কর্মকান্ড ও নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তার জয়ের মাধ্যমে। বিগত সময়ের কথা আমি বলতে পারি, কর্পোরেশন ও ওয়ার্ড অফিস হতে যে সুবিধা ভোটারগন নৈতিকভাবে পাওয়ার অধিকার রয়েছে তা আমি দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আর আগামীতে আমি যদি আমার এলাকাবাসীর ভোটে ও আল্লাহর রহমতে পুন:নির্বাচিত হই তবেই ধরে নিতে পারেন, আমার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। নিজের কথা নিজে বলা ঠিক নয়।
সাধারণ ভোটারদের সহযোগিতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাকে যেখানে যেভাবে আমার এলাকার ভোটারগণ চেয়েছে আমি সাথে সাথে সাড়া দিয়েছি তাদের সময়ে-অসময়ে কাছে থেকে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করেছি। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, শিক্ষাক্ষেত্রে উপবৃত্তি ও আপদকালীন সময়ে কর্পোরেশন কর্তৃক কোন বরাদ্দ এলে তা জনগণের মাঝে বিলিয়ে দিয়েছি।
জুয়া, মাদক ও নৈতিক অবক্ষয় সম্পর্কে কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন বলেন, আমি নির্বাচিত হওয়ার আগে ৩৯নং এই ওয়ার্ডে কয়েকটি জোয়ার স্পট ছিল। ফলে সংঘাত ও সংঘাতের আশঙ্কা থেকেই যেত। নির্বাচিত হওয়ার পর আমি এই স্পটগুলো প্রশাসনের সহায়তায় সম্পূর্ণ আইনী প্রক্রিয়াকে অবলম্বন করে বন্ধ করেছি। ফলশ্রুতিতে সংঘাত ও সংঘাতের আশঙ্কা শূন্যের কোটায় এসেছে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানকে আমি ব্যক্তিগতভাবে স্যালুট জানাই। তাছাড়া বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মাদক নির্মূলে যে সব পরামর্শ ও নির্দেশ দিয়েছেন আমি অক্ষরে অক্ষরে তা পালন করার চেষ্টা করেছি। মাদকের নির্মূল শতভাগ না হলেও আমি মনে করি আমার এলাকায় ৯০ শতাংশের বেশি নির্মূল করতে পেরেছি। বাকি ১০ শতাংশ চুপিসারে জনঅগোচরে কিংবা ভাসমানেভাবে হচ্ছে এই তথ্য পাচ্ছি। আগামীতে নির্বাচিত হলে ঐ ১০ শতাংশও স্থায়ীভাবে নির্মূল করবো। আপনারা নিশ্চয় অবগত আছেন, ইপিজেড ও বন্দর হওয়ার কারনে কিছু ভাসমান নৈতিকতা বিবর্জিত মানুষের পদচারণা দেখতে পায়। আমি নির্বাচিত হওয়ার পর এই নৈতিক অবক্ষয়ের জায়গাটা ৯৫ শতাংশের বেশি সংকুচিত হয়েছে। এর পরেও উল্লেখিত বিষয় নিয়ে আমি সচেতন আছি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রযুক্তির ব্যবহার তিনি বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় অসংখ্য গার্মেন্টস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। সবখানে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করেছি। একই সাথে প্রযু্িক্ত ও যুবসমাজকে সমন্বয় ঘটিয়ে তাদের জীবনমান উত্তরনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করছি। কিছু ক্ষেত্রে সফল ও সুফল দেখতে পাচ্ছি।
শিক্ষা ও স্থাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার এলাকায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক যে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে আগামীতে আমি নির্বাচিত হলে সেটি ৫০ শয্যা-বিশিষ্ট মাতৃসদন হাসপাতাল করার ইচ্ছা আমার রয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন ইউনিটে কমিউনিটি ক্লিনিক সক্রিয় করে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবো। আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার কাছ থেকে একটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ স্থাপনের জন্য আকুল আবেদন জানাই। কারন আমার সাড়ে ৫ লক্ষ জনসংখ্যার জন্য এই চাওয়াটা আমি যুক্তিযুক্ত মনে করি। শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেলে আমরা জাতি হিসেবে এগিয়ে যেতে পারবো বলে বিশ্বাস করি।
নির্বাচনে ভোটারকে কেন্দ্রমুখী করার জন্য পদক্ষেপের অংশ হিসেবে তিনি জানান, আমরা ইতিমধ্যেই গণসংযোগ ১০ থেকে ১৫জনের গ্রুপ করে প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়ে নির্বাচনে তাদের মূল্যবান ভোটগুলো প্রদানের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। তাছাড়া এবারে ইভিএম পদ্ধতি আমার নির্বাচনী এলাকার জন্য নতুন। আমি জনগণকে বিভিন্ন উপায়ে বিশেষ করে ভিড়িও ফুটেজ ও মেসেজের মাধ্যমে কিভাবে ইভিএম ভোট দিতে হয় সে বিষয়ে অবহিত করছি। কোন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি না হলে ভোটাররা কেন্দ্রমুখী ও উপস্থিতি থাকবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ৭৫ শতাংশ ভোটার আমার এলাকায় ভোট প্রদানে আসবেন।
তিনি নির্বাচিত হলে আগামীর প্রত্যাশা সম্পর্কে তিনি বলেন, আপনারা হয়তো জানেন, আমার নির্বাচনি ৩৯নং ওয়ার্ডটি শিক্ষার ক্ষেত্রে এখনো পিছিয়ে, সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত কম, দারিদ্র্য সীমার কাছাকাছি প্রচুর মানুষের বসবাস। আমি যদি নির্বাচিত হই, শিক্ষার জন্য প্রতিটা মহল্লায় মহল্লায় শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করবো। একই সাথে গ্রীন এন্ড ক্লিন সিটি বাস্তবায়নে চেষ্টা অব্যাহত রাখবো। এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আগামীর পরিচ্ছন্ন একটি মডেল ওয়ার্ড প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবো।
এক লক্ষ তেইশ হাজার আশ শত চব্বিশ জন ভোটারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা বাংলাদেশের নাগরিক ভোটার অধিকারকে সমুন্নত রাখতে নি:সন্দেহে নিদ্বিধায় নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসুন। আপনাদের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করুন। একজন সেবক হিসেবে আপনাদের কাছে সবিনয়ে আমার নির্বাচনী প্রতীক লাটিম মার্কায় ভোট দিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিন। ইনশাআল্লাহ আপনাদের ভোটে আমি পুন:নির্বাচিত হলে অতীতের মতো আপনাদের পাশে থাকবো। সামর্থ্য ও অবস্থানকে সমন্বয় করে আপনাদের প্রদত্ত ভোটের যথাযথ মূল্যায়ন করবো এমনাই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। আল্লাহ সকল ভোটারদেরকে সুস্থ ও নিরাপদে রাখুক এমন দোয়া করছি। সকলে দোয়া করবেন, আল্লাহ হাফেজ।


ট্যাগ :

আরো সংবাদ