রোববার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১ ৩রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangladesh Total News

শিরোনাম :

আলো দেয়ার জন্য নিজেকেই পুড়তে হয়: এম এ কবীর

প্রকাশের সময় : ১৪ জানুয়ারি, ২০২১ ৬:৩৯ : পূর্বাহ্ণ

বিজ্ঞান,আদর্শ ও ধর্ম, যুগ যুগ ধরে চর্চিত হয়েছে মানব কল্যাণে। পৃথিবীর ইতিহাসে কম সময় নয়। বহুদিন ধরে মানুষ ক্রমশ মানুষ হয়ে উঠছে। হঠাৎ এই মানুষ হওয়ায় ছেদ পড়ে গত শতকের শেষ দশকের দিকে। মানুষ যেন নিজেই অমানুষ হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এই শতকে এসে মানুষ কল্যাণের ধর্মগুলোকে অকল্যাণের দিকে নিয়ে যেতে শুরু করে। আর এই আত্মহননে বলি হচ্ছে পৃথিবীর লাখ লাখ নিরাপরাধ মানুষ।ভাবনা থেকে সৃষ্টির যাত্রা শুরু। ভাবনা যেটাই হোক,সেখানে যদি ঘুমন্ত একটা স্বপ্ন থাকে তবে তা মানব সভ্যতার মহামূল্যবান সম্পদও হতে পারে। ভাবনারও ভাবনা থাকে।একজন বিজ্ঞানী ভাবনা থেকে ভাবনা সৃষ্টি করে অনেক আবিষ্কারের জন্ম দেয়। একজন লেখক ভাবনা থেকে কল্পনা সৃষ্টি করে একটার পর একটা সাহিত্য রচনা করে যান। একজন দার্শনিক তার নিজের দর্শনের ভাবনা থেকে অনেক ভাবনার জন্ম দিয়ে দর্শন থেকে দর্শন বের করে আনেন। ভাবনার এই শক্তি অর্থনীতি,রাজনীতি,শিক্ষা,মনস্তত্ব, নেতৃত্ব, মানবিক মূল্যবোধ ও উন্নয়ন সহ সবক্ষেত্রে প্রয়োগ করা সম্ভব। ভরাট গলায় শুনছিলাম তাঁর আবৃত্তি। মৃত্যু নিয়ে লেখা সে কবিতাটি ছিল, ‘ মৃত্যু আয় তিন পাত্তি খেলি।’ কণ্ঠ শুনে বোঝা যাবে মৃত্যুকে তিনি ভয় পান না। হয়তো পেতেন না। মৃত্যু কাউকে ছেড়ে কথা বলে না। তাঁর প্রিয়তম কবি রবীন্দ্রনাথ নিজেই লিখেছেন, ‘ মরণ বলে আমি তোমার জীবন তরী বাই।’ সময়ের এটাই নিয়ম। জীবন তরী বাইতে বাইতে একসময় মানুষকে তীরে পৌঁছে দেয় মরণ। তেমনি সৌমিত্র অধ্যায়ের অবসান ঘটে ১৫ নভেম্বর ২০২০ ইং তারিখে।
শেষ প্রান্তে চলে গেছেন কিংবদন্তি অভিনেতা,বাচিক শিল্পী,নায়ক,অসাধারণ মানুষ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।
১৯৩৫ সালে ১৯ জানুয়ারি নদীয়ার কৃষ্ণনগরে এক সাংস্কৃতিক পরিবারে তার জন্ম। বাবা মোহিত কুমার চট্টোপাধ্যায় আইনজীবী ও মঞ্চঅভিনেতা। মা আশালতা চট্টোপাধ্যায়ও যুক্ত ছিলেন মঞ্চনাটকে। তিনি স্থানীয় নাটকের দল ‘প্রতিকৃতি’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন।
সৌমিত্রের স্কুলজীবন কেটেছে কৃষ্ণনগরের সেন্ট জোনস বিদ্যালয়ে। কলকাতা সিটি কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক এবং কলকাতা বিশ^বিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর করার ফাঁকেই নির্দেশক অহীন্দ্র চৌধুরীর হাত ধরে মঞ্চনাটকে তার অভিষেক।
