শনিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২১ ৯ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangladesh Total News

চাষ আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর করা গেলে ঝিনাইদহের ফুল বিশ্ব বাজারে স্থান পাবে: সফল উদ্যোক্তা জমির উদ্দীন

প্রকাশের সময় : ১৪ জানুয়ারি, ২০২১ ৬:১৬ : পূর্বাহ্ণ

এম এ কবীর, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহসহ দক্ষিনাঞ্চলে ফুল চাষে অনুসরনীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন জমির উদ্দীন। তার হাত ধরে সমৃদ্ধ হয়েছে ঝিনাইদহের ফুল চাষ। বাণিজ্যিক ভাবে ফুল চাষ করে লাভবান হওয়া যায় তার দৃষ্টান্ত হচ্ছেন চাষী জমির উদ্দীন। ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের ফুল চাষে উদ্বুদ্ধ করে তিনি চাষি ও ব্যবসায়ীদের কাছে ব্যাপক পরিচিত পেয়েছেন।
২০১৮ সালের ঢাকায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ফুল মেলায় দক্ষ ফুল চাষি হিসেবে তাকে পুরস্কার দেয়া হয়। জমির উদ্দীনের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দলকা লক্ষিপুর হলেও ১৯৯৬ সাল থেকে ঝিনাইদহে বসবাস করেন। ২৫ বছরের ফুলমাখা জীবনে তার হাত ধরে আলোকিত হয়েছেন অনেক ফুলচাষি। জমির উদ্দীন বর্তমানে ঝিনাইদহ শহরের ব্যাপারীপাড়ার আব্বাস উদ্দীন সড়কে ‘জমির ফুল ঘর’র মালিক। এই ফুল ব্যবসা তার সংসার জীবন বদলে দিয়েছে। নিজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি তিন ভাইকে করেছেন স্বাবলম্বি। ১৯৯৬ সালে দামুড়হুদা উপজেলার দলকা লক্ষিপুর গ্রাম থেকে তিনি ঝিনাইদহে আসেন। তার পিতার নাম আব্দুর রহিম বিশ^াস। এক সময় তিনি ফেরি করে ট্রেনে রজনীগন্ধা ফুলের স্টিক বিক্রি করতেন। পরবর্তীতে তিনি জমি লীজ নিয়ে সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নে ফুল চাষ শুরু করেন। তার দেখাদেখি জেলার কালীগঞ্জ ও মহেশপুরে ফুলচাষ শুরু হয়। তিনি চাষিদের ফুল চাষে নানা ভাবে উদ্বুদ্ধ করেন। বর্তমান তিনি ঝিনাইদহ ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষনা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। এই উদ্যোক্তা ফুল ব্যবসায়ী জমির উদ্দীন জানান, ব্যবসার পাশাপাশি তিনি এখনো ফুল চাষ করেন।
ঝিনাইদহ থেকে ঢাকাসহ সারা দেশে ফুল বিক্রির জন্য পাঠানো হয়। যশোরের গদখালীতে ইউএসএইড এর অর্থায়নে নির্মিত কোল্ডস্টোর পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য জমির। তার প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ কৃষি বিপনন অধিদপ্তরের উদ্যোগে গান্না বাজারে ফুল বিক্রির সরকারী মার্কেট নির্মিত হয়। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ফøাওয়ার সোসাইটির সাংগঠনিক সম্পাদক জহির উদ্দীন মোঃ বাবর জানান, ঝিনাইদহের মাটি ফুল চাষের জন্য উপযোগী। এখানকার কৃষকরাও বেশ দক্ষ ও বিভিন্ন জাতের ফুল চাষে পারদর্শী। রাজধানী ঢাকার সাথে ঝিনাইদহের যোগাযোগ ব্যবস্থা অন্যান্য জেলার তুলনায় ভাল হওয়ায় ঝিনাইদহের ফুল সারাদেশে বিক্রি হচ্ছে। বাবর জানান, আমরা কৃষি বিপনণ অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে কালীগঞ্জের বালিয়াডাঙ্গায় ফুল বিক্রির সরকারী মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন প্রত্যেক উপজেলায় পর্যায়ক্রমে জায়গা নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া সরকারের কাছে গাদা ফুল সংরক্ষনে বরফ কল ও কুলিং সেন্টার স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে চাষি ও ব্যবসায়ীরা ফুল সংরক্ষণ করতে পারে। এছাড়া চাষিদের আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর দক্ষ করা গেলে ঝিনাইদহের ফুল বিশ^ বাজারে স্থান করে নিতে পারবে।


ট্যাগ :

আরো সংবাদ