শনিবার, ৬ জুন ২০২০ ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangladesh Total News

কুতুবদিয়া উওর ধুরুং নয়া কাটা জামে মসজিদ পানিতে ডুবে গেছে

প্রকাশের সময় : ২২ মে, ২০২০ ৭:২৬ : অপরাহ্ণ

কে এম আবুল কাশেম:ছয়শত বছরে পা দিয়েছে আমাদের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া। বঙোপসাগরের বুকে জেগে উঠে প্রায় চর্তুদশ শতকে, ২১৬ বর্গকিলোমিটারের এই দ্বীপের গঠন প্রকৃতি যদি ও অনেক আগের। সাগরের সাথে আমাদের যেমন মিতালি রয়েছে তেমনি আবার আজন্ম বৈরীতা। পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে বেড়ে উঠেছে আমাদের শৈশব কৈশোর। একদিকে সাগরের নোনা জল আমাদের বিলীন করতে চাই অন্যদিকে এই সাগরই আমাদের জীবীকার যোগান দিচ্ছে। সাগরের লইট্টা মাছের পুষ্টি গুণে সমৃদ্ধ কুতুবদিয়া প্রসব করেছে হাজার হাজার মেধাবী ও দক্ষ নাগরিক। যারা আজকে ভাল ভাল বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, বুয়েটে কুতুবদিয়ার প্রতিনিধিত্ব করছে।

পর্যটন জেলায় ৯ শত খ্রিস্টাব্দে সাগর বক্ষে জেগে উঠা দ্বীপ কুতুবদিয়া এখন চরম অস্তিত্ব সংকটে। ইতোমধ্যে সাগরে বিলীন হয়েছে এক-তৃতীয়াংশ এলাকা। চারপাশে অব্যাহত ভাঙ্গনে কুতুবদিয়ায় চলছে এখন সকাল বিকাল জোয়ারভাটা। কুতুবদিয়া অচিরেই সাগরে বিলীন হয়ে যাবে এনিয়ে শঙ্কিত দ্বীপবাসী। প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ১৯৯১ এর পরে বিধ্বস্ত পুরো কুতুবদিয়া তৎকালীন সরকারের আমলে ব্যাপক পুনর্বাসন, বাঁধ নির্মাণ ও সাইক্লোন শেল্টার প্রতিষ্ঠার করার দীর্ঘ কয়েকযুগ অতিবাহিত হলেও অবহেলিত দ্বীপাঞ্চল কুতুবদিয়ার প্রয়োজনীয় সংস্কার ও বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ না হওয়ায় প্রতিবছর দ্বীপ ক্ষয় হয়ে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় এ মুহূর্তে বিলীন হওয়ার পথে দ্বীপাঞ্চল কুতুবদিয়া।

একসময়ের বাতিঘরের জন্য বিখ্যাত কুতুবদিয়া দ্বীপ, পূর্বদিকে আঁকাবাঁকা নদী সারি সারি প্যারাবন। উত্তরে একমাত্র খরস্রোতা নদী-কর্ণফুলী, পশ্চিমে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সমুদ্র সৈকত, শামুক, ঝিনুক এবং ঝাঁকে ঝাঁকে লাল কাঁকড়া। দক্ষিণে সীমানাহীন লবণের মাঠ, উত্তর-পশ্চিম, পূর্ব দক্ষিণ যে দিকেই তাকাই মাঝি-মাল্লার দেখা মিলে, চারদিকে বঙ্গোপসাগরে ঘেরা ২১৫ বর্গ কিলোমিটারের এই দ্বীপটি প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদে ভরপুর।

হযরত শাহ আব্দুল মালেক কুতুব আউলিয়ার পুণ্যভূমি, পর্যটক সম্ভাব্য এলাকা, ক’দিন আগের কথা, গ্রাম-বাংলার চিরচেনা সব ঐতিহ্য বিরাজমান ছিল। কুতুবদিয়াবাসীর ছিল গোলাভরা ধান, পুকুর ভরা মাছ, গোয়াল ভরা গরু, মহিষ, ছাগল, মাঠে-ঘাটে সোনালী ফসল, নদী খালে সোনালী রুপালী নানা প্রজাতির মাছ। কিন্তু এসব আজ হারিয়ে যাচ্ছে আগ্রাসনী সমুদ্রের কবলে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য কোন অংশে পিছিয়ে নেই এই এলাকা। শিক্ষার হার বিবেচনায় কক্সবাজার জেলায় শীর্ষে অবস্থানে রয়েছে। এই ছোট্ট জনপদের লোকজন মানব সম্পদে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের সচিবালয় থেকে শুরু করে নানা পদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে এই এলাকার কৃতি সন্তানেরা। এই অঞ্চলের লোকজন পেশায় সামুদ্রিক মাছ আহরণ ও লবণ চাষাবাদে জড়িত। কিন্তু প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা, মানবসৃষ্ট ধূম্রজালে তালবেতাল হয়ে পড়েছে। এই এলাকার জনজীবন, হারিয়ে ফেলেছে জীবন যাত্রার ছন্দ। তীব্র রোদে লবণ চাষীরা ব্যস্ত সময় পার করছে। অপরদিকে মাছ আহরনে সমুদ্রের পাড়ে আর সাগরে দম ফুরানোর সময় পাচ্ছেনা।

