শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০ ২৬শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangladesh Total News

কোনো এক বর্ষায় তুমুল বর্ষণের প্রবহমান জলস্রোতে

প্রকাশের সময় : ৩০ জুন, ২০২০ ১০:২৭ : পূর্বাহ্ণ

এম এ কবীর,সাংবাদিক:

এক. কৃতজ্ঞতা আনিসুল হক।

দুই.

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ব্রেজনেভ ফলের দোকানে গেলেন। সেখানে একটা মাত্র তরমুজ ছিল। ব্রেজনেভ বললেন, ‘তোমার তরমুজের দাম কত?’
‘কোন তরমুজটা?’
তোমার দোকানে তো মাত্র একটা তরমুজ। আবার কোন তরমুজটা বলছ কেন?’
‘জি, এটার দাম দুইশত টাকা।’
ব্রেজনেভ টাকা দিলেন। দোকানি বলল, ‘কোন ব্রেজনেভকে দেব ?’
‘তুমি কতজন ব্রেজনেভ দেখছ?’
‘একজনকেই দেখছি। কিন্তু আপনিই তো শিখিয়েছেন, আমাদের বেছে নিতে হবে।’
(…এটাকে বলা হয় নির্বাচন)

তিন.

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বর্ষার আবহে বলেছেন, ‘পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে’। ১৪২৭ বঙ্গাব্দের বর্ষা ঋতুর সূচনার দিন। বলতে হচ্ছে ‘করোনা হাওয়ার বাদল দিনে’। সোমবার ১৫ জুন ২০২০। প্রকৃতিতে পহেলা আষাঢ়।
‘আষাঢ়স্য প্রথম দিবসে’ রিমঝিম বৃষ্টির শব্দে কানে কানে ঘোষিত বর্ষার আগমন বার্তা । নিজস্ব জলবিন্দুতে ভিজিয়ে দেবে তাপিত- পীড়িত চরাচর। বেদনার্ত মানুষের হৃদয়। প্রকৃতিতে জাগবে জল-কল্লোলিত প্রাণাবেগ।

চার.

বাবা বিবাহযোগ্য ছেলেকে বললেন, ‘বেটা, তুমি কিন্তু আমার পছন্দমতো মেয়েকে বিয়ে করবে।’
ছেলে বলল, ‘কক্ষনো না।’
বাবা বললেন, ‘করো। কারণ, মেয়েটা আর কেউ নয়, সে হলো বিল গেটসের মেয়ে।’
ছেলে বলল, ‘তাহলে রাজি।’
বাবা গেলেন বিল গেটসের কাছে। ‘আপনার মেয়ের সঙ্গে আমার ছেলের বিয়ে।’
বিল গেটস বললেন, ‘হতেই পারে না।’
‘হতে পারে। কারণ সে বিশ্বব্যাংকের সিইও।’
‘আচ্ছা। তাহলে ঠিক আছে। বললেন বিল গেটস।
বাবা গেলেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের কাছে। ‘আমার ছেলেকে আপনার ব্যাংকের সিইও বানাবেন।’
‘প্রশ্নই আসে না।’
‘আসে। কারণ, সে বিল গেটসের জামাতা।’
‘ওকে। তাহলে হতে পারে।’
(…এই ব্যাপারটাকে বলা হয় ব্যবসা )

পাঁচ.

