শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯ ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Bangladesh Total News

ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে সাতকানিয়া পৌরসভার : কাউন্সিলর সাইফুল আলম সোহেল

প্রকাশের সময় : ২৮ অক্টোবর, ২০১৯ ৬:৫১ : অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : পরপর দুইবার সাকতানিয়া পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন জনাব সাইফুল আলম সোহেল। জনপ্রিয় এই জনপ্রতিনিধির সাথে সম্প্রতি বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি’র বিশেষ প্রতিনিধির সাথে সমসাময়িক বিষয়াবলী নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। নিচে সেই আলোচনার সারাংশ বর্ণনা করা হল –
১. বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি: আপনাকে স্বাগত জানাই বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি এর ভুবনে, কেমন আছেন? বারবার নির্বাচিত হওয়ার কারণ কি?
কাউন্সিলর সাইফুল আলম সোহেল: প্রথমে আমি বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি কে সাতকানিয়া পৌরসভার একজন কাউন্সিলর হিসেবে স্বাগত জানাই। আপনাদের মাধ্যমে সাতকানিয়া পৌরসভার উন্নয়ন ও উন্নয়নের বাস্তবায়ন বাংলাদেশসহ সারা বিশ্ব দেখতে পাবে। এজন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
আমি আল্লাহর রহমতে ও আপনাদের দোয়ায় বেশ ভালো আছি। ফিরতি প্রশ্নে জানতে চাইলেন, আপনারা কেমন আছেন? আপনারা হয়তো ইতিমধ্যেই জেনেছেন ২০০৩ সালে সাতকানিয়া পৌরসভার যাত্রা শুরু হয়।এই যাত্রার সাথে যুক্ত হয়েছে পৌরসভার নীতিমালা সমন্বিত পরিকল্পনা, পরামর্শ ও উন্নয়ন, ফলে জনসাধারণের আশা আকাংখার প্রতিফলন ঘটছে। একজন তরুন রাজনীতিবিদ হিসেবে ও জনতার অনুরোধে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহন করি। অত্র এলাকার সর্বসাধারণ তাদের মূল্যবান ভোটটি দিয়ে পরপর দু’বার আমাকে নির্বাচিত করেছেন। একইসাথে বলতে চাই যে, যখন এলাকার প্রয়োজন হয়েছে তখন জনতার স্বার্থে আমি সময় দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এখনো জনতার সাথে সুখে দু:খে আছি।
২. বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি: পরপর দুইবার নির্বাচিত হওয়ার পর কি কি উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করেছেন?
কাউন্সিলর সাইফুল আলম সোহেল: আপনারা হয়তো ইতিমধ্যে জেনেছেন ২০০৩ সালে পৌরসভা ঘোষণা হওয়ার পূর্বে অত্র এলাকায় একটি ইউনিয়ন পরিষদ ছিল। তৎসময়ে ইউনিয়ন পরিষদের বেহাল দশায় প্রমান করে উন্নয়নের তেমন কোন ছোঁয়া লাগেনি। আমি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে পৌরসভার অর্থায়নে প্রথম পর্যায়ে বিভিন্ন রাস্তাঘাট, পুল-কালভার্ট ও পরিচ্ছন্ন কর্মসূচী ইতিবাচকভাবে এগিয়ে নিয়েছি। আমার ওয়ার্ডের পাশ দিয়ে ইছামতি নদী বয়ে গিয়েছে। বর্ষায় কিছুটা নদীর ভাঙ্গন হলেও পৌরসভার অর্থায়নে ভাঙ্গন রোধের প্রকল্প হিসেবে ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে সমন্বিত করে সুফল পাচ্ছি। এলজিএসপি, ইউএনডিপি, বিএনডিএফ ও এডিপির অর্থায়নে পৌরপরিকল্পনার উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছি। যেমন রাস্তা সংস্কার হচ্ছে আরসিসি পদ্ধতির মাধ্যমে। টিএন্ডটি সড়ক সম্প্রাসারিত হয়ে ছমদর পাড়া পর্যন্ত পৌছেছে। চৌধুরী বাড়ির সড়কও একইভাবে একইপদ্ধতিতে তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে চার কোটি পঞ্চাশ লক্ষ টাকার বরাদ্দে এলাকার সংকীর্ণ গলিগুলো সম্প্রাসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
৩. বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি: আপনি একজন যুব রাজনীতিবিদ ও এলাকার নির্বাচিত প্রতিনিধি, কোনটিকে অধিকতর মূল্যায়ন করেন এবং কেন করেন?
