বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০ ২৫শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Bangladesh Total News

আবারও ফিরিঙ্গী বাজার ওয়ার্ডবাসীর সুখে-দু:খে থাকতে চাই: হাসান মুরাদ বিপ্লব

প্রকাশের সময় : ১১ মার্চ, ২০২০ ১:০৬ : অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদন: আজ আমরা মুখোমুখি হয়েছি ৩৩নং ফিরিঙ্গী বাজার ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর জনাব হাসান মুরাদ বিপ্লব এর সাথে। ছাত্র জীবন হতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় লালিত জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। চট্টগ্রাম ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ সরকারি কমার্স কলেজ ছাত্র সংসদের নেতৃত্ব দান করেছেন। অত্যন্ত মেধাবী এই ছাত্রনেতা পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত হয়ে বিগত ২০১৫ সাল হতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ফিরিঙ্গী বাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।
১. বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি: আপনি কেন আবারো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন?
জনাব হাসান মুরাদ বিপ্লব: ২০১৫ সালের ২৮শে এপ্রিল অত্র এলাকার লোকজন ভোট দিয়ে আমাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেছে। আমি তখন তাদের সাথে অঙ্গীকার করেছিলাম এলাকার উন্নয়নে আমি জানপ্রাণ দিয়ে কাজ করবো। আমি অক্ষরে অক্ষরে আমার দায়িত্ব পালন করেছি। এলাকার ডাস্টবিনগুলোকে সরিয়ে ফুলের বাগান তৈরী করেছি, এলাকার আইল্যান্ডগুলোর সৌন্দর্য বর্ধন করেছি, সামর্থ্য মতো বিভিন্ন ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংগঠনকে সহায়তা করেছি, বেওয়ারিশ লাশের দাফন-কাফন করেছি, সনাতন ধর্মালম্বীদের জন্য শ্বশান ও বিসর্জনের সু-ব্যবস্থা করেছি, এলাকার দুস্থ:লোকদের রমজানে ইফতার সামগ্রী দিয়েছি, আর্থিক অসচ্ছল ছাত্র-ছাত্রীদেরকে শিক্ষা সামগ্রী কিনে দিয়েছি, কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছি। সুন্দর ও আধুনিক ফিরিঙ্গী বাজার তৈরী করার জন্য গত পাঁচ বছর ধরে আমি সবার সহযোগিতায় নিরলসভাবে কাজ করেছি এবং আমার অঙ্গীকার রক্ষা করেছি। তারুণ্যের প্রতীক হিসেবে আমি ভোটারদের যে কথা দিয়েছিলাম ‘পাশে থাকুন আস্থা রাখুন’ তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছি। আমার এলাকার জনগণ আমাকে অনুপ্রেরণা ও সাহস যোগানোতে আমি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। ইনশাআল্লাহ তারা বিগত পাঁচ বছরে আমার কর্মকা-ের মূল্যায়ন করে আমাকে পুনরায় বিজয়ী করবে।
২. বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি: বিগত পাঁচ বছরে আপনি কি কি উন্নয়ন কাজ করেছেন?
জনাব হাসান মুরাদ বিপ্লব: বিগত পাঁচ বছরে ফিরিঙ্গী বাজার ওয়ার্ডে আমি ১০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছি। ডা: জাকির হোসেন হোমিওপ্যাথিক কলেজে একটি আধুনিক ৬ তলা ভবন নির্মান করেছি, হরিজন কলোনীতে সেবকদের জন্য আধুনিক এপার্টমেন্ট তৈরীর কাজ শুরু হয়েছে এবং এলাকার বিভিন্ন অলিগলি অভয়মিত্র ঘাট, সুজাকাঠগর বাই লেইন, হাজী কলোনী, ইয়াকুব নগর সহ ফিরিঙ্গী বাজার ১নং ও ২নং গলীতে প্রত্যেকটি রোড এর কার্পেটিং, নালা নির্মাণ ও এলইডি লাইটিং এর কাজ সুসম্পন্ন করেছি। বিশেষ করে, ২নং গলিতে পুকুরের আশেপাশে যে সংস্কার করেছি অর্থাৎ সুইমিংপুলের আদলে যে পরিবর্তন এসেছে তা চট্টগ্রামের কোথাও দেখা যাবে না। আমি আমার ভোটারদের সাথে উন্নয়নের যে ওয়াদা করেছিলাম তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করেছি।
.বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি: ইভিএম ভোটিং সিস্টেমকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
জনাব হাসান মুরাদ বিপ্লব: সরকারের এই উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। ইভিএমে ভোট কারচুপি করার কোনো সুযোগ নেই। যতবেশি কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হবে ততো ভোটাররা কেন্দ্রমুখী হবে। ইভিএম একটি সহজ পদ্ধতি তাই আমি আমার এলাকার ভোটারদেরকে সহজেই এই পদ্ধতিতে ভোট দেয়ার জন্য প্রতিনিয়ত প্রচারণা চালাচ্ছি। আমি আশা করছি এবার ইভিএমে প্রচুর ভোটার তাদের ভোট প্রয়োগ করবে।
৪.বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি: আপনি পুনরায় নির্বাচিত হলে প্রাধান্যতার ভিত্তিতে কোন কোন কাজ করবেন?
জনাব হাসান মুরাদ বিপ্লব: ইনশাআল্লাহ আমি যদি এবার নির্বাচিত হই তাহলে এলাকার প্রত্যেকটি মোড়ে মোড়ে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করবো। এলাকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করবো। এছাড়াও নারীদের জন্য কম্পিউটার, সেলাই ও বিউটিশিয়ান প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো এবং ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে যাতে এই ওয়ার্ডের লোকজন সহজেই সবগুলো সেবা গ্রহণ করতে পারে সে ব্যবস্থা নিব।
.বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি: আপনার বিগত পাঁচ বছরে আপনার কোন কাজ এখনো অসমাপ্ত রয়েছে কিনা?
জনাব হাসান মুরাদ বিপ্লব: আমার কোন কাজ সম্পূর্ণরূপে অসমাপ্ত নেই। কিছু কাজ চলমান প্রক্রিয়ায় আছে। বিগত পাঁচ বছরের মূল কাজ ছিল এলাকার রাস্তাঘাট থেকে ডাস্টবিন সরানো, রাস্তাঘাট পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা, এবং মাননীয় মেয়র আজম নাছির উদ্দীন ঘোষিত চট্টগ্রামকে ক্লীন ও গ্রীন সিটি করার জন্য প্রতিটি ঘর হতে ডোর-টু-ডোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম পরিচালনা, যা আমি করতে পেরেছি। এলাকায় স্বাস্থ্যকর পরিবেশের সূচনা করেছি।
.বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি: আপনার এলাকার পাশে বয়ে যাওয়া চট্টগ্রামের প্রধান নদী কর্ণফুলীকে দখল ও দুষণমুক্ত করার জন্য আপনি কি পদক্ষেপ নিবেন?


