বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১ ১লা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

Bangladesh Total News

বিয়ে করেই জান্নাতের আয় ২০ কোটি!

প্রকাশের সময় : ১৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ২:৫৫ : অপরাহ্ণ

ডেস্ক রিপোর্ট:কানাডা প্রবাসী, শর্ট ডিভোর্সি অথচ নিঃসন্তান সুন্দরী- এমন নানা উপমা দিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় মনভোলানো বিজ্ঞাপন দিতেন। বিয়ে করে বিদেশে আরাম-আয়েশি জীবনের সেই ফাঁদে পা দিলেই হাতিয়ে নিতেন কোটি কোটি টাকা। এভাবেই সাদিয়া জান্নাত ওরফে জান্নাতুল নামের এক নারী অন্তত ২০ কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন। মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেন সিআইডির মিডিয়া কর্মকর্তা সিনিয়র এসপি জিসানুল হক।শুধু জান্নাতই নয়, এমন অভিযোগে জান্নাতের সহযোগী আরো চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন (সিআইডি)। তারা হলেন- জান্নাতের দ্বিতীয় স্বামী হাসান ওরফে জিহাদ, সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, ফিরোজ মিয়া ও তামান্না।

জিসানুল হক বলেন, এ পর্যন্ত প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ২০ কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক হয়েছেন জান্নাত। প্রথম স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করা স্বামীকে নিয়ে এই প্রতারণায় মাঠে নামেন। একজনের অভিযোগের ভিত্তিতে জান্নাত ও তার স্বামী এবং তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিনিয়র এসপি জানান, গত আগস্ট মাসে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী কানাডার নাগরিক, ডিভোর্সি সন্তানহীন, নামাজি পাত্রীর জন্য ব্যবসার দায়িত্ব নিতে আগ্রহী বয়স্ক পাত্র চেয়ে একটি বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। আগ্রহীদের একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে বারিধারার একটি বাড়িতে যোগাযোগ করতে বলেন। সিআইডির কাছে অভিযোগ দেয়া ভুক্তভোগী নাজির হোসেন ওই বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করেন। গুলশানের একটি রেস্টুরেন্টে দেখা করে ভুক্তভোগী দেড় লাখ টাকা ও পাসপোর্ট জান্নাতের হাতে তুলে দেন।জান্নাত নিজেই পাত্রী বলে জানান নাজির হোসেনকে। কানাডায় দশ কোটি টাকার ব্যবসা আছে। কিন্তু বর্তমানে কানাডায় অনেক শীত থাকায় নাজির হোসেনকে নেয়া যাচ্ছে না। দেশে ব্যবসার জন্য কানাডা থেকে টাকা আনার কথা বলে ট্যাক্স, ভ্যাট, ডিএইচএল বিল ইত্যাদি খরচের জন্য এক কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। এরপর জান্নাত মোবাইল বন্ধ করে দেন এবং নাজিরের সঙ্গে যোগাযোগও বন্ধ করে দেন। পরে ভুক্তভোগী নাজির হোসেন এ বিষয়ে সিআইডিতে অভিযোগ করেন।এভাবেই অন্য একজন ভুক্তভোগীর সাথে দেখা করতে যাওয়ার সময় জান্নাতকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। পরে জান্নাতের কাছ থেকে তিনজন ভুক্তভোগীর পাসপোর্ট, ১০টি মোবাইল ফোন, তিনটি মেমোরি কার্ড, সাতটি সিল, অসংখ্য সিম, প্রতারণার শিকার হওয়া ভুক্তভোগীদের হিসাবের খাতা ও ব্যাংক এশিয়ায় ৪৮ লাখ টাকা জমা দেয়ার স্লিপ উদ্ধার করা হয়।সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, উদ্ধার করা খাতায় বিগত দিনের প্রতারণার হিসাব ও ভুক্তভোগীদের নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়। জান্নাতের নেতৃত্বে এই চক্রটি গত ১০ বছর ধরে এমন প্রতারণা করে আসছেন। এখন পর্যন্ত সিআইডি তাদের ২০ কোটি টাকার সম্পত্তির সন্ধান পেয়েছে।

 


ট্যাগ :

আরো সংবাদ