কাউন্সিলর সাইফুল আলম সোহেল: আমি আপনাদের মাধ্যমে বলতে চাই যে, আমার ছাত্ররাজনীতি কেঁটেছে মুজিবীয় আদর্শের অনুপ্রানিত হয়ে। একজন মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি হিসেবে বাংলাদেশ যুবলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত আছি বেশ কয়েকটি বছর। মুজীবীয় আদর্শকে বাস্তবায়ন করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মোতাবেক যুবসংগঠনের সাথে থেকে কাজ করছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এইকাজগুলো একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নয়। এই কাজগুলো একটি দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা মাত্র। দেশগড়ার ক্ষেত্রে যেমন রাজনৈতিক সুপরামর্শ পাওয়া যায় ঠিক এই সুপরামর্শগুলোকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হলে একজন জনপ্রতিনিধি হওয়া বাঞ্চনীয়।
৪. বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি: আপনার এলাকায় মাদকের বিস্তারের সাথে যুব সমাজের একটি অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, এই অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?
কাউন্সিলর সাইফুল আলম সোহেল: আপনি ঠিকই বলেছেন। মাদকের সাথে অপরাধপ্রবণ একশ্রেণীর যুবসমাজের অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই যে, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এই অনৈতিক সম্পর্ককে চিহ্নিত করে সম্মানিত মেয়র মহোদয় ও এলাকার মুরব্বীদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। যেমন, মাদকাসক্ত যুবকদেরকে কাউন্সিলিং সেন্টারে পাঠিয়েছি। মাদকের কুফল সম্পর্কিত সভা, সেমিনার করেছি। মাদক বহন ও গ্রহণ আইনত দন্ডনীয় অপরাধ এই বিষয়গুলো উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে যুবসমাজকে জানিয়েছি। এলাকার বিভিন্ন ক্লাব ও সেবা প্রদানকারী সংস্থার কার্যালয়ে মাদকের কুফল সম্পর্কিত পোস্টার লাগানো ও ব্যানার টাঙানো হয়েছে। বর্তমানে এই পরিস্থিতি হতে অনেক উত্তোরণ ঘটেছে।
৫. বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি: আপনার নির্বাচনী এলাকায় জনভোগান্তি হচ্ছে এমন সমস্যা চিহ্নিত করতে পেরেছেন? চিহ্নিত সমস্যাগুলোর সমাধানের কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?
কাউন্সিলর সাইফুল আলম সোহেল: আমার ৬নং ওয়ার্ড জনবহুল হওয়াতে কিছু কিছু সমস্যা পরিলক্ষিত হয়। যেমন, এলাকার কিছু কিছু গলি, উপগলি বেশ সরু। জনসাধারণের ব্যবহারে ভোগান্তি হচ্ছে। সম্মানিত মেয়র মহোদয়ের সাথে এই ইস্যুতে আলাপ-আলোচনায় ইতিমধ্যে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি গলি ৬-৭ ফিট পাশে সম্পাসারণ করা হবে। আরেকটি চিহ্নিত ভোগান্তি হলো, আমার ৬ ও ৭নং ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত অটোরিকশার কারণে ছোট ছোট যানজটের সৃষ্টি হয়। এই অবস্থা হতে উত্তোরণের জন্য কমিউনিটি পুলিশিং এর সহায়তার একটি পরিকল্পনা রয়েছে।
৬. বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি: ৬নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয়গুলোকে কিভাবে সর্বসাধারণের সাথে সমন্বয় করছেন?
কাউন্সিলর সাইফুল আলম সোহেল: সাতকানিয়া পৌরসভার বৃহৎ এলাকার মধ্যে ৬নং ওয়ার্ড জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে এই ওয়ার্ডে। বিভিন্ন উন্নয়নকারী সংস্থা ও স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে এই ওয়ার্ডে কাজ করছে। প্রসূতি মায়েদের জন্য সরকার প্রদত্ত ভাতা নিয়ম অনুসরণ করে প্রদান করা হয়। সরকার ও বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা এসআরএইচআর প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ম্যালেরিয়ার জন্য কাজ করছে পৌরসভার সাথে সমন্বয় করে ‘একলাব’। তাছাড়া জনস্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কর্মকান্ডগুলো পৌরসভার অর্থায়নে আমার ওয়ার্ডে বাস্তবায়ন করছি।
৭. বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি: শিক্ষার ক্ষেত্রে নারীর অবদান ও ক্ষমতায়নকে প্রাসঙ্গিক ধরে আপনার দৃষ্টিতে কিভাবে মূল্যায়ন করছেন?