উইলিয়াম শেক্সপিয়রের ‘কিং লেয়ার’ অবলম্বনে সুমন মুখোপাধ্যায়ের ‘রাজা লিয়র’ নাটকে নামভূমিকায় অভিনয় করে দারুণ প্রশংসিত হন। সৌমিত্রকে মনে ধরেছিল সত্যজিতের। ১৯৫৯ সালে অপু ট্রিলজির শেষ চলচ্চিত্র ‘অপুর সংসার’-এ তরুণ অপুর চরিত্রে সৌমিত্রকেই তিনি বেছে নেন। সত্যজিতের ৩৪ টি সিনেমার মধ্যে ১৪ টিতেই অভিনয় করেছেন সৌমিত্র। অপুর পর সত্যজিতের সৃষ্টি আরেক চরিত্র ফেলুদাকে সিনেমার পর্দায় সৌমিত্র নিয়ে গেছেন অন্য মাত্রায়।সাত পাকে বাঁধা, চারুলতা, বাক্স বদল, আকাশ কুসুম, মণিহার, কাঁচ কাটা হীরে, ঝিন্দের বন্দি, অরণ্যের দিনরাত্রি, সোনার কেল্লা, জয় বাবা ফেলুনাথ, হীরক রাজার দেশে, ঘরে বাইরে, আবার অরণ্যে‘র মতো সিনেমার মধ্য দিয়ে সৌমিত্র স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন দর্শকের হৃদয়ে।
অভিনয় ছাড়াও নাটক ও কবিতা লিখেছেন, যুক্ত হয়েছেন মঞ্চ নাটকের নির্দেশনায়, দ্যুতি ছড়িয়েছেন আবৃত্তির মঞ্চেও। চলচ্চিত্রে ভারতের সর্বোচ্চ সম্মাননা দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার ছাড়াও ফ্রান্স সরকারের ‘ লিজিয়ন অব দ্য অনার’ পদকে ভূষিত হয়েছেন এই অভিনেতা। ২০০৪ সালে তাকে ‘পদ্মভূষণ’ খেতাবে ভূষিত করে ভারত সরকার।তিনি একজন গভীরতম অনুভবের কবি। তাঁর ১৪টি কবিতার বই রয়েছে। নির্মাল্য আচার্যের সঙ্গে সম্পাদিত এক্ষণ বাংলা সাহিত্যের সম্পদ। সুনীল, শক্তির মতো কবিরাও তাঁকে সমীহ করতেন। তিনি মনে করতেন সহজ ঠান্ডা অতি অভিনয়হীন অভিনয়-ই আসল অভিনয়। আবার এও মনে করিয়ে দিয়েছেন কিছু তো করতেই হবে অভিনয়ে। নাহলে তা অভিনয় হবে কোন কারনে? সে কিছু করাটার জন্য চাই প্রচুর পাঠ মেধার অনুশীলন আর ঐকান্তিক বিনয়। উদ্ধত বাঙালি সমাজের বিনয়ী অভিনেতা বেলাশেষের সৌমিত্র আজ হারিয়ে গেলেন অন্ধকারের আলোয়। যেখান থেকে দ্যুতি মিললেও দেখা মিলবে না।বিশ^কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বিশ^বিখ্যাত বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন বিভিন্ন সময়ে ভাবনার আদান প্রদান করেছেন। এই ভাবনায় সাহিত্য বিজ্ঞানকে ও বিজ্ঞান সাহিত্যকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
রবীন্দ্রনাথ ও আইনস্টাইনের মধ্যে প্রথম যোগাযোগ । রবীন্দ্রনাথ সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে আসার পর সাংবাদিকেরা তাঁকে প্রশ্ন করলেন, ‘এইমাত্র আপনি একজন বিশ^খ্যাত বিজ্ঞানীর সঙ্গে কথা বললেন, আপনার প্রতিক্রিয়া কী?’ রবীন্দ্রনাথ উত্তর দিলেন, ‘আমি তো একজন বিশ^খ্যাত কবির সঙ্গে কথা বললাম।’এরপর সাংবাদিকেরা আইনস্টাইনের সাথে আলাপ প্রসঙ্গে বললেন, ‘ আপনি একজন বিশ^কবির সঙ্গে কথা বললেন, আপনার প্রতিক্রিয়া কী?’ আইনস্টাইন উত্তর দিলেন,