কুতুবদিয়ায় বলতে গেলে কোন মানুষ বেকার নেই। এলাকায় যার যার মত কাজে ব্যস্ত থাকে সবসময় মানুষ। বর্তমানে আইনশৃংখলা পরিস্থিতিও ভালো রয়েছে। দ্বীপের সকল মানুষ হাজারো স্বপ্ন নিয়ে প্রতিকুলতার মাঝে সমুদ্র উপকণ্ঠে বসবাস করে আসছে লাখো মানুষ। শিক্ষা, সংস্কৃতি ঐতিহ্য নিয়ে অগ্রসর হতে চাইলেও বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বর্ষা এলেই আতঙ্ক বিরাজ করে দ্বীপবাসীর মাঝে। বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস লন্ড-ভন্ড করে দেয় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।দুর্যোগের কারণে সহায় সম্পত্তি, বসতবাড়ি জমি জমা হারিয়ে নিঃস্ব হতে হচ্ছে মানুষ । দ্বীপবাসীর মাঝে হতাশা চরমভাবে লক্ষণীয়, প্রতিনিয়ত পানির স্বাভাবিক উচ্চতা বাড়ছে। নিম্নাঞ্চল জোয়ারের পানিতে ভাসছে। যার ফলে উদ্বাস্তু মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, ভাসমান পরিবার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ এক বিভীষিকাময় জীবন, নিয়তির কাছে হার মানতে হচ্ছে দ্বীপবাসীর। একবার ঘূর্ণিঝড়ে সব হারায় আবার নদী ভাঙনে বিলুপ্ত করে অস্তিত্বকে, তবুও মায়ার টানে ঠাঁই নেয় আগ্রাসনী সমুদ্রের তীরে।

আফসোস!
বড়ই আফসোস হয়। যখন সাম্প্রতিক ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, আমরা কুতুবদিয়াকে হারাতে যাচ্ছি। হায়রে মাতৃভূমি, যেখানে আমার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে, এখনো সময় সুযোগ হলে নাড়ির টানে ছুটে যায় কুতুবদিয়ার পানে।বাংলাদেশের হেভিওয়েট জায়গা গুলোতে গিয়ে আমরা গর্ব করে বলি আমরা কুতুবদিয়ার মানুষ, হয়ত ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বলতে পারবেনা আমরা মেধাবী হয়েছি তাজা লইট্যা মাছ খেয়ে। কুতুবদিয়া তুলনামূলক ভাবে অনেক রত্ন ধারণ করেছে, সরকারের উচুঁ থেকে নিচুতে সবজায়গায় আমাদের লোক আছে। তেমনি জন্ম দিয়েছে বাঘা বাঘা রাজনীতিবিদ।কুতুবদিয়া হারালে আমরা কারো উপর দোষ চাপাতে পারবোনা,আটকাতে ও পারবনা, এমনকি পুরো কুতুবদিয়াবাসী এক হলে ও না। এখন ইয়া নফসি ইয়া নফসি।।।

ক্ষণজন্মা কুতুবদিয়ার ভাগ্যের নির্মম পরিহাস।প্রকৃতির ছোঁয়ার পরশে, সাগরের কোলে ঘুমিয়েছি,ঘুম ও ভেঙেছে তারই গর্জনে।সাগরের সাথে আমাদের কি মিতালি। কিন্তু এখন প্রকৃতি কুতুবদিয়াকে চাই না।আমাদের আগের মত আর আদর করেনা, তবে সময় সুযোগ পেলে ফানা তুলে, আমাদের গ্রাস করতে চাই।এতে আমাদের দায় কি,আমরা কি প্রকৃতির সাথে দাঙ্গা করব?ধরে নিলাম প্রকৃতির সাথে আমাদের মিতালী হয়ে গেছে,আমাদের বড় বড় আমলা, রাজনীতি বিদদের প্রচেষ্টায় চারিদিকে বেড়িবাঁধ ও হয়ে গেল, তারপরও কুতুবদিয়াকে আমরা হারাচ্ছি, কুতুবদিয়াবাসি তাদের আবাসস্থল হারালে কুতুবদিয়ার উন্নয়ন ধুয়ে কি তারা পানি খাবে?