জনাব হাসান মুরাদ বিপ্লব: যেহেতু কর্ণফুলী বাংলাদেশের হৃদপি-, এর উপর ভিত্তি করে চট্টগ্রাম বন্দর গড়ে উঠেছে। তাই কর্ণফুলী বাঁচলেই চট্টগ্রাম বাঁচবে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী আল্লাহ প্রদত্ত একটি নেয়ামত। এই নদীতে জোয়ার ভাটা হয়। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আমার সংগ্রাম চলছে। কর্ণফুলীকে দখল ও দুষনমুক্ত করার জন্য আমি মানববন্ধন, সভা সেমিনার অনেক করেছি। তবে মূল বিষয় হলো সাধারণ জনগণকে এই কর্ণফুলী দূষণমুক্ত রাখার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তাহলে সাধারণ জনগণ নদীতে আর ময়লা আবর্জনা ফেলবেনা। প্রশাসনের সহযোগিতায় অবৈধ দখলদারদেরকে উচ্ছেদ করতে হবে। এই ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি প্রশাসনকে সম্পূর্ণভাবে সহায়তা করবো। একটাই কথা, কর্ণফুলী বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে।
.বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি: আপনি পুনরায় নির্বাচিত হলে আগামীর বাংলাদেশ ও এই ওয়ার্ডের কি স্বপ্ন দেখছেন?
জনাব হাসান মুরাদ বিপ্লব: আমি সবসময় স্বপ্ন দেখি আগামীর বাংলাদেশ হবে একটি অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় লালিত এক উন্নত দেশ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০৪১ সাল নাগাদ যে উন্নত বাংলাদেশ গড়বেন, এসডিজির সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। এই এলাকাকে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত করতে হবে।
৮.বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি: চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা কিভাবে নিরসন করা যায়?
জনাব হাসান মুরাদ বিপ্লব: ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নগরীর সরু নালা-নর্দমাগুলো বড় ও পরিস্কার করা জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে যে কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছেন তার সুফল এক বছরের মধ্যে চট্টগ্রামবাসী পাবে। ইনশাআল্লাহ জলাবদ্ধতা পুরোপুরি দূর হয়ে যাবে।
৯.বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি: আপনার ওয়ার্ডের ভোটারদের প্রতি আপনার বার্তা কি?

জনাব হাসান মুরাদ বিপ্লব: বিগত পাঁচ বছর ধরে আমি আমার ওয়ার্ডের আপাময় জনসাধারণের যে সেবা করেছি তার মূল্যায়ন করার সময় হচ্ছে আগামী ২৯শে মার্চ। আমি আশা করি ২৯শে মার্চ সকাল ৯টা হতে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সময়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে আমার প্রতীক ‘মিষ্টি কুমড়া’ মার্কায় ভোট দিয়ে বিগত পাঁচ বছর ধরে এলাকাবাসীর সুখ-দু:খে যে তাদের পাশে ছিলাম, তাদেরকে সেবার যে চাকরী করেছি তার মূল্যায়ন করে আমাকে আবার তাদের সেবা করার সুযোগ করে দিবে।


ট্যাগ :

আরো সংবাদ