শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০ ৭ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangladesh Total News

সততা ও নিষ্ঠা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে না : ড. নিসার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু

প্রকাশের সময় : ১৯ মার্চ, ২০২০ ৪:৫৯ : অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদন : আজ আমরা কথা বলছি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ১০ নং উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জনাব নিসার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জুর সাথে। বিগত এক দশক ধরে তিনি এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরগণের মধ্যে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা সবচাইতে বেশি।  এলাকায় একজন সজ্জ্বন ব্যক্তি হিসেবে তার সুখ্যাতি রয়েছে।

বিগত পাঁচ বছরে তিনি কি কি কাজ করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিগত পাঁচ বছরে আমি অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন করেছি।  জলজটমুক্তকরণ, মাদকমুক্ত যুবসমাজ গঠন, এলাকা  সন্ত্রাস মুক্তকরণ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে আন্তরিকভাবে কাজ করেছি। আমার ওয়ার্ডের অনেক জায়গায় ওয়াসার সংযোগ ছিল না, আমি সেখানে ওয়াসার সংযোগ দিয়েছি।   কিছু কিছু জায়গায় মাদকের আখড়া ছিল আমি মাদকের আখড়া উচ্ছেদ করেছি, আমার  ওয়ার্ডে ব্যাপক বিউটিফিকেশন করেছি যা আপনি রাস্তায় গেলে দেখতে পারবেন।পাশাপাশি অলংকার পুলিশ বক্সের পাশে শেখ রাসেল চত্বর নামে একটি চত্বর নির্মাণ করেছি । সেখানেও মাদকের অনেক বড় আঁখড়া ছিল। এরকম কর্নেলহাটেও একটি চত্বর নির্মাণ করেছি। গতানুগতিক উন্নয়ন কাজ অর্থাৎ  রাস্তা সংস্কার করা,  বিদ্যুতের বাতির ব্যবস্থা করা, এলাকা পরিস্কার পরিচ্ছ্ন্ন রাখার মধ্যে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন হবে না, টেকসই উন্নয়ন তখনই হবে যখন  মানুষের নৈতিক চরিত্রের পরিবর্তন হবে।নৈতিক চরিত্র পরিবর্তন অর্থাৎ আমরা যতদিন না পর্যন্ত সততার সাথে কাজ করতে না পারবো ততদিন পর্যন্ত আমরা উন্নত হবো না।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিশন-২০৪১ অর্জন করতে হলে যুবকদেরকে কারিগরী শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে।  এজন্য  আমার এলাকায় একটি টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট চালু করবো।  যাতে বেকার যুবক যুবতীদেরকে দক্ষ কর্মশক্তিতে রুপান্তর করা যায়।

ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য আপনি কি কি উদ্যোগ নিবেন এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিদিন আমি আমার এলাকার ভোটারদের সাথে দেখা করে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য উৎসাহ প্রদান করছি ।  আমি প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করেছি । আমি আশা করছি সঠিক পরিবেশ পেলে বিপুল সংখ্যক ভোটার ভোটকেন্দ্রে যাবেন।আর  ইভিএম ভোটিং হচ্ছে একটি যুগোপযোগী ভোটিং সিস্টেম। মানুষের মধ্যে আগে যেই দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল তা কাজ করবে না।  যার ফিঙ্গারপ্রিন্ট মিলবে সেই ভোট দিতে পারবে, এখানে কারচুপি করার কোন সুযোগ নেই।   এখানে একজনের পক্ষে আরেকজনের ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, জাল সিল মারারও কোনো সুযোগ নেই। ইভিএম এর মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন।

পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার এলাকার একটি অংশ সাগরিকা সাগরিকা শিল্প এলাকার অন্তর্ভুক্ত। ঐ এলাকায় শিল্প স্থাপনা বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থায় কিছু অনিয়ম রয়েছে। আমি যদি আবার নির্বাচিত হই তাহলে ইন্ডাস্ট্রির মালিকদের সাথে আমি বসে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট বসাবো যাতে ফ্যাক্টরির কোন বর্জ্য পরিবেশ দূষণ না করে বা খালের পানিকে দূষিত না করে ।  শিল্প-কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলাচলের জন্য আমি রাস্তাঘাট ঠিকভাবে তৈরি করেছি।   আমাদেরকে শিল্প-কারখানা বাঁচিয়ে রাখতে হবে ও পরিবেশকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে সুস্থভাবে বাঁচিয়ে রাখতে হলে প্রচুর গাছ লাগাতে হবে ।

সামাজিক সুশাসন  প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে আমার ওয়ার্ডে একটা পঞ্চায়েত কমিটি নামে একটি কমিটি আছে। প্রত্যেক পাড়ায় পাড়ায় আমাদের প্রতিনিধি রয়েছে ।  চারটি পাঁচটি পাড়া মিলে একটি পঞ্চায়েত রয়েছে, সামাজিক সমস্যাগুলো এই পঞ্চায়েত কমিটি তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করে।    ছোটখাটো ভুলত্রুটি যাতে স্থানীয়ভাবে সমাধান করা যায় তার ব্যবস্থা করা হয়েছে এই কমিটির মাধ্যমে । পঞ্চায়েত কমিটি কাজ করে যাচ্ছে,  অভিভাবকরা যাতে সন্তান-সন্ততির উপর যত্নবান হয় এবং সন্তানরাও যাতে বয়স্ক অভিবাবককের যথাযথ যত্ন নেয় এই বিষয়ে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মিশন ও ভিশন বাস্তবায়ন করে আমাদেরকে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর কাতারে যেতে হলে প্রথমত শৈশব হতে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে হবে।  শৈশব থেকে একজন লোককে সততা ও নিষ্ঠা শিখতে হবে যাতে মানুষের মধ্যে অন্যায় করার প্রবৃত্তি না থাকে, ভালো কাজ এবং দেশপ্রেমের চেতনা জেগে ওঠে, নেতৃত্বের যোগ্যতা গড়তে হবে।  তাহলে প্রধানমন্ত্রীর মিশন ও ভিশন সাকসেস হবে।   আগামীর বাংলাদেশ কেমন দেখতে চান এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি আমার লেখাপড়ার সুবাদে ও পিএইচডি ডিগ্রী অর্জনের জন্য অনেকগুলো দেশে ভ্রমণ করেছি এবং অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছি ।  আমার জানামতে, চীন-জাপান-সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া ৩০-৩৫ বছর আগেও এত উন্নত ছিল না। কিন্তু তাদের সাথে এখন আমাদের বিশাল ফারাক হয়ে গেছে।   তারা শুধু সততা ও নিষ্ঠার গুণেই এত উন্নতি লাভ করেছে।

পরিশেষে এলাকাবাসীর প্রতি তার বার্তা কি তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার প্রিয় এলাকাবাসীর প্রতি আমার আকুল আবেদন, আপনারা বিগত দিনে আমাকে নির্বাচিত করেছেন আপনাদের সেবক হিসেবে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন এবারও আমার প্রতীক মিষ্টি কুমড়া প্রতীকে ভোট দিয়ে আমার অসম্পূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্য পুনরায় আমাকে আর আরেকবার সুযোগ দিন ও জয়যুক্ত করুন। অতীতের ন্যায় আমি আপনাদের সেবক হিসেবে কাজ করবো।


ট্যাগ :

আরো সংবাদ