আমার শ্রদ্বেয় একজন স্যার সব সময় বলেন, কক্সবাজার ছেড়ে পালাতে হবে। সামনে কক্সবাজার বসবাসের উপযোগী থাকবেনা।এই কক্সবাজারের উপর হায়েনার চোখ পড়েছে, অঢেল পুজির প্রবাহে কক্সবাজারকে বিকলাঙ্গ করে ছাড়বে।নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়!তাই কুতুবদিয়া বাদ যাবে কেবা করে।কক্সবাজারে সর্বশেষ টার্গেট হতে যাচ্ছে কুতুবদিয়া। দ্বিমুখী আঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে কুতুবদিয়াকে, প্রকৃতি আমাদের ছাড় দেবেনা, সাগরের জোয়ারের প্রবাহ,সাম্রাজ্যবাদী হায়েনাদের টাকার প্রবাহ।

কি মনে করছেন! বাপদাদার ভিটা মাটি ছেড়ে যাবেন না আবাসস্থল আঁকড়ে ধরে মরবেন তাতো হবেনা।আপনাকে বাধ্য করা হবে দুদিক থেকেই। টেকসই বেড়িবাঁধ হবেনা,বেড়িবাঁধের জন্য বাজেট হবে মাগার টাকা খরচ হবেনা, আস্তে আস্তে বেড়িবাঁধ বিলিন হবে, সমুদ্রের পানি বেড়ে যাবে গ্রীন হাউজ গ্যাসের কারণে,ঘন ঘন রাজনীতিবিদ ও এমপি মন্ত্রীর শোডাউন হবে লাকিন পানি আটকাতে পারবেন না।পানিতে বসবাস করবেন? তো নো টেনশন নৌকা বানিয়ে বসবাস করুন পুরো বঙোপসাগর ত আপনার। দুঃখিত সরকার যদি ৬৫দিন সাগর বন্ধ ঘোষনা করে তখন আপনার দায়িত্ব আমি নিতে পারবনা।

মাতারবাড়ির দিকে একবার তাকান,চারিদিকে বাঁধ দিয়ে তাদেরকে বৃষ্টির পানিতে বন্দি করা হয়েছে, স্লুইসগেট শব্দটি তাদের ডিকশনারি থেকে তুলে দেওয়া হয়েছে। শাক সবজি ত নেই মাছ মাংসের দাম হাজার টাকার উপরে। তাই অনেকে কয়লা বিদুৎ ধুয়ে পানি খাচ্ছে তারপর ও যদি ক্ষুধা মিটে!কুতুবদিয়াই ও একই হাল হবে।প্রথম আলোতে রিপোর্ট হয়েছে কুতুবদিয়াই হায়েনাদের টাকার প্রবাহের নামে শিল্প আসতেছে।শিল্পকে আমরা আহলান সাহলান মারহাবা জানাই।

এবার বুঝোন বেড়িবাঁধ কেন হচ্ছে না। প্রকৃতিকে দিয়ে আপনাকে কুতুবদিয়া থেকে বের করবেন। তারপর বেড়িবাঁধ হবে,সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে বিদ্যুৎ আসবে,উন্নয়ন হবে, উন্নয়নে আকাশ চুবে।আপনি দেখতে ও আসতে পারবেন না। সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ নিষেধ। একদিন মগনামা, রাজাখালী, বাঁশখালীর সমুদ্রতটে দাড়িয়ে গর্ব করে বলবেন আমরা কুতুবদিয়াবাসি, ঐ যে কি সুন্দর আলোকসজ্জা দেখা যাচ্ছে ঐখানেতে একসময় আমরা বাস করতাম এখন হায়েনাদের শিল্পের বাস।আপসোস রাজনীতিবিদদের জন্য আপনারা রাজনীতি কোথায় করবেন? অন্য জায়গায় গিয়ে সভাপতি বা সম্পাদক ত হতে পারবেন না তবে প্রাথমিক কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করতে পারবেন।তবে রাজনৈতিক কামড়াকামড়ি ত আর করতে পারবেন না।


ট্যাগ :

আরো সংবাদ