মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২১ ১২ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangladesh Total News

বাংলাদেশ-ভারত সাত সমঝোতা স্মারক সই

প্রকাশের সময় : ১৭ ডিসেম্বর, ২০২০ ৫:৩৮ : অপরাহ্ণ

ডেস্ক রিপোর্ট: বাণিজ্য, জ্বালানি, কৃষিসহ সাত খাতে সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারত সাতটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় দুই দেশের মধ্যে এসব সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে ভার্চুয়াল বৈঠকে এসব চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন।

দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা, দুই দেশের মধ্যে হাতি সংরক্ষণ সহযোগিতা, বরিশালে একটি পয়ঃনিষ্কাশন প্ল্যান্ট তৈরি ও কমিউনিটি উন্নয়ন প্রকল্প, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সহযোগিতা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সিইও ফোরাম, বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল জাদুঘর ও ভারতের জাতীয় জাদুঘরের মধ্যে সহযোগিতা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই করে দুই দেশ।

সাতটি চুক্তির মধ্যে অন্যতম হলো, ঢাকাস্থ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর এবং ভারতের নয়াদিল্লীর জাতীয় জাদুঘরের মধ্যে সমঝোতা। সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘরের কিউরেটর সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম খান ও ভারতের জাতীয় জাদুঘরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সুব্রত নাথ।

দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শেষে ‘সীমান্ত হত্যাকাণ্ড’কে ঢাকা-দিল্লী সম্পর্কের কলঙ্ক হিসাবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত উষ্ণ, কিন্তু সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের মতো নেতিবাচক কিছু ঘটনার জন্য এটি কলঙ্কিত হচ্ছে। তিস্তা চুক্তি না হওয়া ও সীমান্তে হত্যা বন্ধ না হওয়া বাংলাদেশের মানুষকে হতাশ করে। তবে এবার কলঙ্ক ঘুচিয়ে সুন্দর সম্পর্কের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

শেখ হাসিনা-মোদি ভার্চুয়াল সম্মেলন শেষে এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিস্তা নিয়ে সব কিছু প্রস্তুত। এ বিষয়ে ভারত সবার সঙ্গে পরামর্শ করে যাচ্ছে। তারা বিশ্বাস করে রোহিঙ্গা ইস্যুরও দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত। এসময় নিরাপত্তা কাউন্সিলের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারত।

তিস্তা চুক্তি নিয়ে কথা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি আমরা তুলেছি।’ তিনি বলেন, ‘তিস্তা নিয়ে আগেই ভারতের সরকার রাজি হয়ে আছে, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা বলেছি, তিস্তা ইস্যু তুলে আপনাদের লজ্জিত করতে চাই না। তবে এটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে আমরা বাকি ছয়টি নদীর কথা জিজ্ঞাসা করেছি। তারা একলাইনে উত্তর দিয়েছেন।’ এছাড়া সিলেটে কুশিয়ারা নদীতে বাংলাদেশের খাল খনন কাজে বিএসএফের বাধা তুলে নিতেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রস্তাব দিয়েছেন বলে তিনি জানান।

ট্রানজিট নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নেপাল ও ভুটান পর্যন্ত কানেক্টিভিটি চাই এবং আজকে এটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারতীয়রা আজকে বলেছেন, তারা বাড়তি ফ্লাইট দেবে। কিন্তু আমরা বলেছি, আমাদের লোক যায় সড়ক এবং রেল দিয়ে। এগুলো আগে চলাচল শুরু করেন। তারা বলেছেন, ‘কোভিডের জন্য এটি আটকে রেখেছে।’

মন্ত্রী জানান, বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ড রোড নেটওয়ার্কে যোগ দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। কারণ এই রোড নেটওয়ার্কটি কৌশলগত কারণে গুরুত্বপূর্ণ। অপরদিকে ভারতের পক্ষে ব্রিকস (ব্রাজিল, রাশিয়া, ইন্ডিয়া, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা) নতুন যে ব্যাংকটি করেছে, সেখানে যোগ দেয়ার জন্য বাংলাদেশকে অনুরোধ করেছে।

সম্মেলন শেষে বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তি উৎসবে ঢাকা আসার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন নরেন্দ্র মোদি। এ সময় বাংলাদেশের মানুষকে বিজয়ের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি।

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রী ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক এমপি, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি, ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বদরুল আরেফীন কৃষিসচিব মেসবাহুল ইসলাম, সংস্কৃতিসচিব বদরুল আরেফীন, বাণিজ্য সচিব মোঃ জাফর উদ্দীন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মোঃ আবদুর রৌফ প্রমুখ।


ট্যাগ :

আরো সংবাদ