‘আমি কবির সঙ্গে কথা বলিনি, আমি একজন বিশ^খ্যাত বিজ্ঞানীর সঙ্গে কথা বলেছি।’
ভাবনার বড়ত্ব ও উদারতা এখানেই। যা দেখা যায় না, উপলব্ধি করা যায় না কিন্তু
ঘটেযায় অভূতপূর্বভাবে।

আমেরিকার রাজনৈতিক সংকট নতুন কিছু নয়। এর চেয়ে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হয়েছিল আব্রাহাম লিংকনের সময়। আনুষ্ঠানিকভাবে দাস প্রথা বিলুপ্ত করেন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন। কালোদের অন্ধকার জীবনের আলো ফিরিয়ে দেন তিনি। দক্ষিণ আমেরিকানরা তা মেনে নিতে পারেনি। তারা ছিলেন কালোদের দমিয়ে রাখা এবং দাস প্রথার পক্ষে। টানটান উত্তেজনা আমেরিকা জুড়ে। সবাই ভেবেছিলেন ক্ষমতার কথা ভেবে আব্রাহাম লিংকন পিছু হটবেন। সাতটি প্রদেশের দাস প্রথার অনড় অবস্থানের পক্ষে থাকবেন। কিন্তু তাঁর নাম আব্রাহাম লিংকন। তিনি নিজের অবস্থান থেকে এক চুলও সরলেন না। এতে শুরু হলো গৃহযুদ্ধ। একদিকে দক্ষিণ আমেরিকানরা। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট লিংকন। যুদ্ধ চলতে থাকে। সেই যুদ্ধে মারা যান আট হাজার মানুষ। সারা বিশ^ হতবাক হয়ে দেখল আমেরিকানদের কান্ড। কিন্তু একজন আব্রাহাম লিংকন সবকিছু সামাল দিয়ে পরিস্থিতি বদলাতে থাকেন। শোক আর অশ্রুতে ভাসল আমেরিকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে কৌশলী ভূমিকা নেন প্রেসিডেন্ট। যুদ্ধ আর শান্তি কামনায় চলল তাঁর কাজ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে নিহতদের স্মরণসভায় তিনি দেন দুনিয়া কাঁপানো ভাষণ।পেনসিলভেনিয়ার গেটিসবার্গে সেই ভাষণে তিনি বলেছিলেন,
‘‘গভর্মেন্ট অব দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল, ফর দ্য পিপল’’ অর্থাৎ ‘জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা সরকার, জনগণের জন্য সরকার।’
সেই ভাষণ আজও দুনিয়াকে তোলপাড় করে চলছে। এই অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা ছিলেন অ্যাডওয়ার্ড এভার্ট। তখনকার সময় তাঁর চেয়ে ভালো বক্তা আর কেউ ছিলেন না। মানুষ লাইন ধরে যেত তাঁর বক্তৃতা শুনতে। কিন্তু ইতিহাস সবাই রচনা করেন না। একজন থাকেন আলাদা করে। অ্যাডওয়ার্ড এভার্ট বক্তব্য রাখলেন প্রায় দুই ঘণ্টার কাছাকাছি। আর মাত্র দুই মিনিট বললেন লিংকন। সেই দুই মিনিটে কেঁপে উঠল বিশ^। বদলে গেল গণতন্ত্রের সংজ্ঞা। তৈরি হলো আমেরিকানদের আবেগ। তারপরের ইতিহাস ভীষণ নিষ্ঠুর। পাঁচ বছরের গৃহযুদ্ধ অবসানের মহানায়ক শেষ পর্যন্ত নিজেকে রক্ষা করতে পারলেন না। পারলেন না বাঁচতে। স্ত্রীকে নিয়ে গিয়েছিলেন থিয়েটার দেখতে। মনটা ছিল ফুরফুরে। হঠাৎ থিয়েটারের একজন অভিনেতা জন উইলকেস বোথ কাছ থেকে গুলি করলেন। এক দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে পরাজিত হন আব্রাহাম লিংকন । ১৮৬৫ সালের ১৫ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন।
