সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯ ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Bangladesh Total News

সীতাকুন্ডের ঝরঝরি ঝর্না, যার সৌন্দর্যের তুলনা হয়না

প্রকাশের সময় : ৩ নভেম্বর, ২০১৯ ৪:২৪ : অপরাহ্ণ

ডেস্ক রিপোর্ট : উপরের ছবিটি দেখলে হয়তো মনে হতে পারে বাংলাদেশের বাহিরের কোন জায়গার ছবি। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য এই জায়গাটি ভরা বর্ষা শেষে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের ঝরঝরি ঝর্ণা।অ্যাডভ্যাঞ্চার প্রিয় ট্রাভেলারদের জন্য সীতাকুণ্ড অঞ্চলে রয়েছে অসাধারণ ঝরঝরি ঝর্ণা ট্রেইল। এই ট্রেইল ধরে প্রায় এক ঘণ্টা হাটলে সর্বপ্রথম যে ঝর্ণা চোখে পড়ে এর নাম ঝরঝরি ঝর্ণা (Jhorjhori Waterfall)। বাম দিক দিয়ে আরো উপরের দিকে যেতে থাকলে দেখা মিলে অনেক দারুন দারুন কিছু খুম এবং ক্যাসকেড। ঝরঝরি ঝর্ণার উপরের দিকে যাওয়া বেশ কঠিন ও কষ্টকর তাই বর্ষার শেষের দিকে যাওয়াই সবচেয়ে ভাল হয়।

কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে বাসে/ট্রেনে/এয়ারে চট্টগ্রাম চলে যেতে হবে আগে। সেখান থেকে সীতাকুন্ড। সীতাকুন্ড থেকে বাস কিংবা লেগুনাতে ১০ মিনিট লাগবে পন্থিচিলা বাজার। বাজারে গিয়ে লোকাল কাউকে গাইড হিসেবে নিয়ে নিন। এই দিকটাতে সাথে একটা গাইড থাকা ভালো। এতে তার বাড়িতে ব্যাগ রাখা সহ কাপড় পাল্টানোর জন্যও সুবিধা পাবেন। কিছুদূর যাওয়ার পর রেললাইন পাবেন। রেললাইনে উঠে হাতের বামপাশ বরাবর ৫-৭ মিনিট হাটার পর একটা মাটির রাস্তা পাবেন। সেই রাস্তা ধরে প্রায় ২০ মিনিট পর ঝিরি পথের দেখা পাবেন। এর কিছুক্ষণ পর পাহাড়ে উঠতে হবে। পাহাড়ে উঠার পথটা কিছুটা দেবতা পাহাড়ের মত। এই পথটা একটু ভয়ংঙ্কর। এর পর ৩০ মিনিট হাটার পর পাবেন ঝরঝরির প্রথম ঝর্না এবং আরো ২০ মিনিট পর ২য় ঝর্ণা পাবেন। যেটা সিঁড়ির মত দেখা যায়। এইটুকু রাস্তা যেতে জোঁক, সাপে ভরা পাথুরে পিচ্ছিল পথ অতিক্রম করতে হবে। এরপর প্রায় দেড় ঘন্টা বুনো দুর্গম অন্ধকার পথ হাঁটার পর মানুষ আকৃতির একটা মূর্তির দেখা মিলবে যার উপর ঝর্ণার পানির নীচেই অবস্থিত। ঝর্ণার পানির ভিতর দিয়ে উপরে উঠে যেতে হবে এবং এই ট্রেইলের সবচেয়ে বড় ঝর্নার দেখা পাবেন। ঝরঝরি ট্রেইল শেষ করতে আসা যাওয়াতে ৫.৩০-৬ ঘন্টা সময় লাগবে। ঝরঝরি ট্রেইলে গেলে সাথে করে বাজার থেকে খাবার কিনে নিয়ে যাবেন এবং দুপুরবেলার খাবার অর্ডার দিয়ে যাবেন।

সীতাকুন্ডে আল আমীন হোটেলের খাবার মোটামুটি ভালো মানের। আর যদি চট্টগ্রাম যান তবে এখানে সব ধরণের খাবার রেস্টুরেন্ট পাবেন।

ভ্রমণ টিপস
যেহেতু এটি একটি ট্রেকিং ট্রেইল, উঁচু নিচু পাহাড় ও পাথুরে ঝিরিতে আপনাকে হাটতে হবে তাই কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস সাথে অবশ্যই নিবেন।
– নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাকপেক। অপ্রয়োজনীয় জিনিস সাথে না নিতে।
– পানির বোতল
– গামছা বা রুমাল
– মাথার ক্যাপ
– আরামদায়ক পোশাক
– ভালো গ্রীপ ধরে এমন জুতা
– ফাস্ট এইড ও প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র
এছাড়া পুরো ট্রেইল কভার করতে চাইলে অবশ্যই হাতে সময় নিয়ে রওনা হবেন। নতুন ট্রেকার হলে সেই বিষয় মাথায় রাখবেন। পুরোটা কভার করতে চাইলে আগে থেকে না জানা থাকলে সাথে স্থানীয় কাউকে গাইড হিসেবে নিয়ে নিন।
– ঝর্ণার পুরো রূপ দেখতে চাইলে বর্ষাকালে ভ্রমণ করুন।
– বর্ষাকালে হঠাৎ বৃষ্টিতে ফ্ল্যাশ ফ্লাড হতে পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন।
– পথ পিচ্ছিল অনেক, হাঁটার সময় সতর্ক থাকুন।
– খুম গুলোর গভীরতা অনেক, সাঁতার না জানলে সাবধান থাকুন।
– বর্ষায় গেলে সাথে দড়ি রাখুন, প্রয়োজন হতে পারে।
– ভালো গ্রীপের জুতা ব্যবহার করুন।
– স্থানীয় মানুষদের সাথে ভালো আচরণ করুন।
– আর অবশ্যই পরিবেশ নোংরা করবে না, অপচনশীল আবর্জনা সাথে করে নিয়ে আসবেন।

ঝরঝরি ঝর্ণা ছাড়াও সীতাকুণ্ডে দেখার মত উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় জায়গা গুলো হলোঃ
– কমলদহ ঝর্ণা
– সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক
– চন্দ্রনাথ পাহাড় ও মন্দির
– কুমিরা ঘাট
– গুলিয়াখালী বীচ
– বাঁশবাড়িয়া বীচ


ট্যাগ :

আরো সংবাদ