রোববার, ১৮ এপ্রিল ২০২১ ৫ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Bangladesh Total News

বিরামপুরে পৌর নির্বাচনে মাইকের উচ্চ শব্দে অতিষ্ঠ পৌর নগরবাসী

প্রকাশের সময় : ৬ জানুয়ারি, ২০২১ ৬:১২ : পূর্বাহ্ণ

রেজওয়ান আলী,বিরামপুর(দিনাজপুর) প্রতিনিধি-মোঃ রেজওয়ান আলী-আসন্ন বিরামপুর পৌরসভা নির্বাচনে মাইকের উচ্চ শব্দে অতিষ্ঠ পৌর নগরবাসি। আগামী ১৬ জানুয়ারি-২০২১ ইং তারিখ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে ৫২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতিদিন ৬০-৬৫- টি’র অধিক মাইক দিয়ে তাঁদের প্রচার প্রচারনা চালানো হচ্ছে। এসব মাইকের উচ্চ শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন পৌর নগরবাসী। এতে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ার সম্ভাবনায় হার্ট,ক্যান্সার সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীরা।উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে,বিরামপুর পৌরসভা নির্বাচনে ৪ জন মেয়র প্রার্থী,৩২ জন সাধারন কাউন্সিলর প্রার্থী ও ১৬ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতিদিন বেলা দুইটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত চলে মাইকিং এর প্রচারনা।আসন্ন নির্বাচনে গত ৩০শে ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে মাইকে প্রচার চলছে। ২৫.৭৫ বর্গ কিলোমিটারের এই পৌরসভায় প্রায় ৪৫ হাজার মানুষের বসবাস। ঠিক ২ টার সময় থেকেই প্রার্থীদের সর্মথকেরা মাইকিং প্রচারণার প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠেন। অনেক সময় ভিন্ন ভিন্ন প্রার্থীদের একই সড়কে অটো রিক্সায় ৭/৮ টি প্রচারণার মাইক চলে।
জনসাধারণ শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে ওই সময়টুকু দুই হাত দিয়ে কান চেপে ধরতে দেখা গেছে। আর এসব কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে পৌর এলাকার সাধারণ মানুষ। অতিমাত্রায় শব্দ দূষণে হার্ট,ক্যান্সার ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীরা রয়েছেন স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। পরিবেশ অধিদপ্তর দিনাজপুর জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়,শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা,২০০৬-এ ‘নীরব’,আবাসিক,মিশ্র বাণিজ্যিক’ও‘শিল্প’—এই পাঁচ এলাকা চিহ্নিত করে শব্দের মানমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।বিধিমালায় নীরব এলাকায় দিনে (ভোর ছয়টা থেকে রাত নয়টা) ৫০ ডেসিবেল ও রাতে (রাত নয়টা থেকে ভোর ছয়টা) ৪০ ডেসিবেল, আবাসিক এলাকায় দিনে ৫৫,রাতে ৪৫,মিশ্র এলাকায় দিনে ৬০,রাতে ৫০,বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে ৭০,রাতে ৬০ ও শিল্প এলাকায় দিনে ৭৫,রাতে হবে ৭০ ডেসিবেল। বিধিমালায় শব্দের মানমাত্রা অতিক্রম না করার শর্তে মাইক,অ্যামপ্লিফায়ার ব্যবহার করতে হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়ারও বিধান আছে।

পৌর শহরের মাইক ব্যবসায়ীরা জানান, মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীর লোকজন দেড়টার দিকে রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় মাইক বেঁধে প্রস্তুত করে রাখেন। দুইটা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু করে দেন মাইকিং।’পৌর শহরের ওষুধ ব্যবসায়ী পাভেল বলেন,‘শহরে একটির পর একটি মাইক আসতেই থাকে। এতে কান ঝালাপালা হয়ে যায়। মাইকের যন্ত্রণাদায়ক শব্দের কারণে মুঠোফোনে কথা বলাসহ কাজকর্ম করা যায় না। মাইকিংটাকে আরো সীমিত করে দেওয়া উচিত।’নাম না প্রকাশের শর্তে দু’ জন ব্যক্তি বলেন,নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থীদের মাইকিং প্রচারণার পাশাপাশি শহরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা হচ্ছে। রাতে ঘুমানো যায় না। মাথাব্যথা করে। এসব বন্ধে প্রশাসনের পদক্ষেপ প্রয়োজন। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্টসহ কঠোর নজরদারি না হলে এই উপদ্রব থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব নয়। এ বিষয়ে প্রার্থীরা বলেন,নির্বাচন ১৬ই জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। আর বেশি দিন না থাকায় তাঁরা প্রতিদিনই মাইকিং চালাচ্ছেন।জনগণের কথা চিন্তা করে নির্বাচন কমিশন মাইকিংয়ের বিষয়ে কোন নীতিমালা করলে তাঁরা মেনে নেবেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শোভন বলেন, ‘সহনীয় মাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত শব্দ মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতির কারণ। মাত্রাতিরিক্ত শব্দদূষণে শ্রবণশক্তি লোপসহ উচ্চ রক্তচাপ,মাথাধরা,খিটখিটে মেজাজ, বিরক্তি বোধ,অনিদ্রা,চোখে কম দেখা, হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যাসহ নানা রকম মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হয়।’ বিরামপুর পৌর নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারি রিটানিং কর্মকর্তা সামসুল আযম বলেন,একজন মেয়র প্রার্থীর পক্ষে প্রতিদিন নির্বাচনী এলাকায় ৩টি ও কাউন্সিলর প্রার্থীর পক্ষে ১টি করে মাইকিং করার নিয়ম রয়েছে। তবে নির্বাচনে কত ডেসিবেল শব্দে মাইক বাজানো যাবে এ বিষয়ে কোনো নীতিমালা না থাকায় প্রার্থীদের আমরা মৌখিক ভাবে উচ্চ শব্দে মাইক না বাজানোর জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। তিনি আরো বলেন,শব্দ দূষণে মানুষের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে নির্বাচনে মাইকিংয় প্রচারনা হয়তো বাদ দিতে পারে নির্বাচন কমিশন।


ট্যাগ :

আরো সংবাদ