বিভা ও বৈচিত্রময় ষড়ঋতুর বাংলাদেশ। পরিবেশ ও প্রকৃতিতে রূপের পসরা সাজিয়ে ঋতু আসে। ঋতু যায়। বর্ষা শুরু হয় কঠোর খরতাপে গ্রীষ্মের দাবদাহের পর। আসে জলের শীতল স্পর্শ। তারপর উদার শরৎ। বিষন্ন হেমন্ত। হিম হিম পরশে কুয়াশার চাঁদরে ঢাকা স্বপ্নালু শীত। চৈতালি বাতাসে ভেসে আসে ঋতুরাজ বসন্ত।
ঘন কালো মেঘ। বজ্র। প্রকম্পিত বৃষ্টি। অবিরাম নাচন। জল সিঞ্চিত বর্ষা। জাগায় প্রকৃতি। প্রাণিজগৎ। নতুন মাত্রা পায় অনিন্দ্য প্রকৃতি । জরাজীর্ণ গ্রীষ্ম। ক্লান্ত আকাশভাঙা জলের স্নানে সিক্ত ধরণীতল।
জলরঙে রাঙিয়ে দেয়া বর্ষাকাল। ঋতুচক্রের দ্বিতীয় ঋতু। বৃষ্টিবহুল বাংলার সাথে বর্ষার আত্মীয়তা শাশ্বত। প্রখর বৈশাখ-জৈষ্ঠ্যের শেষে আষাঢ়- শ্রাবণে আসে জলের ছোঁয়ায়। বর্ষার সমগ্র প্রহর বৃষ্টিধারার ধ্বনিতে মুখর জগৎ ও জীবনের সবদিক।
বৃষ্টিভেজা বাতাস শিহরণ জাগায় সবখানে। তাপে জরাজীর্ণ উদ্ভিদ। বর্ষার নবীন মেঘের আহ্বানে উদ্বেলিত। বহুদিনের প্রতীক্ষিত বারিধারায় রোমাঞ্চিত নগর-পল্লীর জনজীবন। বৃক্ষরাজি।
প্রকৃতিতে স্নিগ্ধ-বৃষ্টিভেজা আবেশ। প্রস্ফুটিত নানা ফুল। পত্রালি। অপরূপ সৌন্দযের্র কদম্ব।
কবির ভাষায়-‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল’ উপমায় উদ্ভাসিত। কদমের আবহে বর্ষার এক পশলা বৃষ্টি। নতুন মাত্রায়- ছন্দে পরিপূর্ণতা দেয় সকল প্রতীক্ষার। প্রত্যাশার। শীতল করে দেয় তৃষ্ণার্ত হৃদয়ের উত্তাপ। দোলা দেয় বর্ষা-প্রেমিক মানুষের অন্তর্গত মনে। গোপন-গহীনের প্রেমময় অনুভূতিতে।

ছয়.

নতুন সেলসম্যানকে নিয়োগ দেয়া হলো এক বিশাল ডিপার্টমেন্ট স্টোরে। সবকিছু পাওয়া যায়। দিন শেষে তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘তুমি কয়জন খদ্দের ধরতে পেরেছ?’
‘মাত্র একজন।’
‘মাত্র একজন খদ্দের ধরলে তো চলবে না। কত বিক্রি করেছ?’
‘তিন কোটি টাকা?’
‘কী বলো? কেমন করে?’
‘খদ্দের ভদ্রলোক আমার কাছে প্রথমে কিনলেন একটা বড়শি। তখন তাঁকে আমি একটা ছিপ গছিয়ে দিলাম। তারপর বললাম, মাছ ধরতে যাবেন, একটা ভালো বোট কিনুন। তিনি বোট কিনলেন। তারপর আমি তাঁকে বললাম, বোট যে নদীতে নিয়ে যাবেন, সে জন্য তো ভালো গাড়ি লাগবে। তখন তিনি একটা গাড়িও কিনলেন।’
‘বলো কী? একটা বড়শি কিনতে এসে লোকটা এত কিছু কিনল!’
‘না, তিনি বড়শি কিনতে আসেননি।’
‘কী কিনতে এসেছিলেন?’
তিনি এসেছিলেন স্ত্রীর জন্য মাথাব্যথার ট্যাবলেট কিনতে। আমি তাঁকে বোঝালাম, স্ত্রীর মাথাব্যথা করলে আপনি মাছ ধরতে বাইরে থাকুন। সেটাই স্ত্রীর মাথাব্যথার সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা।
(…..এটাকে বলা হয় সেলসম্যানশিপ)

সাত.