কাউন্সিলর সাইফুল আলম সোহেল: দেখুন, সুশিক্ষার বিকল্প কিছু আছে, এমনটি আমার কখনও মনে হয়নি। যখন ‘সুশিক্ষা’ একজন নারীর জীবনে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে, ওই নারী শুধু একটি পরিবারের সম্পদ নয়। সেই শিক্ষিত নারী একটি রাষ্ট্রের সম্পদ হয়। আমার শ্রদ্ধাভাজন মা মিসেস সেতারা বেগম একটি সরকারী প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। একজন শিক্ষিত মায়ের ইতিবাচক প্রভাব একটি পরিবারকে কতটুকু এগিয়ে নিতে পারে তার বলিষ্ঠ দৃষ্টান্ত আমাদের পরিবার। প্রশ্নের প্রাসঙ্গিকতায় বলি, একজন শিক্ষিত নারী যখন ক্ষমতাসীন হয়, তখন ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্র পর্যন্ত ইতিবাচক পরিবর্তনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
৮. বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি: ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে বাস্তবিক অর্থে কতটুকু এলাকায় বাস্তবায়ন করছেন?
কাউন্সিলর সাইফুল আলম সোহেল: অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি প্রশ্ন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা সমগ্র বাংলাদেশ হবে ডিজিটালাইজেশনযুক্ত। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের মত আমিও স্বাগত জানায়। আপনি হয়তো লক্ষ্য করেছেন, আমার ওয়ার্ডের সবকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল প্রযুক্তির আওতায় এসেছে। প্রতিটি স্কুলে এখন মাল্টিমিডিয়া ক্লাস আছে, স্কুলে দাপ্তরিক কাজগুলো কম্পিউটারের সাথে ইন্টারনেটযুক্ত করে করা হয়। এলাকার নিরাপত্তার স্বার্থে সম্মানিত মেয়র মহোদয়ের চিন্তাভাবনায় যুক্ত হয়েছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। প্রযুক্তির আরো একটি প্রকল্প হচ্ছে সৌরশক্তি। এই সৌরশক্তিকে পৌরসভার নীতি অনুসরণ করে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে সংযোজিত করা হয়েছে। এছাড়া অত্র এলাকার সকল প্রকার উন্নয়নের তত্ত্বগুলো পৌরসভার সার্ভারে সংযুক্ত করে সর্বসাধারণকে অবগত করা হয়।
৯. বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি: বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও সরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বিত প্রচেষ্টায় আপনার নির্বাচনী এলাকায় কী কী কার্যক্রম চলছে?
কাউন্সিলর সাইফুল আলম সোহেল: অত্যন্ত আনন্দের সাথে আপনাদের মাধ্যমে সাতকানিয়া পৌরসভাসহ সমগ্র বাংলাদেশকে জানাতে চাই যে, বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থার সাথে পৌরসভার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। সরকার প্রদত্ত সকল ধরণের ঘোষণা আমরা বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থার সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে তথ্য আদান-প্রদান করি। আমার নির্বাচনী এলাকায় ব্রাক, আশা, উদ্দীপণ, প্রত্যাশী, গণ উন্নয়ন প্রচেষ্টা ও হীড বাংলাদেশ সহ দু-একটি আর্ন্তজাতিক সংস্থা পৌরসভার সাথে সমন্বিতভাবে এলাকার সচেতন নাগরিকদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। যেমন – ম্যালেরিয়া বিস্তার রোধে কাজ করছেন ‘একলাব’, টিবি ও যক্ষা’র রোগ প্রতিরোধে কাজ করছেন ‘ব্রাক’, নারী শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করছেন ‘প্রত্যাশী’, ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প ও স্যানিটেশন নিয়ে কাজ করছেন ‘গণ উন্নয়ন প্রচেষ্টা’।
১০. বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি: জনপ্রতিনিধি হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনে ইতিমধ্যে সরকার কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, সরকারের একটি অংশ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবেলায় কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন?
