বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangladesh Total News

ফটিকছড়িতে ভূমিহীন ও গৃহহীন ৬শত পরিবার পাচ্ছেন নতুন ঘর

প্রকাশের সময় : ২২ জানুয়ারি, ২০২১ ৭:০৭ : অপরাহ্ণ

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম,ফটিকছড়ি:মুজিব শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ৬ শত সেমিপাকা টিনশেড ঘর পাচ্ছেন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার।ইতোমধ্যে ৭০ টি ঘরের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রথম পর্যায়ে পাইন্দং, সুয়াবিল, ভূজপুর এবং কাঞ্চননগর ইউনিয়ন এ ৭০ টি গৃহ নির্মাণ করা হয়েছে। এরমধ্যে পাইন্দং এ ২৬ টি , কাঞ্চননগরে১০টি, সুয়াবিলে ২২ টি এবং ভূজপুরে ১২ টি গৃহ নির্মাণ করা হচ্ছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ফটিকছড়ি পৌরসভায় ৭৫ টি,খিরামে ১০০টি, পাইন্দং এ ১৯৯ টি, ভূজপুরে ৮৮ টি,সুয়াবিল ১৩ টি, নারায়ণহাটে ১০ টি, বাগানবাজারে ৩০ টি ধর্মপুর ১টি সর্বমোট ৫৩০ টি গৃহ নির্মাণ এর কাজ চলমান রয়েছে।
অন্যান্য ইউনিয়নে ‘এখনই গৃহ নির্মাণ উপযোগী’ খাস জমির অপ্রাপ্যতার কারণে এখন গৃহ নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। নির্মিত ও নির্মাণাধীন ঘরসমূহে সমগ্র ফটিকছড়ি উপজেলা হতে “ক” শ্রেণির ভূমিহীনদের পুনর্বাসন করা হবে। উক্ত ঘরসমূহ খাস জমিতে নির্মাণ করা হচ্ছে। এই উপলক্ষে ইতোমধ্যে ৩২.৫৬ একর খাস জমি অবৈধ দখলদারদের থেকে উদ্ধার করা হয়।
ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায় হতে জনপ্রতিনিধিদের পাঠানো তালিকা কঠোর ভাবে মূল্যায়ন ও সঠিকতা যাচাইপূর্বক “ক” শ্রেণির ভূমিহীন তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। উক্ত তালিকা হতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ৬০০টি ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। প্রত্যেক গৃহ নির্মাণ বাবদ ১,৭১,০০০/- টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। উপকারভোগীদের জন্য
এসব ঘর ২ কক্ষ বিশিষ্ট রান্না ঘর বারান্দা ও সুপেয় পানির সরবরাহ নিশ্চিতকল্পে প্রকল্প স্থানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক গভীর নলকূপ ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহায়তায় বিদ্যুৎ এর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
কমিউনিটি স্থাপনের নিত্যপ্রয়োজনীয় অনুসঙ্গ- মসজিদ/ধর্মীয় স্থান, কবরস্থান, বিদ্যালয় ও খেলার মাঠের জন্য প্রকল্পস্থলে আলাদা আলাদা জায়গা রাখা হচ্ছে। প্রকল্পস্থলে যাতায়াত ব্যবস্থা সুগম রাখার জন্য উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে রাস্তা নির্মাণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে আগামী এপ্রিল ২০২১ মাসের মধ্যে ৬০০ ঘর নির্মাণ কাজ শেষ করে উপকারভোগীদের মাঝে হস্তান্তর করা হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল হোসেন বলেন, ফটিকছড়ি উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া হালদা ও ধুরুং নদী হাজারো পরিবারকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। তাদের বসত ভিটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আবার নতুন করে বাঁধ নির্মান করার কারনে যা ছিল তাও ছেড়ে দিতে হয়েছে। তাছাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আরো হাজারো পরিবার রয়েছে, যাদের জায়গা ও ঘর নেই। এসব পরিবার গুলোর প্রথম পর্যায়ে ৬ শত পরিবার ঘর পাচ্ছে।

ঘর গুলোর নির্মাণ কাজে সর্বদা তদারকি করছেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সায়েদুল আরেফিন। তিনি বলেন,বাংলাদেশের একজন মানুষ ও গৃহহীন থাকবে না প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন ৬ শত জনের তালিকা করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ২৩ জানুয়ারী ৭০ টি ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হবে। আরো ২ শত ঘর নির্মাণাধীন রয়েছে। আগামী এপ্রিল মাসে বাকী ঘরের কাজ সম্পন্ন হবে।

এদিকে ২৩ জানুয়ারি গৃহ হস্তান্তর অনুষ্ঠান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে সারাদেশ ব্যাপী গৃহগুলোর শুভ উদ্বোধন করবেন। ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদের বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক সম্মেলন কক্ষে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হবেন ফটিকছড়ির থেকে নির্বাচিত এমপি ও বাংলাদেশ ত্বরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী এমপি, মহিলা এমপি খাদিজাতুল আনোয়ার সনি, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হোসাইন মোহাম্মদ আবু তৈয়্যব সহ রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গরা।


ট্যাগ :

আরো সংবাদ