বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯ ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Bangladesh Total News

শীতকালীন সবজিতে ব্যবহার হচ্ছে ক্ষতিকারক কীটনাশক

প্রকাশের সময় : ৭ নভেম্বর, ২০১৯ ১:২১ : অপরাহ্ণ

ডেস্ক রিপোর্ট : ঝিনাইদহে আগাম শীতকালীন সবজি ক্ষেতে পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষিরা। অনেকেই বিক্রি করেছেন ক্ষেতের সবজি, দামও পেয়েছেন ভালো। তবে অনেকেই আবার সবজি পরিপক্ব করতে ক্ষেতে ব্যবহার করছেন নানা ধরনের কীটনাশক যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলছেন চিকিৎসকরা।কৃষি বিভাগের তথ্য মতে চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত জেলায় শীতকালীন সবজির আবাদ হয়েছে প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে। সাধারণত শীত মৌসুমের শুরুতে লোভনীয় এসব সবজির চাহিদা বেশি থাকায় দামও মেলে বেশি। বর্তমান সময়ে বিভিন্ন এলাকার মাঠে মাঠে বেড়ে উঠছে এসব বাঁধাকপি, ফুলকপি, লাউ, শিমসহ বিভিন্ন রকমের সবজি।ইতোমধ্যেই অনেক চাষিই সবজি বিক্রি করে ভালো দাম পেয়েছেন। বাজারে শিম পাইকারি বিক্রি করছেন গড়ে ৫৫ টাকা কেজি, বাঁধাকপি ও ফুল কপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি, লাউ প্রতি পিস ৩০ টাকা দরে।এজন্য আগাম শীত কালীন সবজি ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বিভিন্ন এলাকার চাষিরা। কেউবা জমির মাটি পরিষ্কার করছেন কেউবা দমন করছেন ক্ষেতের আগাছা। অনেকেই আবার বেশি লাভের আশায় ক্ষেতে ব্যবহার করছেন মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক। যা ফলকে অসময়ে পরিপুষ্ট করছে, রাখছে সতেজ।সদর উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামের কৃষক মোস্তফা কামাল জানান, ফুল ফুটেছে এবং সেটি বড় হচ্ছে। এ অবস্থায় ছত্রাক ও পোকার আক্রমণ ঠেকাতে ফুলে ঔষধ স্প্রে করলে ফুল বেশি বড় হবে ও পোকার আক্রমণ হবে না। তাই কীটনাশক ব্যবহার করছি।অন্যান্য এলাকার চাষিরা জানান, ক্ষেতে সাধারণত সবজি পরিপুষ্ট রাখতে প্রোকেলেম, রেডোমিন গোল্ড, এমিস্টারটপসহ নানা ধরনের ঔষধ ৭ থেকে ১০ দিন অন্তর ব্যবহার করা হয়। সবজিতে কীটনাশক ব্যবহার করা ঠিক না এটা কৃষি বিভাগ আমাদের বলে না। তারা কখনো আসেনা খবরও নেয় না। ফলে দোকান থেকে এনে আমরা ব্যবহার করি। কৃষি কর্মকর্তারা আমাদের নির্দেশনা দিলে কীটনাশক ব্যবহারে সর্তক হতাম।সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. প্রসেনজিৎ বিশ্বাস পার্থ জানান, লোভনীয় এসব সবজি খাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। সঠিক মাত্রায় সিদ্ধ করে না খেলে পেটের পিড়া, ডায়রিয়া এমনকি ক্যানসারের মতো রোগ হতে পারে। আমরা যদি ৬০ থেকে ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সবজি সিদ্ধ করে খায় তাহলে বিষক্রিয়া অনেকাংশেই কমে যায়। তবে ক্ষেতে কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে কৃষক ভাইদের অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে যেন সেটি মাত্রাতিরিক্ত না হয়।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জি এম আব্দুর রউফ জানান, সবজি উৎপাদনে কিছু কীটনাশক প্রয়োজন আছে। তবে চাষিদের নিরাপদ সবজি উৎপাদনে আমরা উৎসাহিত করছি। আমাদের প্লান আছে একটি নিরাপদ সবজি কর্নার স্থাপন করা যাতে সেখান বিষমুক্ত সবজি বিক্রি হয়।


ট্যাগ :

আরো সংবাদ