কাউন্সিলর সাইফুল আলম সোহেল: বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি, খুব দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে স্বাভাবিকধারায় প্রবাহিত জলবায়ু। যা পৃথিবীতে বসবাসের ক্ষেত্রে একটি নেতিবাচক অবস্থার সৃষ্টি হবে। জাতিসংঘ, ডি-এইট ও পৃথিবীর বিভিন্ন সংস্থায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ুর এই পরিবর্তনকে বাংলাদেশ সহ অনেক উন্নয়শীল দেশের জন্য হুমকি মনে করছেন। যা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমানিত। এবং তা আন্তজার্তিকভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য একটি তহবিলেরও গুরুত্ব আরোপ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ও পরিবেশ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় নির্দেশ মোতাবেক পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অন্যান্য এলাকার মত সাতকানিয়া পৌরসভা ও আমার ওয়ার্ডে যথাসময়ে বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরু হয়। বিভিন্ন স্কুলে ও সংস্থাকে এই অভিযানে অর্ন্তভুক্ত করা হয়। সম্মানিত পৌর মেয়র মহোদয়ের নির্দেশক্রমে আমার এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ইছামতি নদীকে নদী শাসনের আওতায় আনা হচ্ছে। অকারণে পাহাড় বা টিলা কাটা থেকে ইতিমধ্যে এলাকার সর্বসাধারণকে প্রচারনার মাধ্যমে নিষেধকরণ করা হয়েছে।
১১. বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি: সম্প্রীতির ধারা বজায় রাখার ক্ষেত্রে একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে কী কী বিষয়ে নিয়ে কাজ করা প্রয়োজনবোধ করেন?
কাউন্সিলর সাইফুল আলম সোহেল: উপমহাদেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য যদি পর্যালোচনা করে দেখেন, সম্পৃতির বন্ধন যেন অকৃত্রিমভাবে এখানে দৃশ্যমান। আমি একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে এবং সাংবিধানিক দেওয়া প্রতিটি নাগরিকের অধিকারের ক্ষেত্রে বলা আছে, বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ ধর্ম পালনে অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করতে পারবে। তাছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল ভিত্তির মাঝে অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশের কথা বারবার আলোচিত হয়েছে। যেহেতু প্রগতিশীল রাজনীতি লালন করি আমার কাছে প্রতিটি ধর্মের মানুষ ও তাদের অধিকার সমান। তাদেরকে আমি বাংলদেশের নাগরিক মনে করি। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ও অন্যান্য ধর্ম আমার কাছে সমান সুযোগ ও অধিকার পাবে। এককথায় বলতে চাই, আমার সাতকানিয়া পৌরসভা ও ৬নং ওয়ার্ড সম্পৃতির মহা আনন্দের বাধনে বাধিত।
১২. বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি: আপনার পরিবারে কে কে আছেন? আপনার আয়ের উৎস কি?
কাউন্সিলর সাইফুল আলম সোহেল: বর্তমানে আমার পরিবারে মা ও স্ত্রী রয়েছে, ছোট ভাই লন্ডনের একটি টিভি চ্যানেলে কর্মরত আছেন স্বপরিবারে। আমার আয়ের উৎস হচ্ছে চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লায় প্রিন্টিং ব্যবসা ও কাগজ আমদানি করি। তাছাড়া পৈত্রিক সূত্র হতে প্রাপ্ত সহায় সম্পদ হতে যে অর্থ আসে তা আমার জন্য পর্যাপ্ত।
১৩. বিটিনিউজ২৪.কম.বিডি: আপনি কি আবার নির্বাচন করতে চান? জনপ্রতিনিধি হিসেবে আপনার কোন বার্তা থাকলে বলুন?
কাউন্সিলর সাইফুল আলম সোহেল: অত্র এলাকার সর্বসাধারণের উদ্দেশ্যে বলতে চাই যে, আপনাদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে পরপর দুইবার আপনাদের নির্বাচীত জনপ্রতিনিধি করেছেন। এই জনপ্রতিনিধির হওয়ার ফলশ্রুতিতে আপনাদের প্রতিও আমার দায়বদ্ধতা রয়েছে। পৌরনীতি অনুসরণ করে নগরায়নের প্রচেষ্টায় আপনাদের সুপরামর্শ ও সহযোগিতা কামনা করছি। একইসাথে বলবো, সময়মত পৌর কর পরিশোধ করুন, নান্দনিক নগরায়নের ক্ষেত্রে আপনাদের সুচিন্তিত পরামর্শ কামনা করছি। একইসাথে প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের রোল মডেলকে দৃশ্যমান করার ক্ষেত্রে আপনাদের যৌক্তিক সহযোগিতা চাই।


ট্যাগ :

আরো সংবাদ