১৮৬০ সালে রিপাবলিকানদের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। পরের বছর ভোটে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েন। রিপাবলিকান পার্টির এই নেতা ছিলেন মানবিক। মানবতার ডাকে সাড়া দিয়ে নিয়েছিলেন বিভিন্ন কর্মসূচি। সাতটি প্রদেশ কনফেডারেট গঠন করে গৃহযুদ্ধের কবল থেকে আমেরিকাকে রক্ষা করেন। বিলুপ্ত করেন দাস প্রথা।
জীবন যুদ্ধে পুড়তে পুড়তে নিজেকে নতুন করে জ¦ালিয়েছেন বাইডেন।
তেরো শতকের বিখ্যাত কবি জালাল উদ্দিন রুমি বলেছেন, ‘মোমবাতি হওয়া সহজ কাজ নয়। আলো দেয়ার জন্য প্রথমে নিজেকেই পুড়তে হয়।’ রুমির কবিতার আরেকটি লাইন আছে, ‘ সিংহকে তখনই সুদর্শন দেখায় যখন সে খাবারের খোঁজে শিকারে বেরোয়।’
এই জগতে সব কাজের ভালোমন্দ আছে। ঈশ^রচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছাত্র থাকাকালে একবার বাড়িতে গেলেন। দেখলেন গ্রামের বিধবা নারীরা ভয়াবহ দুঃখ-কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। ব্যথিত হয়ে কলকাতা ফিরে বিধবা নারীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে কথা বলা শুরু করলেন ঈশ^রচন্দ্র। ব্যস আর যায় কোথায়। ধর্মবিদরা তাঁর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াল। ঈশ^রচন্দ্র বুঝলেন, ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা নিয়েই তাদের সঙ্গে লড়তে হবে। তিনি তাই করলেন। শুরু করলেন পড়া। দেখলেন ধর্মে পরিষ্কারভাবে বিধবা বিয়ের কথা রয়েছে। শাস্ত্রীয় প্রমাণ নিয়ে তিনি দাঁড়ালেন বিধবা নারীদের পক্ষে। বেদে পরিষ্কারভাবে রয়েছে, ‘হে নারী! মৃত পতির শোকে অচল হয়ে লাভ কী বাস্তব জীবনে ফিরে এসো। পুনরায় তোমার পাণি গ্রহণকারী পতির সঙ্গে তোমার আবার পতিত্ব তৈরি হবে।’ বিদ্যাসাগর নতুন ভাবনায় কাজ শুরু করলেন। থাকলেন সত্য ও সুন্দরের পক্ষে। নিজের সন্তানের শিক্ষককে চিঠি লেখেন আব্রাহাম লিংকন। চিঠিতে লিখলেন- “মাননীয় মহোদয়, আমার পুত্রকে জ্ঞান অর্জনের জন্য আপনার কাছে পাঠালাম। তাকে মানুষ হিসাবে গড়ে তুলবেন এটাই আপনার কাছে বিশেষ দাবি। আমার পুত্রকে অবশ্যই শেখাবেন-সব মানুষই ন্যায়পরায়ণ নয়,সব মানুষই সত্যনিষ্ঠ নয়। তাকে আরও শেখাবেন, প্রত্যেক খারাপ লোকের মাঝেও একজন বীর থাকতে পারে। প্রত্যেক স্বার্থবান রাজনীতিকের মাঝেও