বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯ ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Bangladesh Total News

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পে বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ নারীদের জীবন

প্রকাশের সময় : ৩১ অক্টোবর, ২০১৯ ৬:৪০ : অপরাহ্ণ

ডেস্ক রিপোর্ট : মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পে বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ নারীদের জীবন
গ্রামের আপামর দরিদ্র জনসাধারণের আর্থিক অবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রবর্তিত ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের মাধ্যমে বিশেষ করে গ্রামের দরিদ্র নারীদের আর্থিক অবস্থার বিশাল পরিবর্তন ঘটছে। গ্রামের দরিদ্র নারীরা গ্রুপে সংঘবদ্ধ হয়ে এই ঋণ গ্রহণ করে সহজেই আয়বর্ধনমূলক কর্মকান্ডে জড়িত হয়ে আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হচ্ছে। গ্রাম-শহর সমানভাবে উন্নত হলেই একটা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব। কেবলমাত্র শহরের উন্নয়ন দিয়ে কখনই একটা দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধশালী করা সম্ভব নয়। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে সেখানকার গ্রামীণ অর্থনীতি বেশ শক্তিশালী। আর গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে অনেক ক্ষেত্রেই পুরুষের চেয়ে নারীরা বেশি ভূমিকা পালন করে থাকেন। বাংলাদেশে বর্তমান সরকারের ‘গ্রাম-শহর সমান উন্নতি’ নীতির কারণে এবং অনেকেই শহর ছেড়ে গ্রামে গিয়ে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন, অবদান রাখছেন দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে। যেমন তাদেরই একজন বান্দরবানের বিলাইছড়ির আয়শা খাতুন। আয়শা খাতুন কয়েক বছর আগে ঢাকা শহরে এসেছিলেন এক বান্ধবী শাহেদার হাত ধরে। ইচ্ছে ছিল গ্রামের গরীব বাবা-মাকে সাহায্য করা। শুরুতে এক গার্মেন্টস কারখানায় চাকরি নেন। বেতন ছিল সাত হাজার। শুরুতে কারখানায় হেলপারের কাজ করলেও পরে আস্তে আস্তে নিজেই শিখে যান সেলাইয়ের কাজ। এভাবে প্রায় দু’বছর কাজ করার পর বেতন দাঁড়ায় সাড়ে আট হাজার টাকায়। চার হাজার টাকা বাড়িতে পাঠিয়ে বাকি সাড়ে চার হাজার টাকায় ঢাকায় থাকা-খাওয়া খুব কষ্ট হয়ে যেত আয়শার। সিদ্ধান্ত নেন বাড়ি ফিরে যাবেন। বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার বিলাইছড়িতে তার গ্রাম। সেখানে ফিরে প্রথমে এক এনজিও’র সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ নেন কাপড় কাটার। তিন মাস প্রশিক্ষণ শেষে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প হতে ঋণ নিয়ে নিজেই সেলাই মেশিন কিনে ঘরের মধ্যে শুরু করেন সেলাইয়ের কাজ। প্রথমে খরিদ্দার পেতে কিছুটা কষ্ট হলেও আস্তে আস্তে সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। তারপর থেকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি আয়শাকে। নিজের বিয়ের সব খরচ নিজেই বহন করেছে আয়শা। এক সময় বিয়ে করেন। বিয়ের আগে নিজের জমানো টাকা দিয়ে ছোট ভাইকে কিনে দিয়েছে দু’টি ব্যাটারী-চালিত রিকশা। আয়শা বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে নারীদের উন্নয়নের জন্য অনেক কিছুই করেছেন। কিন্তু অধিকাংশ নারীই সে সব সম্পর্কে তেমন কিছুই জানেন না। যদি তারা একটু সচেতন হন, তবে অনেক সুযোগ-সুবিধাই রয়েছে যাতে করে নারীরা ঘরে বসেই উপার্জন করতে পারে এবং সাবলম্বী হতে পারেন। এইরকম আরো গল্প আছে।
হাটহাজারী থানার চারিয়া গ্রামের মর্জিনা বেগম ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প হতে সহজ শর্তে ঋণ গ্রহণ করে হাঁস-মুরগী পালনের মাধ্যমে সচ্ছলতা লাভ করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর এসব এলাকার চিত্র অনেকটা পাল্টে গেছে। কারণ এই সরকার নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী। পাশাপাশি দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গ্রামীণ অর্থনীতিকেও চাঙ্গা করতে চায় এই সরকার। এজন্য নেয়া হয়েছে বেশ কিছু উদ্যোগ। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে ‘একটি বাড়ী একটি খামার’ প্রকল্পটি।
অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. সেকান্দার ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকারের একটি বাড়ী, একটি খামার প্রকল্পে আগ্রহী হয়ে এখন অধিকাংশ বাড়ীতেই গড়ে উঠেছে খামার। আর এসব খামারে হাঁস, মুরগী, ছাগল, ভেড়া এবং গরু পালনের পাশাপাশি অনেক শাক-স্বব্জির চাষ অথবা পুকুরে মাছ চাষ করছেন। আর এসব করছেন বাড়ীর মেয়েরাই বেশি। আর এরফলে নারীরা যেমন অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হচ্ছেন আবার গ্রামীণ অর্থনীতিও চাঙ্গা হচ্ছে।


ট্যাগ :

আরো সংবাদ