বৃষ্টি-মাখা বর্ষায় এক অনন্য বাংলার সবুজ-শ্যামল চিত্র ফুটে ওঠে। অপার সৌন্দর্যে শোভামন্ডিত হয় চিরায়ত বাংলা। পুকুর। খাল। বিল। নদী। পানিতে হয় টইটুম্বুর। বৃক্ষরাজির ওপর বৃষ্টির ফোঁটা অনাবিল শোভার সৃষ্টি করে। মেঘলা দিনের মাতাল হাওয়া বনে বনে পরশ বুলিয়ে যায়। আকুল হৃদয়ের আর্তিতে।
বাংলার কবি জসীম উদ্দীন তাঁর ‘পল্লীবর্ষা’ কবিতায় বলেছেন : ‘বেনুবনে বায়ূ নাড়ে এলোকেশ/ মন যেন চায় কারে।’
বর্ষা বয়ে আনে অপার সম্ভাবনার বার্তা। সতেজ হয়ে ওঠে ফসলের মাঠ। হাসি ফোটে কৃষকের মুখে। বর্ষা শহরের চেয়ে গ্রামীণ জীবনে অনেক বেশি সরব। জলমগ্ন চরাচরে বিচ্ছুরিত হয় বিম্বিত আলোর অপরূপ নকশা। রমনীরা ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্পের পরম্পরায় ঘরে ঘরে নকসী কাঁথায় তোলে ফুল ।
শহুরে জীবনে বর্ষা যতনা নান্দনিক, তারচেয়ে বেশি দুর্ভোগের। রাস্তাঘাটে সৃষ্টি করে জলাবদ্ধতা। চলার পথে সৃষ্টি হয় প্রতিবন্ধকতা ।
বৃষ্টি শহরের আকাশে উড়ে চলা ধূলোবালিকে অনেকটাই বশ করে।
ব্যস্ত মানুষগুলো একটু নির্মল হাওয়ায় নিঃশ্বাস ফেলতে পারে।

আট.

এক বাঙালি ভদ্রলোক একখন্ড সাদা সেলাইবিহীন কাপড় পরিধান করে থাকেন।
একদিন তিনি রাস্তা দিয়ে ওই একখন্ড সাদা কাপড় পরে যাচ্ছিলেন। এক যুবকের সাইকেলের হ্যান্ডেলে লেগে তাঁর সেই কাপড় ছিঁড়ে যায়। তিনি তখন সাইকেলের হ্যান্ডেল খপ করে ধরে ফেলেন। বলেন, ‘কই যান, আমার পরনের কাপড় ছিঁড়ে গেছে। এটার দাম দিয়ে যান।’
যুবক বলে, ‘আপনার কাপড়ের দাম কত?’
‘পাঁচশত টাকা।’
‘আচ্ছা নিন আপনার পাঁচশত টাকা।’ যুবক মানিব্যাগ বের করে টাকা দেয়। তারপর তিনি নিজের পথে চলতে আরম্ভ করলে যুবক তার গতিরোধ করে বলে, ‘কোথায় যাচ্ছেন? আমার কাপড় দিয়ে যান।’
‘আমার কাপড়?’
‘হ্যাঁ। আমার কাপড়। আপনি বলেছেন এটার দাম পাঁচশত টাকা। আমি দিয়েছি আপনাকে পাঁচশত টাকা। কাজেই এই কাপড় আমার। আপনি এটা খুলুন।’
‘এটা খুলে আমি কি জন্মদিনের পোশাকে পথ হাঁটব?’
‘সেটা আপনার ব্যাপার। আমি দাম দিয়েছি। আপনি নিয়েছেন। এখন এই কাপড় আমার। আপনি এটা আমাকে দিতে বাধ্য।’
‘আচ্ছা আচ্ছা। নাও বাপু, তোমার পাঁচশত টাকা। যাও।’
তখন যুবক বলে, ‘আমাকে পাঁচ হাজার টাকা দিতে হবে।’
‘কেন?’
‘আমার কাপড়। আমি পাঁচ হাজারের নিচে বেচব না। আপনি কিনলে কেনেন, না কিনলে চলে যান। কাপড়টা খুলে রেখে যান।’
ততক্ষণে ভিড় জমে গেছে। জনতা বলে, ‘সাইকেলওয়ালার কথা ঠিক। আপনি দেন পাঁচ হাজার টাকা।’
অগত্যা ভদ্রলোক পাঁচ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হলেন।