একজন নিঃস্বার্থ নেতা থাকেন। তাকে শেখাবেন পাঁচটি ডলার কুড়িয়ে পাওয়ার চেয়ে উপার্জিত একটি ডলার অনেক মূল্যবান। এও শেখাবেন, কীভাবে পরাজয় মেনে নিতে হয় এবং কীভাবে বিজয় উল্লাস উপভোগ করতে হয়। হিংসা থেকে দূরে থাকার শিক্ষাও তাকে দেবেন। যদি পারেন নীরব হাসির গোপন সৌন্দর্য তাকে শেখাবেন। সে যেন আগেভাগে বুঝতে পারে,যারা পীড়নকারী তাদের খুব সহজে কাবু করা যায়। বইয়ের মাঝে কী রহস্য আছে তাও তাকে বুঝতে শেখাবেন। আমার পুত্রকে বলবেন, বিদ্যালয়ে নকল করে পাস করার চেয়ে অকৃতকার্য হওয়া অনেক বেশি সম্মানজনক। নিজের ওপর তার যেন সুমহান আস্থা থাকে। এমনকি সবাই যদি সেটাকে ভুল মনে করে। তাকে শেখাবেন, ভদ্রলোকের প্রতি ভদ্র আচরণ করতে, কঠোরদের প্রতি কঠোর হতে। আমার পুত্র যেন এ শক্তি পায়- হুজুগে মাতাল জনতার পদাঙ্ক অনুসরণ না করার। সে যেন সবার কথা শোনে এবং সত্যের পর্দায় ছেঁকে যেন ভালোটাই শুধু গ্রহণ করে। দুঃখের মাঝে কীভাবে হাসতে হয়, আবার কান্নার মাঝে লজ্জা নেই এ কথা বুঝাতে শেখাবেন। নির্মম নির্দয় যারা তাদের ঘৃণা করতে শেখাবেন। আর সাবধান করবেন অতিরিক্ত আরাম আয়েশ থেকে। আমার পুত্রের প্রতি সদয় আচরণ করবেন, কিন্তু সোহাগ করবেন না। কেননা আগুনে পুড়ে ইস্পাত খাটি হয়। আমার সন্তানের যেন অধৈর্য হওয়ার সাহস না থাকে,থাকে সাহসী হওয়ার ধৈর্য জানাবেন। শেখাবেন, নিজের প্রতি তার যেন সুমহান আস্থা থাকে,আর তখনই তার আস্থা থাকবে মানব জাতির প্রতি।”
আমাদের জগৎ সংসারের অনেক কিছু এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। মানবতা,সততা,নিষ্ঠা হারিয়ে গেছে। চন্দন কাঠ পুড়ে ছাই হলে কোনো মূল্য থাকে না। বিভাজনের রাজনীতি ভালো কিছু দেয় না। তারপরও আশাবাদ ছাড়া যাবে না। থাকতে হবে বাস্তবতার সঙ্গে। সত্যিকারের দক্ষ,মেধাবী রাজনীতিবিদের কোনো বিকল্প নেই। সততা,নিষ্ঠা আসমান থেকে আসে না।
লর্ড চেমসফোর্ড ১৯১৬ থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত ভারতের ভাইসরয় ছিলেন। তিনি ১৮৬৮ সালের ১২ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। তিনি উইনচেস্টার ও অক্সফোর্ডের ম্যাগডালেন কলেজে শিক্ষালাভ করেন। ১৯০৫ সালে তিনি ব্যারন হন, ১৯০৫ থেকে ১৯০৯ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড এবং ১৯০৯ থেকে ১৯১৩ সাল পর্যন্ত নিউ সাউথ ওয়েলসের গভর্নর ছিলেন। ১৯১৬ সালে তিনি ভারতের ভাইসরয় হিসেবে লর্ড হার্ডিঞ্জের স্থলাভিষিক্ত হন। মেসোপটেমিয়ায় ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর পরাজয় এবং প্রথম বিশ^যুদ্ধ যত এগোতে থাকে ভারতীয়দের তত পরিমাণ অসন্তোষ বৃদ্ধিকে অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী