শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১ ২রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangladesh Total News

শিরোনাম :

বোয়ালখালীর শত বছরের ঐতিহ্যবাহী শ্রীপুর বুড়া মসজিদ নির্মাণে বাজেট ২৫ কোটি টাকা

প্রকাশের সময় : ২২ ডিসেম্বর, ২০২০ ৭:৪২ : পূর্বাহ্ণ

এম মনির চৌধুরী রানা: বোয়ালখালীতে উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নে অবস্থিত শত শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী শ্রীপুর বুড়া মসজিদটি,,প্রতি জুমাবার দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মুসল্লী জুমার নামাজ আদায় করতে ছুটে আসেন এ মসজিদে। বিভিন্ন নিয়ত করে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে অসংখ্য মানুষ এখানে ছুটে আসেন…. কেউ মোমবাতি জালিয়ে, কেউ চুন লাগিয়ে, কেউ রশি বেঁধে, কেউ টাকা-পয়সা দান করে, কেউবা পশুপাখির সদকা দিয়ে মানত করেন মনোকামনা পূরণের জন্য এ মসজিদে মানত করলে তাৎক্ষনিক ফল পাওয়া যায় বলে অনেকেই বিশ্বাস করেন,,

মসজিদটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও বেশ তাৎপর্যময় যতদূর জানা যায়, মোঘল আমলে শেখ নাছির উদ্দিন নামক একজন আলেম ভারতের গৌড় থেকে অমুসলিম অধ্যুষিত এ এলাকায় এসে দ্বীন প্রচারের মাধ্যমে মানুষজনকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হতে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। প্রায় ৩শত বছর পূর্বে মোঘল আমলের শেষ দিকে তাঁর পৌত্র ওয়াসিন চৌধুরী এ মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন বলে কথিত আছে,,

ঝোঁপ-ঝাড়ের মাঝে শন পাতার বেড়া ও ছাউনি দিয়ে তৈরি এ মসজিদটিতে গায়েবী আজান শোনা যেত….. বন জংগলের বন্য পশুপাখিরাও এই মসজিদে ইবাদত করত বলে জনশ্রুতি রয়েছে,,

কালের সাক্ষী হয়ে বিভিন্ন সময় সংস্কার ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে মসজিদটি বর্তমান পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে,,ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ মসজিদটির পরিচালনায় নিযুক্ত ব্যক্তিদের অবহেলা ও অদক্ষতায় বহু বৎসর যাবত মসজিদটিতে অবকাঠামোগত কোন উন্নয়ন করা হয়নি।সংস্কার ও পরিচর্যার অভাবে বর্তমান ভবনটি অত্যন্ত জীর্ণ ও ঝাঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে, বেশ কয়েক জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে,

জুমাবারে মুসল্লীদের স্থান সঙ্কুলান কঠিন হয়ে পড়েছে। ২০০০ সালে ওয়াকফ এস্টেট হিসেবে ইসি তালিকাভুক্ত হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে মোতয়াল্লীসহ কতিপয় ব্যক্তিবর্গের যোগসাজশে মসজিদের দানবাক্সের টাকা আত্মসাত হয়।

২০১৪ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার খন্দকার নূরুল হকের উদ্যোগে দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয় এবং তৎপ্রেক্ষিতে ওয়াকফ প্রশাসন কর্তৃক উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে মসজিদের অফিসিয়াল মোতয়াল্লী নিয়োগ করা হয়।

পুরো মসজিদ কমপ্লেক্সের একটা মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। যেখানে দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক স্থাপত্য নকশায় সুউচ্চ মিনারসহ চারতলা মসজিদ ভবন ছাড়াও রয়েছে সুপ্রশস্ত প্রবেশদ্বার, ঈদগাহ, কবরস্থান, এতিমখানা ও মাদ্রাসা সম্বলিত একাডেমিক ভবন, বৃহৎ পরিসরে ওযুখানা, মহিলা ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের জন্য পৃথক এবাদতখানা, রান্নাঘর, ডাইনিং হল, কার পার্কিং, সর্বোপরি মসজিদ সংলগ্ন পুকুরটি সংস্কার করে সুদৃশ্য পুকুর ঘাট, ওয়াক ওয়েসহ অনন্য সাধারণ ল্যান্ডস্কেপ।


ট্যাগ :

আরো সংবাদ