(…..এটাকে বলে নেগোসিয়েশন )

দর-কষাকষি। এটাতে কেউ জেতে, কেউ হারে। তবে এই ভদ্রলোক এই পাঁচ হাজার টাকার শোক কি আর ভুলতে পারবেন? তাঁর সবচেয়ে বেশি করে যে কথাটা মনে হবে তা হলো, ‘কেন আমি সাইকেলওয়ালাকে আটকাতে গেলাম। একটুখানি কাপড় ছিঁড়েছিল, সেটা তো আমি মেনেই নিয়েছি, এখনো সেই ছেঁড়া কাপড়ই পরে আছি, তাহলে মাঝখান থেকে আমার পাঁচ হাজার টাকা নেই হয়ে গেল ?’

নয়.

কৃষি বৃষ্টিনির্ভর। পরিমিত বৃষ্টিপাত ফসল ফলাতে সহায়তা করে।
বর্ষায় নদ-নদী হয় পূর্ণযৌবনা। ফিরে পায় মৌলিক সৌন্দর্য। সবুজ ঘাস আরো সবুজ হয়ে ওঠে। যতদূর চোখ যায় শুধুই পানি। তারপর লম্বা একটি গ্রামের রেখা। তার উপরে মেঘ আর মেঘ। বিলে ঝিলে ফোটে শাপলা-শালুক। হিজল আর কেয়াফুলের অরূপ দৃশ্যদেয় নতুন মাত্রা।
প্রকৃতি জানে হৃদয় কাড়তে। রূপের আকর্ষণে করে উতলা । সাহিত্য-সংগীতে আবাহন শোনা যায় কবি ও শিল্পীর রচনায়। বর্ষার রূপ। রং। ভেজা গন্ধ। সব কিছুই আপন মহিমা আর সৌন্দর্যে ভাস্বর। জীবন ও সাহিত্যের আঙিনায়।

দশ.

অলিম্পিকে দুজন প্রতিযোগী দৌড়াল। একজন আমেরিকান। একজন রাশিয়ান। আমেরিকান দৌড়বিদ সোনা জিতল।
রাশিয়ার কাগজ প্রাভদায় খবর ছাপা হলো। এবার অলিম্পিক দৌড়ে রাশিয়া খুব ভালো করেছে। তারা দ্বিতীয় হয়েছে। আমেরিকান দৌড়বিদ খুব খারাপ করেছে। তারা শেষের জনের সামনে ছিল।
(….. এটাকে বলা হয় রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম )

এগার.

বিপন্ন মানুষ। রয়েছে প্রকৃতির চেয়ে দূরে। সামাজিক দূরত্বে। সঙ্গরোধে। বর্ষার মাতাল হাওয়ার সাথে রয়েছে করোনার পাগলা হাওয়া। এমন বর্ষা অচিন্তনীয়। অভূতপূর্ব। তবু বর্ষা তার মেঘে ও বর্ষণের জলকণায় ভরপুর সাহসে। প্রেমে সিক্ত করবে বাংলার পবিত্র ভূমিতট। চেতনার মর্মমূল। উড্ডয়মান কৃষ্ণমেঘ যেমন বিলীন হয় আশাবাদী বৃষ্টিতে। করোনার বিপদও তেমনি হারিয়ে যাবে একদিন। কোনো এক বর্ষায় তুমুল বর্ষণের প্রবহমান জলস্রোতে।


ট্যাগ :

আরো সংবাদ