হিসেবে সঙ্গে নিয়ে ভারতে তাঁর শাসনকাল শুরু হয়। ব্রিটিশের যুদ্ধ প্রচেষ্টায় ভারতীয়দের আনুগত্যের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ভারতীয় বিষয়াদি দেখাশোনার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্রিটিশ রাজ্য সচিব এডউইন মন্টেগু হাউস অব কমন্সে ঘোষণা করেন, ভারতে ব্রিটিশ সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ‘ভারতে ক্রমান্বয়ে দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় সফলকাম হওয়া।’ রাজ্য সচিবকে সঙ্গে নিয়ে চেমসফোর্ড যুদ্ধের শেষ বছরে প্রতিশ্রুত সংস্কারসমূহ বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেন।

১৯১৮ সালে প্রকাশিত মন্টেগু-চেমসফোর্ড রিপোর্ট ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনে সঙ্ঘবদ্ধ করা হয়। এতে সীমিত পরিমাণ প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার এবং প্রদেশসমূহের প্রশাসনে দ্বৈতশাসন নামে পরিচিত বিভাজিত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করা হয়। প্রস্তাবিত সংস্কারসমূহ চেমসফোর্ডের শাসনামলের মেয়াদ শেষ হওয়ার অব্যবহিত পূর্বে ১৯২১ সালে চালু হয়। কিন্তু এ সংস্কারসমূহ ভারতের জাতীয়তাবাদী নেতাদের শান্ত করতে পারেনি। রাজনৈতিক অস্থিরতা বহুবিস্তৃত হয়, যা বিচক্ষণ নীতি অনুসরণ করলে এড়ানো সম্ভব হতো। কিন্তু চেমসফোর্ড অত্যন্ত অবিবেচনাপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং পারিপাশির্^ক অবস্থা গভীরভাবে অনুসন্ধান করে দেখতে যে কমিটি গঠন করেন তাতে বিচারপতি রাওলাটকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেন।ব্যারিস্টার রফিক-উল হককে হারানোর পর মনে হলো করোনাকালে অনেক উচ্চতর প্রজন্মকে হারাচ্ছি। সমাজে কমে যাচ্ছে ব্যক্তিত্ববান মানুষের সংখ্যা। ব্যারিস্টার রফিক-উল হক আয়ের বড় অংশই দান করতেন। সবাই দান করতে পারেন না, মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন না। মানুষের জন্য কাজ করার মানসিক শক্তিসম্পন্নদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। সমাজের জন্য কাজ করা মানুষের সংখ্যা এখন অনেক কম।
অর্থ বিত্ত থাকলেই হয় না। মন থাকতে হয়। রাজশাহীর একজন খুকি আপা দিনভর পত্রিকা বিক্রি করে জীবন চালান। উপার্জিত অর্থের বড় অংশই দান করেন। একজন খুকি আপা চোখে আঙুল দিয়ে আমাদের দেখিয়ে দিয়েছেন, এই জীবন ক্ষণস্থায়ী। দুই দিনের দুনিয়াতে যে কোনো অবস্থানে থেকে মানুষের পক্ষে দাঁড়ানো যায়। মানবতার পক্ষে কাজ করা যায়। অকারণে লড়াই আর প্রতিহিংসা ছড়িয়ে কোনো লাভ নেই।


ট্যাগ :

আরো সংবাদ